আজ সোমবার,২৩শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং,১০ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৩:১৩
  • “টিম অন্বেষণ উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার শীর্ষক ক্যাম্পেইন “
  • ঠাকুরগাঁওয়ের প্রয়াত যুবলীগ নেতার কন্যার দায়িত্ব নিলেন আর ডি আর এস সংস্থা
  • জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে লিফটনের পথেই হাটছেন বাশার!
  • গোয়াইনঘাটে চাচাতো ভাইয়ের হাতে ভাই খুন
  • কুয়েতে হৃদরোগে প্রাণ গেলো ১ বাংলাদেশী শ্রমিকের মৃত্যু
  • কলাপাড়ায় কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
  • বরিশাল লাকুটিয়া বীজ খামারে ইকবালের অর্ধকোটি টাকার দূর্নীতি ফাঁস-৩বছরে ৩০লক্ষ টাকা সরকারী সম্পদ লুট

কুয়াকাটার নতুন দিগন্ত “চর বিজয়”

আল এহসান সিয়াম কলাপাড়া (কুয়াকাটা) প্রতিনিধি:কুয়াকাটার অপার সম্ভাবনাময় গভীর সমুদ্রে জেগে ওঠা চর বিজয় (হাইরের চর)। লাল কাঁকড়া আর লক্ষ লক্ষ অতিথি পাখির বিচারণে আকাশ আর চর মিলে একাকার হয়ে থাকে সর্বময়। চারদিকে শুধু পানি আর পানি, মাঝখানে সৃষ্টিকর্তার অপূর্ব সৃষ্টি একটি দ্বীপ।যেন সমুদ্রে সৌন্দর্যের জৌলস বয়ে চলছে। যা কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের ভ্রমনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

কুয়াকাটা থেকে পূর্বকোণ গঙ্গামতি দিয়ে প্রায় ৩০ কিলো দক্ষিণে অবস্থিত “বিজয় চর”নামে এ দ্বীপ। দ্বীপটির আয়তন হবে আনুমানিক ৫ হাজার একর। । দুর থেকে প্রত্যেক ভ্রমন পিপাসুর পর্যটকদের নজর কাড়বে দ্বীপটি।

এ দৃষ্টি নন্দিত চর বিজয়ের চার পাশে ক্ষুর্ধাত জেলেরা মাছ শিকার করছে। জেলেরা তিন মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে বাসা দিয়ে অবস্থান করে থাকে। মাছ শিকার করে বিক্রী বা শুটকি করছে অনেক। স্থানীয় মাছ ধরা জেলেরা হাইরের চর বলে জানে।

কুয়াকাটার সী ট্যুরিজমের উদ্যোগে ট্যুরিস্ট বোট নিয়ে গত কয়েক দিন আগে নতুনের সন্ধানে ঢাকার পর্যটক আর স্থানীয় কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকের একটি টিম বের হলে দেখা মিলে যায় এ চরটির। বিজয়ে মাসকে কেন্দ্র করে ওই ট্যুর প্রেমিকরা দ্বীপটিকে চর বিজয় নামে আখ্যায়িত করেন

দৃষ্টি নন্দিত চর বিজয় ঘুরে দেখতে যাওয়া কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান বলেন- আমার প্রথম দেখাতে চর বিজয়ে মুগ্ধ আমি। অজানা অচেনা লক্ষ লক্ষ পাখির কলরব আর লাল কাকড়ার বিচারণে আকড়ে আছে বিশাল এ চরটিতে। এসব দৃশ্য দেখে দেশী বিদেশী পর্যটকের আকৃষ্ট করবে। তাই এই চর বিজয়কে পর্যটনের আওতাভূক্ত করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই। সঠিক পরিচর্যা ও সুন্দর যাতায়াত ব্যবস্থাই পারে চর বিজয়কে সবার মাঝে পরিচয় করিয়ে দিতে। পাশাপাশি কুয়াকাটা ভ্রমনেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বর্ষার ছয় মাস এ চরটি ডুবে থাকে আবার শীতের মৌশুমে ধু ধু বালুর চরে জেগে উঠে। যেন প্রকৃতি নিপুন হাতে আবিস্কার করেছে চরটি। ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সারা মিলছে। মাত্র দেড় ঘন্টায় পৌছনো গভীর সমুদ্রের এরকম চর জেগে উঠায় কুয়াকাটায় আর একটি দর্শনীয় স্পটের মাত্রা যোগ হলো বলে মন্তব্য করছেন সেখানে যাওয়া ট্যুর অপারেটরা।

চরটি ঘুরে কুয়াকাটায় ফিরে আসা ঢাকা বনশ্রীর দম্পত্তি সীমা আক্তার (৩৪) বলেন, আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্যুর করছি। কিন্তু কুয়াকাটার সমুদ্রে মধ্যে এত সুন্দর একটি দৃশ্য দেখব কল্পনা করেনি। কিযে ভাল লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিনা। যেন এক অন্য ভুবন। চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না আমাদের দেশে এরকম একটি চর জেগে উঠছে, এটি কুয়াকাটার জন্য আর্শিবাদ।

ট্যুর প্রেমিক কুয়াকাটা সী ট্যুরিজমের এ্যডমিন ও ডেইলি স্টারের ফটো সাংবাদিক আরিফুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করাই আমার কাজ এবং সে গুলোকে প্রচার করা দায়িত্ব হয়ে দাড়ায়। আজ ঘুরতে এসে যা পেলাম এ চর বিজয় স্পট পর্যটকদের কাছে শুধু কুয়াকাটা নয় গোটা দক্ষিণাঞ্চলের ট্যুরিজমের জন্য রোল মডেল হয়ে দূাঁড়াবে।

কুয়াকাটা সী ট্যুরিজমের এ্যাডমিন ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমবয় সমিতিন লিঃ‘র সভাপতি জনি আলমগীর বলেন, আমাদের সমুদ্রের মধ্যে এত সুন্দর একটি চর জেগে আছে তা আগে জানতাম না। এটাকে এখন শুধু সরকারি বেসরকারি ভাবে আমাদের ব্রাডিং করে বিশ্বের কছে পৌঁছে দিতে হবে। তবেই কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পে বিকাশ ঘটবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এ ব্যপারে কুয়াকাটা পৌর মেয়র আঃ বারেক মোল্লা বলেন, চরটির কথা শুনেছি অনেক সুন্দর। আমিও কিছু দিনের মধ্যেই ঐ চর বিজয় পরির্দশনে যাব।


samakalnews24.com এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য,পর্যটন বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ