আজ শনিবার,২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং,৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৩:১১
  • মাঝ বয়সী নারীদের প্রতি যুবকরা কেন আকৃষ্ট হয়?
  • বিয়ের আগে যেসব পরীক্ষা করা জরুরী
  • বেনাপোল ঘিবা সীমান্তে পিস্তল,গুলি, ম্যাগাজিন ও গাঁজাসহ আটক-১
  • টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রখর রোদে দাঁড় করিয়ে মানব বন্ধনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
  • বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন ঠাকুরগাঁও পৌরসভা
  • সরে দাঁড়িয়েছেন বুবলী, শাকিবের চাই নতুন নায়িকা!
  • ফিচার লেখক সম্মেলন ২০১৮ সম্পন্ন

পর্দার আড়ালে কী খেলা চলছে?

অনলাইন ডেস্কঃ একসময় রাজনীতি ছিল প্রকাশ্যে, খোলামেলা। সমঝোতা, সংলাপ, আলোচনা এসব হতো প্রকাশ্যে। সমঝোতার নাটাই ছিল রাজনীতিবিদদের হাতে। কিন্তু এখন প্রকাশ্যে হয় শুধু খিস্তি খেউর আর অপ্রয়োজনীয় বক্তৃতা, বিবৃতি। সমঝোতা হয় গোপনে, লোক চক্ষুর আড়ালে। সমঝোতার নাটাইও এখন রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। শুধু নেই বললে কম বলা হবে, সমঝোতার কোনো ভূমিকাই নেই রাজনীতিবিদদের।

এরশাদের আমলে এরশাদের সঙ্গে সংলাপ। ১৫ দল আর সাত দলের সংলাপ। শেখ হাসিনা বেগম জিয়ার একান্ত বৈঠক ইত্যাদি ছিল প্রকাশ্য। তিন জোটের লিয়াঁজো কমিটির বৈঠকের সামনে গণমাধ্যম কর্মীরা বসে থাকতেন। শেখ হাসিনা-খালেদা জিয়ার বৈঠকে কে কী পড়লেন, কীভাবে কার দিকে তাকালেন- তার আদ্যোপান্ত উঠে আসতো পত্রিকার পাতায়।

প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংলাপের শেষ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল ২০০৬ সালে। বিএনপির মহাসচিব প্রয়াত আবদুল মান্নান ভুইঞা এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আবদুল জলিলের মধ্যে। দুজন সংসদ ভবনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হতেন। চা-নাস্তা খেয়ে বেরিয়ে এসে বলতেন, ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে, খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। আমরা কাছাকাছি এসেছি।’

এরপর এলো ওয়ান-ইলেভেন। সমঝোতা-সংলাপের ধরনও পাল্টে গেলো। কি হচ্ছে না হচ্ছে- তা পর্দায় ঢেকে দেওয়া হলো। ওয়ান-ইলেভেন সরকার বিদায় নেওয়ার পর জানা যায়, যে সময় নির্বাচন, দুই নেত্রীর মুক্তি ইত্যাদি নিয়ে ধারাবাহিক সংলাপ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক বক্তৃতায় বলেছেন, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সাব জেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করে, তাঁকে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে, বিদেশ যেতে বলেছে। আওয়ামী লীগের কোনো নেতা কি বলেছেন, সে সম্পর্কে কথোপকথনের অডিও টেপ বাজিয়ে শোনানো হয়েছে। একই ঘটনা ঘটেছে বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও। পর্দার আড়ালের ওই সমঝোতা গণমাধ্যমে আসেনি।

ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকেই পর্দার আড়ালের রাজনৈতিক সমঝোতা চেষ্টাগুলোর খবরই আর গণমাধ্যমে আসে না। বিচারপতিদের বঙ্গভবনে ডেকে নিয়ে যাওয়া কিংবা ওয়াহাব মিয়ার নেতৃত্বে বিচারপতিবৃন্দের সঙ্গে তৎকালীন প্রধান বিচারপতিদের সংলাপ এসব কোন খবরই গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেনি।

এখন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বন্দী হওয়ার পর দুই দলের নেতারাই অসংলগ্ন কথার ফোয়ারা ছোটাচ্ছেন। কেউ বলছেন, ‘বিএনপির সঙ্গে কোনো সমঝোতা নয়, কীসের সংলাপ। কেউ বলছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্বাচনে খেলতে চাই।’ অন্যদিকে বিএনপি বলছে, ‘নিরপেক্ষ সরকার দিতে সরকার বাধ্য হবে।’

কিন্তু সাধারণ বুদ্ধি জ্ঞান সম্পন্ন মানুষও জানেন, এসব কথা মূল্যহীন। দুই দলের অধিকাংশ নেতাই জানেন না কি হচ্ছে, রাজনীতির গতিপথ কোন দিকে। কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত ছাড়া জেলে বিএনপির আট নেতা কীভাবে বেগম জিয়ার সঙ্গে সোয়া ঘন্টার বৈঠক করেন? সমঝোতা ছাড়া বিএনপির এত নরম সুর কেন? – এসব প্রশ্নের উওর একটি পর্দার আড়ালে সমঝোতা। রাজনীতি যেমন এখন রাজনীতিবিদের দখলে নেই । তেমনি, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এখন রাজনীতির বৈঠকে হয় না। হয় অন্যভাবে, অন্য কোথাও। তারাই নির্ধারণ করে সমঝোতার গতিপথ। তাই যা হয়েছে, যা হচ্ছে, যা হবে – তা সবই হবে পর্দার আড়ালে। আমরা শুধু দেখব দৃশ্যমান ঘটনা।


samakalnews24.com এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ