আজ শুক্রবার,১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং,৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৬:৪২
  • এবার তাহেরপুরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার উৎপত্তিস্থলে মানুষের ঢল
  • কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ২৩৭ মন্ডপে শারদীয়া দূর্গা পূজার উৎসব।
  • বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গুনছেন সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
  • গোদাগাড়ীতে মাচায় তরমুজ চাষ,পাওয়া যাচ্ছে বারমাস
  • উদ্ধার হওয়া সালামের সাথে দেখা করলেন আ’লীগের নেতৃবৃন্দ
  • জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারা যান খাশোগি
  • প্রকাশ্যে পিস্তল হাতে এমপিপুত্রের কাণ্ড!

প্রশাসনেই আস্থা সরকারের মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ

যেভাবে আন্দোলন মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ

awamiligue

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সরকারবিরোধী আন্দোলন মোকাবেলায় প্রশাসনেই আস্থা রাখছে আওয়ামী লীগ সরকার। বিরোধী নেতাকর্মীদের দমনে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করে রেখেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। তারই অংশ হিসেবে বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলাগুলো সক্রিয় করা হচ্ছে। সাথে যোগ করা হচ্ছে আরো নতুন নতুন ‘ভৌতিক ও আজগুবি’ মামলা। তবে র্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদেরও মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। বিরোধীদের প্রশাসনিকভাবে দমনের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগ ও সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, সরকারের এ মেয়াদে হামলা, মামলা ও দমন পীড়নের মুখে সরকারবিরোধী বিএনপি জোট বড় ধরনের কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। সরকারের মারমুখী অবস্থানের কারণে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড এবং চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জেল ও কারাবরণের পরও আন্দোলন করতে পারেনি সরকারবিরোধীরা। তবে এটিকে বিএনপির এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে মনে করছে আওয়ামী লীগ। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বিএনপি জোট এখন সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।

তারা যে কোনো সময় আন্দোলনে নেমে পড়তে পারে বলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা তথ্য দিচ্ছে। এ ছাড়া বিএনপির নীতিনির্ধারকেরাও সরকারবিরোধী ‘অলআউট’ আন্দোলনের হুমকি ও প্রস্তুতির কথা বলছেন। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন এবং তফসিল ঘোষণার পরপরই তারা পুরোদমে মাঠে নেমে পড়তে পারে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য সেই আন্দোলন মোকাবেলায় সরকারও একাধিক কৌশল নিয়ে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনকে পুরোপুরি ব্যবহার করতে চান নীতিনির্ধারকরা। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বিরোধীদের দমনে নানা ছক তৈরি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সরকার ও প্রশাসনের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে ও পরে দেশের সম্ভাব্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সর্বশক্তি কাজে লাগানো হবে। বিশেষ করে তফসিলের আগেই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি জেলা ও স্থানীয় নেতাদেরও বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হতে পারে। বিশেষ বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে একাধিক গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে। এরপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পুলিশের পাশাপাশি সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন করে বিশেষ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতিও সরকারের আছে।

দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব কিছুই করবে সরকার। নাশকতা না থামলে কঠোরতার মাত্রাও বাড়বে। ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করে সেই সব নির্দেশনা দিতে শুরু করেছেন। প্রশাসনের এমন তৎপরতার পাশাপাশি রাজনৈতিক নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠ দখলে রাখার চেষ্টা করবে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল শুক্রবার বলেছেন, ‘আবারো বিএনপির ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ২০১৪ সালের মতো বোমা সন্ত্রাস করার জন্য বিএনপি ছক আঁকছে। তবে এটা ২০১৪ সাল নয়, ২০১৮ সাল, এমন ছক প্রতিহত করা হবে।’

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি জোটের সম্ভাব্য আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে দেশব্যাপী সহিংসতা ও নাশকতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনকালীন সরকারের সময় সরকারবিরোধীরা সহিংসতা শুরু করতে পারে বলে সরকারের কাছে নানা ধরনের তথ্য রয়েছে। আর নির্বাচনকালীন সরকারের কারণে ওই সময় প্রশাসনের ওপর সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণও খানিকটা ঢিলে হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সে জন্য তফসিলের পর বড় ধরনের কোনো আন্দোলন যাতে তৈরি না হতে পারে তার আগেই বিরোধীদের দমনের চিন্তা করছে সরকার।

এ জন্য শুরুতেই প্রশাসনকে কাজে লাগাতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে সারা দেশে দায়ের হওয়া জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর ও নাশকতার মামলাগুলো সচল করা হচ্ছে। এসব মামলায় গ্রেফতার করা হবে বিরোধীদের। এসব মামলার সাথে যোগ হবে নতুন নতুন মামলা। গত রোববার রাতে ও সোমবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় ও বিভিন্নপর্যায়ের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় দু’টি মামলা করে পুলিশ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, পুলিশের কাজে বাধা প্রদান এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। বিএনপি দাবি করেছে, ওই দিনের সমাবেশকে কেন্দ্র করে তাদের ২ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের অনেককে হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত এক মাসে সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় চার হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। এসব মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল, মহিলাদলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রায় সাড়ে তিন লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। বিরোধী নেতাকর্মীদের চাপে রাখার জন্যই এসব মামলা করে রাখা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রগুলো আরো জানায়, বিএনপি জোটের সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবেলায় নির্বাচনী তফসিলের আগেই বিশেষ বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে একাধিক অভিযান পরিচালনা হতে পারে। অভিযানে আটককৃতদের নতুন ও পুরনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। এর মাধ্যমে তফসিলের পর বড় আন্দোলন তৈরিতে বিএনপি জোট ব্যর্থ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিএনপিকে সভা-সমাবেশের সীমিত সুযোগ দেয়া হলেও সেসব কর্মসূচি সামনে রেখেও ধরপাকড় অব্যাহত থাকবে। গত রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত বিএনপির সমাবেশ থেকে অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সমাবেশকে সামনে রেখে সারা দেশেই ধরপাকড় করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আন্দোলন দমনে জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত এ ধারা চালু রাখা হতে পারে।

প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) সদর দফতরে ডেকে ব্রিফ করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কাগজে-কলমে নানা ছক তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগামী ১০ অক্টোবর বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। এ রায়কে কেন্দ্র করে আগে বা পরে বিএনপি নেতাকর্মীরা সারা দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। সে জন্য রায়ের আগে আরেক দফা গ্রেফতার অভিযান চালানো হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দু’জন নেতা বলেন, ‘রায়ের পর বিএনপি মাঠে নামলে আমরাও যদি পাল্টা হিসেবে মাঠে নামি অথবা তাদেরকে প্রতিরোধ করি তবে তা রাজনৈতিক পর্যায়ে চলে যাবে। যার ফল বিএনপির ঘরে যাবে। কিন্তু আমরা তা হতে দেবো না। রায় দেবেন আদালত। আর রায়ের বিরুদ্ধে কিছু করলে দেখবে প্রশাসন। সেখানে আমাদের না জড়ানোই ভালো। সে জন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের শুধু সতর্ক থাকতে বলা হবে। এটাই আমাদের কৌশল।’

সূত্রঃ নয়াদিগন্ত অনলাইন


Leave a Reply

samakalnews24.com এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

রাজনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ