আজ শুক্রবার,১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং,৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৭:০৪
  • এবার তাহেরপুরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার উৎপত্তিস্থলে মানুষের ঢল
  • কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ২৩৭ মন্ডপে শারদীয়া দূর্গা পূজার উৎসব।
  • বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গুনছেন সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
  • গোদাগাড়ীতে মাচায় তরমুজ চাষ,পাওয়া যাচ্ছে বারমাস
  • উদ্ধার হওয়া সালামের সাথে দেখা করলেন আ’লীগের নেতৃবৃন্দ
  • জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারা যান খাশোগি
  • প্রকাশ্যে পিস্তল হাতে এমপিপুত্রের কাণ্ড!

যেভাবে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের অংশ হলো

অনলাইন ডেস্কঃ বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ অন্যতম। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে নাফ নদীর মোহনায় এ দ্বীপটি অবস্থিত। সম্প্রতি মিয়ানমার সরকার তাদের একটি জনসংখ্যাবিষয়ক মানচিত্রে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে তাদের দেশের অংশ দেখিয়েছে বলে বাংলাদেশ সরকার অভিযোগ তুলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশের তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। এরপর থেকেই সেন্ট মার্টিন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এমন বাস্তবতায় দ্বীপটি সম্বন্ধে বিভিন্ন তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করেছে বিবিসি বাংলা।

কীভাবে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হলো?

সেন্ট মার্টিন দ্বীপটি ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’ হিসেবে পরিচিত। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে এ নামটি অনেক আগে থেকেই পরিচিত পেয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শেখ বখতিয়ার উদ্দিন ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মোস্তফা কামাল পাশা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে গবেষণা করেছেন।

অধ্যাপক বখতিয়ার বলেন, ‘প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে টেকনাফের মূল ভূমির অংশ ছিল জায়গাটি। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি সমুদ্রের নিচে চলে যায়।’

‘এরপর প্রায় ৪৫০ বছর আগে বর্তমান সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ পাড়া জেগে ওঠে। এর ১০০ বছর পর উত্তর পাড়া এবং পরবর্তী ১০০ বছরের মধ্যে বাকি অংশ জেগে উঠে।’

গবেষক মোস্তফা কামাল পাশা জানান, ২৫০ বছর আগে আরব বণিকদের নজরে আসে এ দ্বীপটি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের সময় আরব বণিকরা এ দ্বীপটিতে আরব বণিকরা বিশ্রাম নিত। তখন তারা এ দ্বীপের নামকরণ করেছিল ‘জাজিরা’, পরবর্তী সময়ে যা নারিকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত হয়।

অধ্যাপক বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ‘প্রায় ৩৩ হাজার বছর আগে সে এলাকায় প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। বিভিন্ন কার্বন ডেটিংয়ে এর প্রমাণ মিলেছে।’

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০০ সালে ভূমি জরিপের সময় এ দ্বীপটিকে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হয়।যদিও সে সময়টিতে বার্মা (মিয়ানমার) ব্রিটিশ শাসনের আওতায় ছিল। কিন্তু তারপরও সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে বার্মার অন্তর্ভুক্ত না করে ব্রিটিশ-ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে জানান অধ্যাপক মোস্তফা কামাল পাশা।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, খ্রিস্টান সন্ত মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়। তবে অধ্যাপক বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ‘দ্বীপটিকে যখন ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তখন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়।’

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ১৮৯০ সালে কিছু মৎস্যজীবী এ দ্বীপে বসতি স্থাপন করে। এদের মধ্যে কিছু বাঙালি এবং কিছু রাখাইন সম্প্রদায়ের লোক ছিল। ধীরে ধীরে এটি বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা হয়ে ওঠে।

কালক্রমে এ দ্বীপটি হয়ে উঠে বাংলাদেশের পর্যটনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি। গবেষকরা বলছেন, বর্তমানে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রায় দেড় লাখ নারিকেল গাছ আছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা


Leave a Reply

samakalnews24.com এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ