আজ মঙ্গলবার,২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং,৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১১:৫৪
  • মহালছড়ি জোনে মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’র ৪৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী
  • খাগড়াছড়িতে বৌদ্ধ বিহার ও মুর্তি ভাংচুর, প্রতিবাদে বিক্ষোভ
  • বাকেরগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর জেলেদের হামলা
  • পূর্নতা পেতে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের স্মৃতি সৌধটি
  • ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন পার্লামেন্টে অভিবাসন সংক্রান্ত কনফারেন্সে বাংলাদেশীদের অংশগ্রহন
  • ঠাকুরগাঁওয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ: আটক ১
  • ঠাকুরগাঁওয়ে কলেজছাত্রীকে মারপিটের অভিযোগ

রাজশাহীতে খাস জলাশয় প্রভাবশালীদের দখলে

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে সরকারি খাস খাল, খাড়ি, পুকুর ও দীঘিসহ হাজার হাজার জলাশয় রয়েছে প্রভাবশালীদের দখলে। সরকারি বিধান অনুযায়ী এসব সরকারি সম্পদ মাছ চাষের জন্য প্রকৃত মৎস্যজীবীদের ইজারা দেয়ার কথা।

কিন্তু ইজারার শর্ত অনুযায়ী সমবায় ও সমাজসেবা দপ্তর থেকে নিবন্ধন পাওয়া মৎস্যজীবী সমিতি দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। এই দরপত্রে অংশ নিতে তাই জেলাজুড়ে সমিতি গড়ার হিড়িক পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে রাতারাতি গজিয়ে উঠছে মৎস্য সমবায় সমিতি।

এফিডেভিট করে বলা হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুলবশত ভিন্ন পেশা লেখা হয়েছে। রাজশাহীর পবা উপজেলায় ৭৩৯.১০ একর, তানোরে ৬৪৩.৮৫, মোহনপুরে ২১২.২৭, পুঠিয়ায় ৩১৮.৮৪, দুর্গাপুরে ৫৪০.৫১, চারঘাটে ৩৪৫.৬৪, বাঘায় ১১৮৬.০১,গোদাগাড়ীতে ২৫৭৮.৯১৯৭ ও বাগমারায় রয়েছে ৫৭৭.০৭ একর।

বিগত ১০ বছর ধরে প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে এসব খাস জলাশয়। এতে করে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্বখাত। অন্যদিকে পকেট ভরছে ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীদের। আর এসব খাস পুকুর উদ্ধারে তেমন কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।

এমনকি কে কিভাবে পুকুরগুলো দখলে নিয়েছেন সেটাও অজানা ভূমি অফিসের কর্মচারিরা। বাগমারার ভূমি ও মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৮৪৯টি খাস পুকুর ও ১৫টি বিল রয়েছে। এর মধ্যে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত ২৬০টি পুকুর উপজেলা ভূমি অফিস এবং খাসগুলো বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কয়েক বছর ধরে ইজারা দিয়ে আসছিল।

অথচ সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে সংশিষ্ট মন্ত্রণালয় নীতিমালায় বলা রয়েছে, প্রতিটি মৎস্যজীবী সমিতিকে সর্বোচ্চ দুটি করে জলমহাল ইজারা দেয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে উপজেলায় মৎস্যজীবী সমিতির সংখ্যা ২৪টি। এর মধ্যে কয়েকটি সমিতি আগেই একাধিক পুকুর পেয়েছে।

আর বাকিগুলো দখল করে রেখেছে প্রভাবশালী মহল বলে এলাকায় ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। তারা দৌড় ঝাঁপ করে রাজনৈতিক প্রভাবে সহজে পেয়ে যাচ্ছে সমিতির নিবন্ধন। প্রকৃত মৎস্যজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন যাদের কেউ মৎস্যজীবী ছিল না, জাল হাত দিয়ে নেড়েও দেখেনি।

জাল কিভাবে ফেলতে হয় তাও জানে না। এখন তারা বড় মৎস্যজীবী হয়ে গেছে। এ দিকে গোদাগাড়িতে সাড়ে তিন হাজার খাস পুকুর-দিঘী রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজারের বেশি পুকুর-দিঘী প্রভাবশালী মহল জাল কাগজপত্র করে আদালতে মামলা করে ইজারা আটকে রেখে ভোগ দখল করছে।

এসব পুকুর-দিঘী ক্ষমতাসীন দলের লোকজন মৎস্যজীবীদের কাছে বছরওয়ারী চুক্তিতে লিজ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অংকের টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, সরকারি খাস পুকুর-দিঘী- জলাশয় ইজারা দেবার জন্য সরকারী নীতিমালা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের লোকজন সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে বলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করেন।

পুঠিয়ায় প্রায় দেড়শ পুকুর-দিঘী দুচারটি বাদে সবগুলো রয়েছে অবৈধ দখলে। এসব খাস দিঘী-পুকুর প্রভাবশালীরা দখল করে ইজারা দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব প্রভাবশালীদের কাছে প্রশাসন অসহায়। জানা গেছে, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ১৩৩ টি খাসপুকুরের মধ্যে মাত্র ১১ টি লিজ দেওয়া হয়েছে।

বাকি ১২৪ টি পুকুর বিনা লিজে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেত কর্মীরা জোরপূর্বক দখল করে মাছচাষ করছেন। বিগত বছরগুলোতে এসব পুকুরে প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকায় লিজ দেয়া হলেও বর্তমানে লিজ ছাড়ায় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের দখলে থাকায় সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউপি আ’লীগ সভাপতি ঐ সময়ের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ তার এলাকা সংলগ্ন বিশাল বিশাল দীঘি নিজের আয়ত্বে রাখতে উচ্চ আদালতে ২০১০ সালের দিকে একটি ও ২০১২ সালের দিকে আরেকটি অর্থাৎ পরপর দুটি রিট আবেদন করেন।

এ রিট আবেদনের কারণে ভূমি অফিস থেকে পুকুরগুলো চলে যায় প্রভাবশালী ক্ষমতাসীনদের হাতে। অবশ্য ২০১০ সালের আগে থেকেই খাস পুকুরগুলো প্রভাবশালীদের দখলে ছিল। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কোন ধরনের নিলাম দিতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। এসেছে বর্ষা মৌসুম পুকুরগুলোতে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে চাষাবাদ করা সম্ভব।

কিন্তু ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীরা পুকুরগুলো এমন ভাবে দখলে নিয়ে রেখেছেন দেখে মনে হবে নিজের পৈত্তিক পুকুর। ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১০ ও ২০১২ সালে রিটের আগ থেকেই প্রভাবশালীরা দখলে নেয় পুকুরগুলো।

ভূমি কর্তৃপক্ষের হিসেব অনুযায়ী ৮৩৭টি খাস পুকুরে বছরে নিম্নে হলেও ৫ কোটি টাকা রাজস্ব আসতো। হিসেব করলে দেখা যায়, ১০ বছরে ৩৫ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। এটা ভূমি অফিসের আগের হিসাব। একাধিক মৎস্যচাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ছোট পুকুর এক লাখের নিচে পাওয়া দুরহ ব্যাপার।

৮৩৭ পুকুরে বছরে নিম্নে ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা আসবে বলে ধারণা তাদের। সরকার কোটি কোটি টাকার হারিয়েছে রাজস্ব। আর পকেট ভরেছে উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের। খাস পুকুর দখল নিয়ে মারপিট মামলা হামলা একাধিক।

কৃষকেরা জানায়, এখন বর্ষা মৌসুম চলছে পুকুরগুলো খরা মৌসুমে পুনঃখনন করা হলে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যেত। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব উপজেলায়। কারণ বরেন্দ্র এলাকা খরতাপ হয় ব্যাপক হারে। পুকুরগুলোতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করলে হাজার হাজার একর জমিতে হবে চাষাবাদ।

কিন্তু কর্তৃপক্ষ খাস পুকুরের ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। সরকারের খাস পুকুর রিট করেন আ’লীগ নেতা ঐ সময়ের বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। বাধাইড় ইউপি এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান,আবুল কালাম আজাদ কয়েকটি বিশাল বিশাল দীঘি নিজের আয়ত্বে রাখতে করেন রিট।

এখনো দীঘিগুলো রয়েছে তার। আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় সরকারি খাস পুকুর আপনি কিভাবে রিট করেন। তিনি জানান, আমার বাড়ির আশপাশে কয়েকটি দীঘি। দীঘিগুলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার লোকজন বা এলাকার কিছু ব্যক্তিরা নেবার জন্যে চেষ্টা চালাই এজন্যে আমি রিট আবেদন করি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার শওকাত আলী বলেন, রিট নিষ্পত্তির জন্যে মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে আসা করছি দ্রুত সমাধান হবে এবং পুনরায় খাস পুকুরগুলো নিলাম দিতে পারব বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য সরকারি খাসখাল,খাড়ি,পুকুর ও দীঘি পবা উপজেলায় ৭৩৯.১০ একর,মোহনপুরে ২১২.২৭, দুর্গাপুরে ৫৪০.৫১, চারঘাটে ৩৪৫.৬৪, এবং বাঘায় ১১৮৬.০১, একর রয়েছে।

image_print

Leave a Reply

samakalnews24.com এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

অর্থনীতি-ব্যবসা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ