আজ সোমবার,২৩শে জুলাই, ২০১৮ ইং,৮ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১২:০৬
  • সোনাগাজীতে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন
  • খুলনার আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান মিহিরের বিরুদ্ধে বাড়ি দখল ও মারধরের অভিযোগে আদালতে মামলা
  • জনসেবাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য: ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এডভোকেট এ.কে.এম মুরতাজা আবেদীন
  • হারানো বিজ্ঞপ্তি
  • ১২০ নারীকে ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ, মন্দিরের পুরোহিত গ্রেফতার
  • আসন্ন বিসিসি নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর প্রার্থীদের চলছে সর্বোচ্চ প্রচারনা
  • মরণ নেশা ইয়াবার ছোবলে বাকেরগঞ্জে ঘরে ঘরে অসান্তি

রাজশাহীর হাট-বাজারে চিনি মেশানো ভেজাল গুড়ে সয়লাব

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
চিনি মেশানো ভেজাল খেজুর গুড়ে সয়লাব রাজশাহীর হাটবাজার। ব্যাপকহারে চিনি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল খেজুরের গুড়। এক শ্রেণির অসাধু গুড় উৎপাদনকারীরা সুস্বাদু গুড়ের ব্যাপক চাহিদাকে পুঁজি করে খেজুর রসের সাথে চিনি মিশিয়ে ভেজাল খেজুর গুড় তৈরি করে তা অবাধে বাজারজাত করছে। এসব চিনি মেশানো ভেজাল গুড় এখন জেলার হাটবাজারে সয়লাব হয়ে গেছে। এ গুড় যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র এলাকায়। জেলার পুঠিয়া, বাগমারা,দুর্গাপুর, চারঘাট, বাঘা ৫টি উপজেলায় উৎপাদিত হয় সুমিষ্ট খেজুর গুড়। তবে শীত মৌসুমের শুরু থেকেই জেলার বিভিন্ন হাট বাজার গুলোতে উঠতে শুরু করে খেজুর গুড়। এক শ্রেণীর অর্থলোভী চাষীরা খেজুর রসের সাথে চিনি মিশিয়ে গুড় তৈরী করে বাজারজাত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা সিভিল সার্জন অফিস বলেছেন, খেজুর রসের সাথে চিনি মিশ্রিত করে আগুনের মাধ্যমে জাল করে একত্রিত করলে সেটি বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। আর এই চিনি মিশ্রিত ভেজাল গুড় দিয়ে কোন খাদ্য দ্রব্য তৈরী করে খেলে পীড়া জনিত নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ওই গুড় দিয়ে শিশুদের জন্য কোন খাদ্য তৈরী করে খাওয়ালে লিভার ক্যন্সারের মতো ভয়াবহ জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। আর এই গুড় ছড়িয়ে যাচ্ছে রাজধানী সহ দেশের সর্বত্র। শীত শুরুতেই নবান্নের আমেজ এখন শহর থেকে গ্রাম গঞ্জের প্রতিটি বাসা বাড়ীতে। চলছে নতুন ধানের আটায় (ময়দা) পিঠা পুলির উৎসব। আর পিটা বানাতে না জেনেই ক্রেতারা কিনছেন চিনি মিশ্রিত ভেজাল গুড়। ভেজাল গুড় সনাক্তের মাধ্যমে দোষীব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বাজার মনিটরিং কমিটির কাছে জোরদাবী জানিয়েছেন জেলার সচেতন মহল। এদিকে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, চিনি মিশ্রত গুড় খেলে পেটের পীড়া সহ নানা জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবিষয়ে চারঘাটের বাজার গুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গুড়ের চেয়ে চিনির দাম কম হওয়ায় খেজুর গুড়ে চিনি মেশাচ্ছে চাষীরা। ভোরবেলা গাছ থেকে খেজুর রস সংগ্রহ করে বাড়ীতে নিয়ে এসে কড়াইয়ে রসজাল করে লালচে বর্নের হলেই চিনি ঢেলে দেয় কড়াইয়ে তারপর একটু জাল দিলেই চিনি গুলে রসের সাথে মিশে তৈরী হচ্ছে গুড়। খেজুর রসের সমপরিমান লিটার চিনি মিশ্রিত করছে। বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম কম হওয়ায় গুড় বিক্রি হচ্ছে বেশী টাকা দরে। গুড়ে চিনি মিশিয়ে চাষীরা প্রতি কেজি গুড়ে বেশী দাম পাচ্ছে প্রতি কেজিতে ২০ টাকা বেশী। নাম গোপন রাখার শর্তে পুঠিয়া উপজেলার দোমাদী ও মধুখালী গ্রামের এক চিনি মিশ্রিত গুড় তৈরীকারী চাষী বলেন, রস জাল করে লালচে বর্নের হলেই চিনি মিশিয়ে দেওয়া হয়। চিনি গলে গেলে হাইড্রোস, ফিটকারী রস গাড়ো হয়ে গিয়ে গুড়ের রং হয় উজ্জল। চিনি,হাইড্রোজ, ফিটকিরী মিশ্রিত গুড় দেখতে চকচকে ও অনেক সুন্দর লাগে। সে কারনে বাজারে চাহিদাও অনেক বেশী হয় উজ্জল রংয়ের গুড়ের। খেজুর রসের সাথে এক কেজি চিনি মেশালে এক কেজি গুড় হচ্ছে। গুড়ে চিনি মেশানোর জন্য প্রতিকেজি ২০ থেকে ২৫ বেশী টাকা পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তিনি শুধু একা নয় বর্তমানে প্রতিটি গ্রামের চাষীরা একইভাবে গুড় তৈরী করছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাট বাজারের আমদানী হওয়া খেজুর গুড়ের ৯৮ ভাগই চিনি মিশ্রিত গুড়। চারঘাট উপজেলার মালেকার মোড়ের গাছি বলেন, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে গাছের রস সংগ্রহের কাজ করে আসছেন। বিগত ১৭ বছর ধরে খেজুর রস থেকেই গুড় তৈরী করে আসছিলাম। কিন্তু অন্যো গৃহস্থের দেখাদেখিতে তাকেও রসের সাথে চিনি মিশিয়ে গুড় তৈরী করতে হচ্ছে। তবে তিনি বলেন, গুড়ের চেয়ে চিনির দাম কমের কারনেই গুড়ে চিনি মিশিয়ে বেশী লাভ হচ্ছে।এছাড়া গুড়ের চেয়ে চিনির দাম বেশী বা সম পরিমান হলেই চিনি মেশানো থেকে বিরত থাকবে চাষীরা। পুঠিয়ার বানেশ্বর হাটের গুড়ের আড়ৎদারা জানান, বর্তমানে হাট বাজারে আমদানীকৃত খেজুর গুড়ের অধিকাংশই চিনি মিশ্রিত ভেজাল গুড়। আমরা কেনার সময় চিনতে পারলেও কোন কিছু করার থাকেনা। কারন চিনি মিশ্রিত ব্যাতীত স্বচ্ছ খেজুর রসের তৈরী গুড় পাওয়া অত্যান্ত দুস্কর। বাজারে দুই এক জনের কাছে ভালো গুড় পাওয়া গেলেও চাহিদা মতো না পাওয়ায় ব্যবসার স্বার্থে বাধ্য হলেই কিনতে হচ্ছে ভেজাল গুড়। এই গুড় জেলার বিভিন্ন হাট বাজার থেকে পাইকাররা রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন। তারা বলেন, ভেজাল প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা অন্যথায় গুড় ভেজাল প্রমানের মাধ্যমে দোষীব্যাক্তিকে সনাক্তে করে আইনের আওতায় নিয়ে না আসা পর্যন্ত ভেজাল দেওয়া বন্ধ হবে না। ভেজাল বন্ধে প্রশাসনের ভূমিকা ছাড়া কোন পথ নেই।#


samakalnews24.com এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

রাজশাহী বিভাগ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ