আজ শুক্রবার,১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং,৪ঠা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৬:৫৮
  • এবার তাহেরপুরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার উৎপত্তিস্থলে মানুষের ঢল
  • কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ২৩৭ মন্ডপে শারদীয়া দূর্গা পূজার উৎসব।
  • বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গুনছেন সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
  • গোদাগাড়ীতে মাচায় তরমুজ চাষ,পাওয়া যাচ্ছে বারমাস
  • উদ্ধার হওয়া সালামের সাথে দেখা করলেন আ’লীগের নেতৃবৃন্দ
  • জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারা যান খাশোগি
  • প্রকাশ্যে পিস্তল হাতে এমপিপুত্রের কাণ্ড!

৪২ বছর চাকরির পরও ‘ভারতীয়’ নন নবকুমার।

অনলাইন ডেস্ক
কিছু দিন আগেও তিনি ভারতীয় রেলের কর্মচারী ছিলেন। অবসরের পর সরকারি ফ্ল্যাট ছেড়ে আসামে জমি কিনে দুই ছেলে, নাতি-নাতনি নিয়ে সুখের সংসার পেতেছেন। ২০১৪ সালে অবসরের পর পেনশনের টাকাও পাচ্ছেন। কিন্তু, এত কিছুর পরেও তিনি ‘ভারতীয়’ নন। কারণ আসামের নাগরিক তালিকায় (এনআরসি) তার নাম নেই।

এ ঘটনায় মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে নবকুমার রায়ের। যে সরকার তাকে জমি কেনার অনুমতি দিয়েছে, যে সরকার তাকে রেলের চাকরি দিয়েছে, সেই সরকারই এখন তার কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইছে।

দুর্ভাগ্যবশত তার কাছে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগের কোনও সরকারি নথি নেই। যে কাগজ দেখিয়ে প্রমাণ করতে পারবেন তিনি ‘ভারতীয়’।

নবকুমারের দাবি, কলকাতায় এক দরিদ্র পরিবারে তার জন্ম। জন্মের কোনও নথিপত্র কখনও ছিল কি না তাও মনে নেই। এই শহরে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তারা। পরে জামশেদপুরে কিছু দিন কাটিয়ে চলে গিয়েছিলেন আসামে। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা। কলকাতার ভোটার তালিকায় নাম ছিল না। ছিল না জামশেদপুরেও। আসামে থাকতেই ১৯৭২ সালে রেলে চাকরি পান। তাই ১৯৭১ সালের আগে কোনও সরকারি নথি তিনি দেখাতে পারছেন না। ফলে বিপদে পড়েছেন।

সম্প্রতি আসামে নাগরিক খসড়া তালিকা থেকে ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। সেই তালিকাতে নাম ছিল না নবকুমার রায়ের। শুধু তিনি নন, তার দুই ছেলে-সহ পরিবারের বাকি সদস্যরাও এখন পরিচয়হীন।

নবকুমারবাবুর বক্তব্য, ‘শুধুমাত্র একটি সরকারি কাগজই আমাকে আবার ভারতীয় হিসেবে প্রমাণ করতে পারে। মায়ের কাছে শুনেছিলাম, কিন্তু মনে নেই কোন সরকারি হাসপাতালে জন্মেছিলাম। একের পর এক হাসপাতাল, খিদিরপুরের যে পাড়ায় থাকতাম, সার্ভে বিল্ডিং— সর্বত্র ঘুরে বেড়িয়েছি। এখনও ১৯৭১ সালের আগে কোনও নথি পাইনি।’

পঁয়ষট্টি বছরের নবকুমারবাবু এখন তার স্ত্রী-পরিবার নিয়ে অথৈ জলে পড়েছেন। তার আশা, ‘এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম নাগরিক পঞ্জি নিয়ে প্রতিবাদ জনিয়েছিলেন। তিনি নিশ্চয়ই আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। সে জন্যই কলকাতায় এসেছি।’

নবকুমারবাবুর জন্ম ১৯৫৪ সালে, কলকাতার কোনও এক সরকারি হাসপাতালে। তার দাবি, খিদিরপুরে তারা রামকমল স্ট্রিটের একটি বাড়়িতে ভাড়া থাকতেন। নবকুমারবাবুর বয়স যখন মাত্র ছ’মাস, তখন তার বাবা প্রেমানন্দ রায় মারা যান। তার পর থেকেই মামাদের কাছে মানুষ। ১৯৬৪ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সেই কলকাতা ছে়ড়ে চলে যান জামশেদপুরে। সেখান থেকে আসামের বঙ্গাইগাঁও। সেখানে গিয়ে একটি নাইট স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। যদিও সেখানে পড়াশোনা শেষ হয়নি। সেই নথিও রয়েছে। কিন্তু সেই বেসরকারি নথির কোনও ‘মূল্য’ নেই সরকারের কাছে।

১৯৭২ সালে রেলের চাকরিতে যোগ দেন। তার পর বঙ্গাইগাঁও রেল হাসপাতালের কোয়ার্টারেই (নম্বর ৩০৪বি রুমে) পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। সরকারি নথি বলতে রেলের সেই নিয়োগপত্র। সেটি যদি ১৯৭১-এর হত, তা হলে হয়তো এত ঝক্কি পোহাতে হত না। তবে তা আসামে নাগরিকপঞ্জি তৈরির সময় গ্রাহ্য হয়নি।

দুই দশক আগে মা মারা গিয়েছেন। কলকাতায় অনেক আশা নিয়ে এসেছিলেন নবকুমার। তবে কয়েক দিন প্রশাসনিক দপ্তরে ঘুরে ঘুরে কাজ না হওয়ায় অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়েই বঙ্গাইগাঁও ফিরে যাচ্ছেন ওই দম্পতি।

সূত্র: আনন্দবাজার


Leave a Reply

samakalnews24.com এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ