২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
ই’য়াবা সহ আটক-১ মহাদেবপুর-ছাতড়া সড়ক খানাখন্দে ভরা; দূর্ভোগ চরমে বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবকদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন সাংবাদিক ইকবাল হোসেনের শ্বশুরের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ দুর্গাপুরে মা সমাবেশ

অনাহারে রেখে ছেলের মারধর, বৃদ্ধ মা পড়ে আছেন খোলা আকাশের নিচে

 অনলাইন ডেস্ক সমকাল নিউজ ২৪

৮০ বছরের বৃদ্ধা হাজেরা বেগমের ১২ কাঠা জমি লিখে নেওয়ার পরও  জায়গা হয়নি ছেলের কাছে। উল্টো বৃদ্ধাকে মারধর করে গত বৃহস্পতিবার ছেলে ও নাতি মিলে ফেলে আসেন রাস্তায়। গত তিন দিন খোলা আকাশের নিচে থেকে অসুস্থ হয়ে অবশেষে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের বিছানায়।

মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার উথুরী গ্রামে। এ ঘটনায় হাজেরা বেগম শনিবার রাতে ছেলেদের বিরুদ্ধে গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। রোববার বিকেলে বৃদ্ধার ছেলে আব্দুস সাত্তার ও সাত্তারের ছেলেকে তাফাজ্জলকে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উথুরী গ্রামের মৃত রেসমত আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগমের তিন ছেলে-সাইফুল ইসলাম, সোহরাব উদ্দিন ও আব্দুস সাত্তার। প্রায় ১৬ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার আগে হাজেরা বেগমের নামে ১২ কাঠা জমি লিখে দিয়ে যান। স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলেরা হাজেরা বেগমের ভরণ-পোষণ করেন। কিন্তু ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম কৌশলে হাজেরা বেগমের কাছ থেকে ১২ কাঠা জমি নিজের নামে লিখে নেন।

এ খবর জানার পর অন্য দুই ছেলে মায়ের ভরণ-পোষণ ও খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় হাজেরা বেগমের দায়িত্ব নেন ছেলে সাইফুল। কিন্তু সাইফুল কিছুদিন পর থেকেই তার মায়ের ঠিক মতো ভরণ-পোষণ দেন না। উল্টো তাকে মারধর করেন। এমন পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার সালিশও হয়েছে। তবে সাইফুল বিচার সালিশ না মেনে বৃহস্পতিবার সকালে তার বৃদ্ধা মাকে মারধর করে বাড়ির সামনে রাস্তায় ফেলে আসেন।

হাজেরা বেগম বলেন, ‘বাবারে আর কয়ডা দিন বাইচ্চা থাহাম? ভাতের কষ্ট সইজ্য অয় না। আল্লাত মরনও দেয় না।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস ছোবাহান কালা মিয়া বলেন, হাজেরা বেগমের খাওয়া-দাওয়া নিয়ে একাধিকবার বিচার সালিশ হয়েছে। বড় ছেলেরা জমি না পাওয়ায় মায়ের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেয়নি। তবে ছোট ছেলে সাইফুল জমি লিখে নিলেও এখন মাকে খাওয়ায় না।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে হাজেরা বেগমের এক ছেলে ও নাতিকে আটক করা হয়েছে। আমি হাসপাতালে গিয়ে হাজেরা বেগমের খোঁজখবর নিয়েছি। অবশ্যই ছেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে