১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন... চাঁদপুরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে সভাপন্ড।... ছাতকে শ্রীপতিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা... বালু উত্তোলনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে জাফলং সেতু বিরামপুরে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালন

”অপেক্ষায় শত শত ডিম সংগ্রহকারীরা” বজ্র বৃস্টি ও পাহাড়ী ঢল না থাকায় হালদা নদীতে পুরোদমে ডিম ছাড়েনি মা মাছ

 মোঃ আলাউদ্দীন,হাটহাজারী, সমকালনিউজ২৪

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে বজ্র বস্টি ও পাহাড়ী ঢল না থাকায় এখনও পর্যন্ত পুরোদমে ডিম ছাড়েনি মা মাছ। পর্যাপ্ত পরিমানে বজ্র বৃষ্টিপাত, মেঘের গর্জন এবং পাহাড়ী ঢল না থাকায় মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়েনি বলে জানান অনেক ডিম সংগ্রহকারী। যখন বজ্র বৃষ্টি আর মেঘের গর্জণ হয় তখনি মা মাছের পুরোদমে ডিম দেয়ার উপযুক্ত সময়। তাই শত শত ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম সংগ্রহের সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে এখন বজ্র বৃষ্টিপাত, মেঘের গর্জণ আর পাহাড়ী ঢলের অপেক্ষায় আছেন হালদা নদীর দুই পাড় সহ আশেপাশের এলাকায়। ডিম থেকে পোনা উৎপাদনের জন্য হ্যাচারীগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে গত রবিবার বেলা সাড়ে বারটার দিকে নদীর নতুনহাট,আজিমের ঘাট, আমতোয়া, সিপাহীর ঘাট সহ বেশ কয়েকটি স্পটে মা মাছ অল্প পরিমানে নমুনা ডিম দিয়েছিল।

হালদা নদী থেকে ডিম সংগ্রহকারী মো.কামাল সওদাগর হাটহাজারী উপজেলার মাছুয়াঘোনা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী মো. হারুন ও মো.আবুল কাশেম সাংবাদিকদের জানান, অনুকুল পরিবেশ না পাওয়ায় হালদা নদীতে সময়মত মা মাছগুলো ডিম ছাড়তে পারছেনা। হালদা নদীর বেশ কয়েকটি শাখা খাল রয়েছে। শাখা খালগুলো ভরাট হয়ে যাবার কারনে বৃস্টির সময় নদীর পানির স্রোত তীব্রতর না হওয়ার ফলে বিগত তিথিতে ডিম দিতে পারেনি মা মাছগুলো। তবে গত রবিবার দুপুরে নমুনা ডিম দেয়ায় রাতে বৃস্টি হলেই মা মাছ পর্যাপ্ত পরিমানে ডিম ছাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন তারা। কিন্তু নমুনা ডিম দেয়ার প্রায় আড়াই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের দেখা না পাওয়ায় মা মাছ ডিম ছাড়ার উপযুক্ত পরিবেশ পাচ্ছেনা বলেও জানান ডিম সংগ্রহকারীরা। তসলিম নামের এক ডিম সংগ্রহকারী জানান, নমুনা ডিম ছাড়ার খবর পেয়েই নদীতে জাল ফেলে ২শ গ্রামের মতো ডিম পেয়েছি। পুরোদমে ডিম না দেয়ার কারনে পর্যাপ্ত পরিমানে ডিম পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, রোববার (৫মে) হালদা ও কর্ণফুলী নদীতে জোয়ারের পানি বেশি ,সাথে উচ্চতাও বেড়ে যায়। শনিবার নিম্নচাপে পরিণত হওয়া ঘ‚র্ণিঝড় ফণির প্রভাবে সাগর উত্তাল ও জোয়ারের উচ্চতা বেড়েছিল। অভিজ্ঞ জেলেরা জানান, নমুনা ডিম ছেড়ে মা মাছ দেখতে চায় নদীতে ডিম ছাড়ার পরিবেশ অনুক‚ল আছে কিনা তা। অনুকুল পরিবেশ পেলেই পুরোদমে ডিম ছাড়বে মা মাছ এমনটাই প্রত্যাশা ডিম সংগ্রহকারীদের। নমুনা ডিম দেয়ার আগে ডিম ছাড়ার এ মৌসুমে নদীর বিভিন্ন স্থানে ডিমওয়াল মৃত মা মাছ উদ্ধারের ফলে ডিম ছাড়ার এ মৌসুমে ডিম ছাড়া নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছিল স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারীরা। তারা অমাবশ্যা ও পুর্নিমার তিথিতে ডিম ছাড়বে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ পোষন করছিলেন এবং মৌসুমের প্রায় শেষ তিথির শেষ প্রান্তেও মা মাছ ডিম না দেয়ায় এবার মা মাছ ডিম ছাড়বে কিনা তা নিয়েও চরম শংকায় ছিলেন সংশ্লিষ্টরা । নমুনা ডিম দেয়ার আগ পর্যন্ত নদীর বিভিন্নস্পর্টে মৃত অবস্থায় আনুমানিক ৫/৬ টি মা মাছ উদ্ধার করেছিল ডিম সংগ্রহকারীরা।

হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.আজহারুল আলম হালদা পাড়ে গিয়ে ডিম সংগ্রহকারীদের সাথে কথা বলেন এবং তিনি জানান, পর্যাপ্ত পরিমানে বৃস্টি হলে মা মাছ এই তিথিতে অবশ্যই ডিম ছাড়বে।

হাটাহাজরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন, প্রকল্প কর্মকর্তা নিয়াজ মোরশেদ ও মৎস্য কর্মকর্তা মো.আজহারুল ইসলাম হালদা নদীকে বাঁচাতে রাত দিন পরিশ্রম করে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার মিটারেরও অধিক জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল বলে সূত্রে জানা গেছে এবং কয়েকটি বালি তোলার ড্রেজার মেশিন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল তাছাড়া কয়েকজনকে মাছ মারার অপরাধে শাস্থিও দিয়েছিলেন ।

উল্লেখ্য, গত রবিবার প্রতি নৌকায় ১৫০শ থেকে ২শ গ্রাম পর্যন্ত মা মাছের নমুনা ডিম পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। প্রতি ডিম ছাড়ার মৌসুমে মা মাছ কয়েক দফা ডিম দিয়ে থাকে বলেও জানান ডিম সংগ্রহকারীরা।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বশেষ
চট্টগ্রাম বিভাগের আলোচিত
ওপরে