২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরিশাল শেবাচিমে ময়লার স্তূপে মিললো ২২ অপরিণত শিশুর... স্বামীর লাশ ওয়ারড্রবে রেখে অফিস করলেন স্ত্রী! ঐক্যফ্রন্টকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবিতে মানববন্ধন বন্য হাতির আক্রমণে নিহত জাসদ নেতা সাইমুন কনক

অযোধ্যায় রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা

  সমকাল নিউজ ২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের দুই কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠনের চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে অযোধ্যায় দেবতা রামের জন্মস্থানে দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজনকে কেন্দ্র করে চলছে উত্তেজনা।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, রাম মন্দির স্থাপনে চাপ তৈরিতে আয়োজন করা ওই দুই অনুষ্ঠান নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌছেছে। তাই সেখানে প্রয়োজনে সেনা মোতায়েনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব।

এরই মধ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলেছে। দেশটির সরকার শীর্ষ থেকে মধ্যম সারির বেশ কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠিয়েছে। বিরোধপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা বলয়ও গড়ে তোলা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদে বাবরি মসজিদের অবস্থান৷ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একাংশ দাবি করছে, দেবতা রামের জন্মভূমিতে মসজিদ বানানো হয়েছে৷ ১৯৯২ সালে বিজেপি সরকারের আমলে বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷ ওই সময় দাঙ্গায় দুই হাজার লাক প্রাণ হারায়। এলাহাবাদ হাই কোর্টে একবার রায় ঘোষণার পরেও তার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি। কারণ ওই রায়ে বিতর্কিত জমিকে বিবদমান তিন পক্ষের মধ্যে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। তখন অযোধ্যার বিতর্কিত জমির মামলা শীর্ষ আদালতে চলে যায়। ওই মামলায় চূড়ান্ত রায় আগামী বছর দেয়া হবে বলে জানা গেছে। তাই এর আগেই ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দুরা সেখানে রাম মন্দির তৈরি জন্য চাপ জোরালো করতে চাইছে।

রবিবার শিব সেনার পক্ষ থেকে রামের জন্মভূমিতে অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয়। দুই দিনের সফরে অযোধ্যায় পৌঁছে গেছেন কট্টরপন্থী সংগঠনটির প্রধান উদব ঠাকরে। রবিবার তিনি রাম জন্মভূমিতে এক প্রার্থনায় অংশ নেবেন। এছাড়া সারায়ু নদীর তীরে আরোতিতে অংশ নিবেন তিনি। জানা গেছে, সেখানে তিনি ভক্তদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। পুনের শিবনেরি দুর্গে থেকে আনা মাটি রাম জন্মভূমির পূজারকের কাছে হস্তান্তর করবেন তিনি।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ অযোধ্যায় আরও বড় সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে। রবিবার ‘ধর্ম সংসদ’ নামের ওই অনুষ্ঠানও হবে। সংগঠনটি বলছে, ১৯৯২ সালের পর রাম মন্দির সমর্থকদের এটাই হবে সবচেয়ে বড় জমায়েত। রাম মন্দির তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সেখানে আলোচনা হবে।

এরই মধ্যে বিশ্ব হিন্দু পরিষয়ের ব্যানারে গত কয়েক দিন ধরে উত্তর প্রদেশ জুড়ে মোটরসাইকেল র‍্যালি ও মিছিল করা হয়। পূর্বাঞ্চলীয় উত্তর প্রদেশের মির্জাপুরে এসব মিছিলে ছোটখাট সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

অযোধ্যার ভূমি বিরোধ মামলার অন্যতম মামলাকারী ইকবাল আনসারি বলেছেন, বাইক যাত্রার সময়ে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় রাম জনকিতে ও কানপুরে ছোট সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুটি ঘটনার কোনটিতেই প্রাণহানি বা বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি ঘটেনি। এসব ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় মুসলিমদের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। ১৯৯২ সালে আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, এখানে যদি ১৯৯২ সালের মতো জমায়েত হয় নিশ্চিতভাবে অযোধ্যার মুসলমান আর আমার নিরাপত্তার দরকার। আমার নিরাপত্তা জোরদার করা না হলে ২৫ নভেম্বরের আগেই আমি শহর ছেড়ে চলে যাবো।

তবে বিশ্ব হিন্দুপরিষদের মুখপাত্র শারদ শর্মাদাবি বলেন, এটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। রাম ভক্তরা নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। আমাদের পূজারীদের নির্দেশমত তারা কাজ করবেন।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
আন্তর্জাতিক বিভাগের আলোচিত
ওপরে