১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরগুনা সরকারি কলেজে সন্ত্রাসী হামলা নবীগঞ্জে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান চালিয়ে পৃথক... ইসলামপুরে ট্রাক্টরের চাপায় শিশুর মৃ’ত্যু সিলেটে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত দুর্নীতি... বরগুনায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষে তথ্য...

অ্যামাজনের ‘ওয়্যারহাউসে’ যন্ত্রই করবে ২৪ কর্মীর কাজ

 অনলাইন ডেস্ক: সমকালনিউজ২৪
অ্যামাজনের ‘ওয়্যারহাউসে’ যন্ত্রই করবে ২৪ কর্মীর কাজ

গ্রাহকের ক্রয়আদেশের চাপ সামলাতে ‘ওয়্যারহাউস’গুলোতে নতুন যন্ত্র বসাতে শুরু করেছে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন৷ এর ফলে কয়েক হাজার কর্মীর চাকরি হুমকিতে পড়তে পারে৷ যদিও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি৷

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান তারা৷ প্রতিদিন কয়েক হাজার ক্রয়আদেশ সামলাতে হয় তার এক একটি স্টোরকে৷ আছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেগুলো গ্রাহকদের কাছে পৌছে দেয়ার তাড়া৷ সেটি সুচারুভাবে করার জন্য অ্যামাজন তার ওয়্যারহাউস বা গুদামঘরগুলোকে আনছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির আওতায়৷ গ্রাহকের অর্ডার করা পণ্য খুঁজে বের করা থেকে শুরু করে তা প্যাকেজিং করে পাঠানোর উপযোগী করে দেবে বিশেষ এক যন্ত্র৷

কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু থেকে দশ বছর দূরে আছে তারা৷ কিন্তু তাই বলে অ্যামাজন বসে নেই৷ যান্ত্রিকীকরণের প্রক্রিয়াটি এখন থেকেই শুরু করে দিয়েছে তারা৷ এমন তথ্য দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স৷

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে তার ওয়্যারহাউজগুলোতে দু’টি করে নতুন যন্ত্র বসাতে যাচ্ছে, যা কমপক্ষে ২৪ জন কর্মীর সমান কাজ করে দিতে পারবে৷ রয়টার্স হিসেব করে দেখিয়েছে শুধু এই দুটি যন্ত্রের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে ১৩০০ কর্মী ছাঁটাই করতে পারে অ্যামাজন৷ প্রতি যন্ত্রের পেছনে তাদের খরচ দশ লাখ ডলার করে৷ সেই টাকা উঠিয়ে আনা যাবে দুই বছরের মধ্যে৷

যান্ত্রিকীকরণে এই পরিকল্পনাটি স্বীকার করেছে অ্যামাজনও৷ ‘‘নিরাপত্তা, দ্রুত পণ্য সরবরাহ আর নেটওয়ার্কের মধ্যে দক্ষতা বাড়াতে আমরা এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করছি,” জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র৷ তিনি বলেন, এই দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে যে সাশ্রয় হবে, তা গ্রাহকদের জন্য নতুন সেবায় বিনিয়োগ করা হবে, সেখানে সামনে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে৷

‘কার্টন ব়্যাপ’ নামের এই যন্ত্রগুলো অ্যামাজন কিনছে সিএমসি নামের ইতালীয় এক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে৷ সেগুলো গ্রাহকদের ঠিকানায় পাঠানোর জন্য প্রতি ঘন্টায় ৬০০ থেকে ৭০০ টি বাক্স প্রস্তুত করতে পারে৷ সেখানে মানুষ দিয়ে এই কাজ করালে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি সময় লাগে৷ শুধু অ্যামাজন নয়, সিএমসির এমন যন্ত্র ব্যবহার করছে আরো কিছু প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে আছে জেডি ডট কম, শাটারফ্লাই ইনকর্পোরেশন, এমনকি ওয়ালমার্টও৷ গত সাড়ে তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু জায়গায় ওয়ালমার্ট এই যন্ত্র বসিয়েছে বলে জানতে পেরেছে রয়টার্স৷

গ্রাহকের চাহিদামাফিক দ্রুত ও সুচারুভাবে পণ্য সরবরাহ করা অ্যামাজন, ওয়ালমার্টের মতো রিটেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে৷ এ কারণে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে৷ সিএমসির পাশাপাশি ‘সফট রোবোটিক্স’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠানও এই ধরনের যন্ত্র উদ্ভাবনে কাজ করছে৷ অ্যামাজন তাদের কাছ থেকেও কিছু প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে৷ এক্ষেত্রে দুটি সমস্যাও আছে৷ পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় সব কাজ মানুষ ছাড়া সম্ভব এমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এখনো বাজারে আসেনি৷ আবার সিএমএস-এর মতো প্রতিষ্ঠান যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে সেগুলো তারা রাতারাতি বাজারে সরবরাহও করতে পারছে না৷ সেগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা দেখার জন্য কর্মীও নিয়োগ করতে হচ্ছে৷

তারপরও এই ধরনের যন্ত্র অ্যামাজনের জন্য বড় ধরনের সুফলই বয়ে আনছে৷ সিয়াটল, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিলান, অ্যামস্টারডাম, ম্যানচেস্টারসহ আরো কিছু শহরে সেগুলো বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স৷

শুধু ওয়্যারহাউস নয়, গত বছর অ্যামাজন নতুন ধরনের সুপারস্টোর খুলেছে যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে টাকা পরিশোধের কোনো ব্যবস্থা বা ক্যাশ কাউন্টার নেই৷ ক্রেতারা দোকানের তাক থেকে প্রয়োজনমতো পণ্য নিয়ে যেতে পারেন, সেই টাকা কেটে রাখা হয় মোবাইলের অ্যাপের মাধ্যমে ক্রেতার অ্যামাজন অ্যাকাউন্ট থেকে৷ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ‘অ্যামাজন গো’ নামে এমন ১২ টি স্টোর রয়েছে৷ ক্রেতার দুয়ারে ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌছাতেও প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষা চালাচ্ছে৷

এভাবে প্রযুক্তির ব্যবহারে গোটা যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পে সামনের দিনে কর্মীর চাহিদা কমে যেতে পারে৷ প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্সের এক জরিপে দেশটির ৫৮ ভাগ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, আগামী ৫ বছরে তারা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কর্মী ছাঁটাই করবেন৷ ১৬ ভাগ বলেছেন বিপরীত কথা৷

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে