২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
পার্কে মা’দক সেবন, মালিক ও বিএনপি নেতাসহ আটক ৪ ৩টি পি’স্তল,৬৬ রাউন্ড গু’লি,৩টি ম্যা’গজিন ও ১কেজি... চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের বেহাল দশা মাজার জিয়ারত করলেন এমপি আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন ছেলেকে বাঁচাতে নদীতে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ বাবা

অ্যামাজনের ‘ওয়্যারহাউসে’ যন্ত্রই করবে ২৪ কর্মীর কাজ

 অনলাইন ডেস্ক: সমকাল নিউজ ২৪
অ্যামাজনের ‘ওয়্যারহাউসে’ যন্ত্রই করবে ২৪ কর্মীর কাজ

গ্রাহকের ক্রয়আদেশের চাপ সামলাতে ‘ওয়্যারহাউস’গুলোতে নতুন যন্ত্র বসাতে শুরু করেছে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন৷ এর ফলে কয়েক হাজার কর্মীর চাকরি হুমকিতে পড়তে পারে৷ যদিও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি৷

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান তারা৷ প্রতিদিন কয়েক হাজার ক্রয়আদেশ সামলাতে হয় তার এক একটি স্টোরকে৷ আছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেগুলো গ্রাহকদের কাছে পৌছে দেয়ার তাড়া৷ সেটি সুচারুভাবে করার জন্য অ্যামাজন তার ওয়্যারহাউস বা গুদামঘরগুলোকে আনছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির আওতায়৷ গ্রাহকের অর্ডার করা পণ্য খুঁজে বের করা থেকে শুরু করে তা প্যাকেজিং করে পাঠানোর উপযোগী করে দেবে বিশেষ এক যন্ত্র৷

কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু থেকে দশ বছর দূরে আছে তারা৷ কিন্তু তাই বলে অ্যামাজন বসে নেই৷ যান্ত্রিকীকরণের প্রক্রিয়াটি এখন থেকেই শুরু করে দিয়েছে তারা৷ এমন তথ্য দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স৷

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে তার ওয়্যারহাউজগুলোতে দু’টি করে নতুন যন্ত্র বসাতে যাচ্ছে, যা কমপক্ষে ২৪ জন কর্মীর সমান কাজ করে দিতে পারবে৷ রয়টার্স হিসেব করে দেখিয়েছে শুধু এই দুটি যন্ত্রের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে ১৩০০ কর্মী ছাঁটাই করতে পারে অ্যামাজন৷ প্রতি যন্ত্রের পেছনে তাদের খরচ দশ লাখ ডলার করে৷ সেই টাকা উঠিয়ে আনা যাবে দুই বছরের মধ্যে৷

যান্ত্রিকীকরণে এই পরিকল্পনাটি স্বীকার করেছে অ্যামাজনও৷ ‘‘নিরাপত্তা, দ্রুত পণ্য সরবরাহ আর নেটওয়ার্কের মধ্যে দক্ষতা বাড়াতে আমরা এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করছি,” জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র৷ তিনি বলেন, এই দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে যে সাশ্রয় হবে, তা গ্রাহকদের জন্য নতুন সেবায় বিনিয়োগ করা হবে, সেখানে সামনে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে৷

‘কার্টন ব়্যাপ’ নামের এই যন্ত্রগুলো অ্যামাজন কিনছে সিএমসি নামের ইতালীয় এক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে৷ সেগুলো গ্রাহকদের ঠিকানায় পাঠানোর জন্য প্রতি ঘন্টায় ৬০০ থেকে ৭০০ টি বাক্স প্রস্তুত করতে পারে৷ সেখানে মানুষ দিয়ে এই কাজ করালে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি সময় লাগে৷ শুধু অ্যামাজন নয়, সিএমসির এমন যন্ত্র ব্যবহার করছে আরো কিছু প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে আছে জেডি ডট কম, শাটারফ্লাই ইনকর্পোরেশন, এমনকি ওয়ালমার্টও৷ গত সাড়ে তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু জায়গায় ওয়ালমার্ট এই যন্ত্র বসিয়েছে বলে জানতে পেরেছে রয়টার্স৷

গ্রাহকের চাহিদামাফিক দ্রুত ও সুচারুভাবে পণ্য সরবরাহ করা অ্যামাজন, ওয়ালমার্টের মতো রিটেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে৷ এ কারণে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে৷ সিএমসির পাশাপাশি ‘সফট রোবোটিক্স’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠানও এই ধরনের যন্ত্র উদ্ভাবনে কাজ করছে৷ অ্যামাজন তাদের কাছ থেকেও কিছু প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে৷ এক্ষেত্রে দুটি সমস্যাও আছে৷ পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় সব কাজ মানুষ ছাড়া সম্ভব এমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এখনো বাজারে আসেনি৷ আবার সিএমএস-এর মতো প্রতিষ্ঠান যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে সেগুলো তারা রাতারাতি বাজারে সরবরাহও করতে পারছে না৷ সেগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা দেখার জন্য কর্মীও নিয়োগ করতে হচ্ছে৷

তারপরও এই ধরনের যন্ত্র অ্যামাজনের জন্য বড় ধরনের সুফলই বয়ে আনছে৷ সিয়াটল, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিলান, অ্যামস্টারডাম, ম্যানচেস্টারসহ আরো কিছু শহরে সেগুলো বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স৷

শুধু ওয়্যারহাউস নয়, গত বছর অ্যামাজন নতুন ধরনের সুপারস্টোর খুলেছে যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে টাকা পরিশোধের কোনো ব্যবস্থা বা ক্যাশ কাউন্টার নেই৷ ক্রেতারা দোকানের তাক থেকে প্রয়োজনমতো পণ্য নিয়ে যেতে পারেন, সেই টাকা কেটে রাখা হয় মোবাইলের অ্যাপের মাধ্যমে ক্রেতার অ্যামাজন অ্যাকাউন্ট থেকে৷ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ‘অ্যামাজন গো’ নামে এমন ১২ টি স্টোর রয়েছে৷ ক্রেতার দুয়ারে ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌছাতেও প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষা চালাচ্ছে৷

এভাবে প্রযুক্তির ব্যবহারে গোটা যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পে সামনের দিনে কর্মীর চাহিদা কমে যেতে পারে৷ প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্সের এক জরিপে দেশটির ৫৮ ভাগ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, আগামী ৫ বছরে তারা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কর্মী ছাঁটাই করবেন৷ ১৬ ভাগ বলেছেন বিপরীত কথা৷

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে