২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
মিলার স্বামীকে খোলামেলা ছবি পাঠাতেন নওশীন! অবশেষে শপথ নিলেন আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফোরকান বরগুনায় নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে মানববন্ধন মঠবাড়িয়ায় পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে... মধ্যরাতে বন্ধ হচ্ছে ২২ লাখ ৩০ হাজার সিম

আজ ১৩ রজব, হযরত আলী ইবনে আবি ত্বলিবের (কা.) জন্মদিন

 অনলাইন ডেস্কঃ সমকাল নিউজ ২৪
আজ ১৩ রজব, হযরত আলী ইবনে আবি ত্বলিবের (কা.) জন্মদিন

বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৩ রজব। আর ৬০১ ঈসায়ী সনের এই মহিমান্বিত দিনে পবিত্র ক্বাবাগৃহে উমরাহ পালনরত মা ফাতিমা বিনতে আসাদের গর্ভ থেকে জন্ম নেন বেলায়েতের শিরোমণি ইমামাল মুত্তাকিন হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (কাররামাল্লাহু ওয়াজহু)।

তাঁর বাবা হযরত আবি ত্বলিব (রা) ও দাদা হযরত আব্দুল মুত্তালিব (রা) ছিলেন ‘হানিফ’ বা একেশ্বরবাদী; যারা দুইজনেই নবী ইসমাইলের বংশধর হিসেবে পবিত্র কাবাগৃহের মুতাওয়াল্লি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সম্পর্কের দিক থেকে আলী (কা) হলেন আখেরি নবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফার (দ) চাচাতো ভাই ও জামাতা। তবে দুর্ভিক্ষের বছরে চাচা হযরত আবি ত্বলিবের কাছ থেকে তাঁকে নিয়ে এসে লালন পালন করে আখেরি নবী (দ) ও মা খাদিজাতুল কুবরা (সা. আ.)। হেরাগুহায় নবীজির (দ) নব্যুয়ত প্রাপ্তির দ্বিতীয় সাক্ষী এবং পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম নবীজির (দ) নব্যুয়তের প্রতি ঈমান আনয়নকারী (মাত্র ১০ বছর বয়সে) হলেন হযরত আলী (কা)। পরে ঘরের বাইরে সর্বপ্রথম ঈমান আনেন হযরত আবি বাকার ইবনে কোহাফা (রা)। আলী (কা) নামাজ শুরু করেন রাসুলের (দ) সাথে মিরাজের আগেই। অন্যরা মিরাজে নামায ফরজ হবার পর নামাজ শুরু করেন।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَا مَدِينَةُ الْعِلْمِ وَعَلِيٌّ بَابُهَا فَمَنْ أَرَادَ الْعِلْمَ فَلْيَأْتِهِ مِنْ بَابِهِ

হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (দ) ইরশাদ করেছেন, আমি হলাম জ্ঞানের শহর আর আলী তার দরজা। যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের ইচ্ছে করে, সে যেন দরজা দিয়ে প্রবেশ করে। (সহিহ তিরমিজী, ৩৭২৩/ আল মুসনাদুল জামে, ১০৩৩৯/ কানযুল উম্মাল, ৩২৮৯০/ মুস্তাদরাকে হাকেম, ৪৬৩৭/ আল মুজামুল কাবীর, ১১০৬১)

অকুতোভয় যোদ্ধা হিসেবে আলির (কা) খ্যাতি রয়েছে। বদর যুদ্ধে বিশেষ বীরত্বের জন্য আখেরি নবী (দ) তাকে ‘জুলফিকার’ নামক তরবারি উপহার দিয়েছিলেন। খাইবারের সুরক্ষিত কামুস দুর্গ জয় করলে মহানবী তাকে ‘আসাদুল্লাহ’ বা শেরে খোদা উপাধি দেন। তাঁর অন্যান্য লকব বা উপাধি হচ্ছে- আবুল হাসনাইন (হাসান ও হোসাইনের পিতা), আবুল ইয়াতিমান (অনাথদের পিতা), আবু তুরাব (মাটির পিতা ), মুরতাযা (যিনি নির্বাচিত), হায়দার (সিংহহৃদয়)।

আখেরি নবী (দ) তাঁর বিদায় হজ শেষ করে মদিনা ফেরার পথে ‘খুম’ নামক স্থানে ‘জ্ঞান নগরীর দরজা’ খ্যাত আলীকে (কা) মুমিনদের ‘মওলা’ বা আধ্যাত্মিক অভিভাবক ঘোষণা করেন।

ایها الناس! الله مولای و انا مولاکم، فمن کنت مولاه فهذا علی مولاه، اللهم وال من والاه و عاد من عاداه و انصر من نصره و اخذل من خذله

অর্থ : লোকসকল! আল্লাহ আমার মওলা, আর আমি তোমাদের মওলা (আধ্যাত্মিক অভিভাবক)। আমি যার মওলা, আলীও তার মওলা। হে আল্লাহ, যে আলীকে ভালোবাসে, তুমিও তাকে ভালোবাসো। যে আলীর সাথে শত্রুতা পোষণ করে, তুমিও তাকে শত্রু গণ্য করো। আর যে তাকে সাহায্য করে, তুমিও তাকে সহায়তা দান করো এবং যে তাকে ত্যাগ করে, তুমিও তাকে পরিত্যাগ করো। (সহিহ মুসলিম, খণ্ড-২, পৃঃ-৩৬২; মুসতাদরাক আল হাকেম, খণ্ড-৩, পৃঃ-১০৯; তারিখে ইবনে কাসির, খণ্ড-৪, পৃঃ-২৮১,৩৬৮, ৩৭০; খণ্ড-৫,পৃঃ-২১,২০৯; মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড-১, পৃঃ-১১৮-১১৯; সুনানে ইবনে মাজা, খণ্ড-১, পৃঃ-৪৩, হাদীস নং-১১৬; তারিখে ইয়াকুবী, খণ্ড-২, পৃঃ-৪৩ ; তাবাক্বাত আল কুবরা, খণ্ড-২,অংশ-২, পৃঃ-৫৭; সিরাহ আল হালাবী, খণ্ড-৩, পৃঃ-৩৯০; তারিখে তাবারী, খণ্ড-২, পৃঃ-৪২৯; মাযমাউয যাওয়ায়েদ, খণ্ড-৯, পৃঃ-১৬৪; আস সাওয়ায়েক আল মুহরিক্বা, পৃঃ-২৫ ; তারিখে দামেস্ক, খণ্ড-২, পৃঃ-৪৫ ; উসূল আল মুহিম্মা, পৃঃ-২৪, নাজাফ; আনসাব আল আশরাফ, খণ্ড-২, পৃঃ-৩১৫; খাসায়েস আল আমিরুল মু’মেনিন, নাসাঈ, পৃঃ-৩৫-৯৩; কানযুল উম্মাল, খণ্ড-৪, পৃঃ-৫৩, হাদীস নং-১০৯২)

এক লাখ ২৪ হাজার পয়গম্বরের সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (দ) যেমন ইমামাল আম্বিয়া বা নবীদের সর্দার, তেমনি খতমে নবুয়্যতের পর খোলাফায়ে রাশিদিন বা ন্যায়পরায়ণ চার খলিফার শেষজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মওলা আলী (আ)।

ওসমান (রা.) ঘাতক কর্তৃক নিহত হলে মুনাফিকরা আলীকে (রা.) এই হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ তোলে। জনগণ তাকে খলিফা নিযুক্ত করতে চাইলে তিনি প্রথমে অস্বীকৃতি জানান। তবুও জণগণ জোরপূর্বক তাকে খলিফা নির্বাচিত করে তাঁর কাছে বাইয়্যাত বা আনুগত্যের শপথ করতে থাকে। এরপরেও ওসমান হত্যার সাথে আলীর (কা) সম্পর্ক বিষয়ে তর্ক বিতর্ক চলতে থাকে। একপর্যায়ে মুনাফিকদের কুপ্ররোচনায় মা আয়িশা (রা.) ঊটের পিঠে সওয়ার হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন এবং পরাজিত হন। ইসলামের ইতিহাসে এ যুদ্ধটি জঙ্গে জামাল বা উটের যুদ্ধ নামে পরিচিত। এরপর সিফফিনে আমির মুয়াবিয়া ও আমর ইবনে আসের সম্মিলিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে মওলা আলী (কা) নবীর সাহাবি ইয়াসির আম্মারের (রা) হত্যাকারী মুনাফিকদের মুখোশ উন্মোচন করেন।

৪০ হিজরীর ১৯ রমজান মসজিদে কুফায় নামাজে সেজদা দেওয়ার সময় খারেজি নেতা ইবনে মুলজামের বিষ-মাখানো তরবারী দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হন। দুদিন পর ২১ রমজান শাহাদাত বরণ করেন।

আলী (কা) ছিলেন একাধারে কবি, যোদ্ধা, ব্যাকরণবিদ, সংখ্যাতাত্বিক, দার্শনিক। তাঁর অমূল্য বানী লিপিবদ্ধ আছে ‘নাহজুল বালাগাহ’, ‘তুহুফুল উকুল’, ‘বিহারুল আনওয়ার’, ‘আল-কাফি’ গ্রন্থে। তাঁর কবিতা নিয়ে বাংলায় ‘দিউওয়ানে আলী’ নামে একটি বই পাওয়া যায়।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে