২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরিশাল শেবাচিমে ময়লার স্তূপে মিললো ২২ অপরিণত শিশুর... স্বামীর লাশ ওয়ারড্রবে রেখে অফিস করলেন স্ত্রী! ঐক্যফ্রন্টকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবিতে মানববন্ধন বন্য হাতির আক্রমণে নিহত জাসদ নেতা সাইমুন কনক

আতঙ্কের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ

 অনলাইন ডেস্কঃ সমকাল নিউজ ২৪

শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের অধীনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। এখন বেগম জিয়াকে মুক্ত করার আন্দোলনের অংশ হিসেবেই সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আলোচনায় যেসব দাবি পেশ করা হয়েছিল, প্রকৃতপক্ষে সেগুলো একটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি। বলা যায়, কেবল জনগণের আস্থার ওপর ভিত্তি করে বিএনপি অতিশয় কর্তৃত্ববাদী এই সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী সফলতা অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয়ে মাঠে নেমে গেছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির বড় সফলতা হলো, এই নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং মনোনয়ন পাওয়া-না পাওয়ার সঙ্কীর্ণতা ভুলে একসাথে কাজ করা। হত্যা, খুন, গুম, নির্যাতন ও হামলা-মামলায় জর্জরিত বিএনপি প্রায় এক যুগ ধরে মহাসঙ্কটে রয়েছে। ‘১/১১’-এর পর বিএনপির, বিশেষ করে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার-দুর্নাম রটানোর পাশাপাশি এই পরিবারকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসের যে নীলনকশা করা হয়েছিল, এক যুগ ধরে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে- কখনো দ্রুত, কখনো মন্থরগতিতে।

 

চক্রান্তের নতুন নতুন ফাঁদ তৈরি হচ্ছে আবার তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সুচতুরভাবে। জিয়া পরিবারের পাশাপাশি বিএনপি প্রতিষ্ঠাকালে যারা শহীদ জিয়ার হাত ধরে বিএনপিকে দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের যাত্রা শুরু করেছিলেন, এমন কিছু নেতা ও তাদের পরিবারকে ধ্বংসের পরিকল্পিত তৎপরতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিএনপির নেতাকর্মী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের কাছে অত্যন্ত বিশ্বস্ত একজন নেতার নাম মির্জা আব্বাস। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে পদার্পণ করেছিলেন সে সময়ের যুবক মির্জা আব্বাস। তিনি তখন ঢাকার ওয়ার্ড কমিশনার। তারপর জাতীয়তাবাদী যুবদলের রাজনীতিতে তার সাংগঠনিক কার্যক্রমের কারিশমা রাজনৈতিক জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে। সুদীর্ঘ চার দশকের অভিজ্ঞতায় নিজেকে পৌঁছালেন নেতৃত্বের সুউচ্চ চূড়ায়। যুবদলের সভাপতি এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবসহ জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকার শুধু বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থকদের কাছেই নয়, সারা দেশে গণমানুষের মধ্যে আস্থার জায়গাটিকে পোক্ত করেছেন তিনি। বনেদি পরিবারের সন্তান হিসেবে তার ব্যক্তিগত সততা, নেতৃত্বের বলিষ্ঠতা এবং নেতাকর্মীদের আস্থা নিয়ে নেতৃত্বের নানা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এই বাস্তবতা বিএনপি যতটা বুঝতে পারে, তার চেয়েও অনেক বেশি খবর রাখে সরকার। তাই জিয়ার আদর্শের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা এবং বেগম জিয়ার বিশ্বস্ত এক সৈনিককে ও তার পরিবারকে যত্রতত্র হেনস্তা করার জন্য হয়তোবা ধ্বংস করে দেয়ার জন্য তৎপর রয়েছে ক্ষমতাশালী মহল। দেশের মানুষ বুঝে গেছে, আব্বাস ও তার পরিবার সরকারের কতটা রোষানলে পুড়ছেন। ১/১১-পরবর্তী সময় থেকে অদ্যাবধি মির্জা আব্বাস ও তার পরিবারে বারবার প্রতিশোধপরায়ণ আক্রমণ করা হয়েছে।

 

নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা ১/১১-এর সময় কতটা আক্রোশ সহকারে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মিথ্যা ও কাল্পনিক মামলা দিয়ে তাকে ১৮টি মাস কারাগারে আটক রাখা হয়েছিল। ওই সময়টাতে তার পরিবারের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তা-ও কারো অজানা নয়। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেয়া হয়নি। একই মেরিটের মামলায়, আওয়ামী লীগ নেতা মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে নির্বাচন করতে দেয়া হলো এবং পরে তিনি মন্ত্রীও হয়েছেন। ২০১০ সালে আব্বাসের বাড়িতে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল। তা দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। আব্বাসের বৃদ্ধা মা-ও রেহাই পাননি সেই হামলা থেকে। ওই হামলায় অসুস্থ হয়ে তিনি কিছু দিন পরই মারা যান।

 

বিগত এক যুগে মির্জা আব্বাস ও তার পরিবারের ওপর হামলা-মামলা ও গ্রেফতারের খড়গ নেমে এসেছে বারবার। তবে এ কথা সত্য, ঈমানি শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য নিয়ে পরিস্থিতি দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করেছেন মির্জা আব্বাস। অতিসম্প্রতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার প্রতি যেসব অযাচিত আচরণ করা হয়েছে তা শুধু ন্যক্কারজনকই নয়, হাস্যকরও। যে কেউ স্বীকার করবেন, দেশের রাজনীতিতে আব্বাস নবিস নন, ভূঁইফোড়ও নন। তিনি বহুবার এমপি হয়েছেন, কেবিনেট মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন দক্ষতার সাথে। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নমিনেশনপত্রে ত্রুটি ধরে তার মনোনয়নপত্র প্রথমে বাতিল করে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী, রাজনৈতিক প্রার্থী মির্জার মনোনয়নপত্র বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিটও করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে তার নমিনেশনপত্র বৈধ বলে রায় দেয়া হয়।

 

কিন্তু এ জন্য মির্জা আব্বাসকে অহেতুক হয়রানির শিকার হতে হলো এবং তার অনেক সময় নষ্ট করা হয়েছে। এটা কি স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে, রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে অনাকাক্সিক্ষত বাধা নয়? মিডিয়ায় প্রচারিত খবর থেকে জানা যায়, মির্জা আব্বাসের বাড়ির সামনে থেকে নির্বাচনী কার্যক্রমে আসা দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সংস্থার লোকেরা আটক করে নিয়ে যাচ্ছে। তারপর গায়েবি মামলা, জেল-জুলুম। ঢাকা-৮ ও ঢাকা-৯-এ দু’টি নির্বাচনী আসনের বাড়িঘর থেকে নেতাকর্মীদের প্রতিদিন গ্রেফতার করা হচ্ছে, এমনকি তাদের পরিবারের অভিভাবকদেরও শাসাচ্ছে পুলিশ। এসব কি গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথে বড় বাধা নয়?

 

গত ১১ ডিসেম্বরে ঢাকা-৯ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাসের গণসংযোগকালে মাদারটেকে হামলা চালিয়ে তার গাড়ি ভাঙচুর এবং নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। তাকে গণসংযোগ করতে দেয়া হয়নি। ১৫ ডিসেম্বর নির্বাচনী গণসংযোগকালে সেগুনবাগিচায় লাঠি, রড, চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ কিছু সন্ত্রাসী তার ওপর আক্রমণ চালায়। মিডিয়ার মাধ্যমে দেশের মানুষ দেখেছে, মির্জা আব্বাসের মতো একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতার ওপর কিভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে। তিনি আল্লাহ তায়ালার অসীম রহমতে প্রাণে বেঁচে গেছেন। আব্বাসের ওপর কিংবা তার বাড়িতে ফের আক্রমণ হতে পারে, এই আতঙ্কে রয়েছেন ঢাকা-৮ ও ঢাকা-৯ নির্বাচনী আসনের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।

উৎস:নয়া দিগন্ত

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে