১৯শে জুন, ২০১৯ ইং ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
ঝিনাইদহে কোটচাঁদপুর যুবকের গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার তালতলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চেয়ারম্যান পদে... চারঘাটে বিদায় সংবর্ধনায় সিক্ত হলেন জেলা প্রশাসক শাহপরান হত্যা: শার্শা থানার স্বীকৃতি প্রাপ্ত দালাল... আওয়ামীলীগ জোর করে ক্ষমতায় এসে জনগণের উপর জুলুম শুরু...

আদালতের নির্দেশ অমান্য,নগরীর শুলকবহরে চলছে বহুতল ভবন নির্মাণ

 জে জাহেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সমকাল নিউজ ২৪

চট্টগ্রামে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ২০০ শতাংশ জমিতে প্রভাবশালীরা জোরপুর্বক ভবন নির্মাণ কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে এনিয়ে অভিযোগ করা হলে ভবন নির্মাণে ও স্থিতিবস্থার নিষেধাজ্ঞা জারি করে উচ্চ আদালত। কিন্তু সোমবার (১৫মার্চ) সকাল ১০টার দিকে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে একটি পক্ষ।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবনের নির্মাণ কাজ করায় আদালত অবমাননা হচ্ছে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী আশীষ মিত্র। তিনি বলেন, নির্মাণ কাজ বন্ধ না হলে আইন লঙ্গন ও বিবাদের আশঙ্কা রয়েছে।

সুুত্রে জানা যায়, বিরোধীয় জমিতে উভয় পক্ষের মধ্যে স্থিতিবস্থা বজায় রাখতে আদেশ প্রদান করেছেন ৫ম সিনিয়র সহকারী জজ আদালত চট্টগ্রাম। মামলার বাদি অভিযোগ তুলেছেন পাঁচলাইশ থানার ওসিকে আদালতের এ আদেশ দেখিয়ে অভিযোগ করলেও তিনি তা মানতে নানা গড়িমসি শুরু করেছেন। আর অপরদিকে বিবাদীপক্ষ পুরাদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে ভোক্তভোগি হোসনে আরা বেগমের অভিযোগ।

জানা যায়, বিজ্ঞ আদালতে বিগত বছরের ১৮ নভেম্বর করা মামলার বাদি আজিজুর রহমান যিনি বর্তমানে অসুস্থ। জমি সংক্রান্ত বিরোধে বিবাদী বদিউল আলম সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রতিকারের আশায় ১৯৩/১৮ নং মামলাটি দায়ের করেন।

এমনকি মামলার তপশীলোক্ত ভ‚মিতে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ও স্থিতিবস্থা বজায় রাখতে ৩১শে জানুয়ারী ২০১৯ ইং তারিখে আদালত এ আদেশ জারি করেন। বাদির অভিযোগ প্রভাবশালীরা কিছুতেই তা কর্ণপাত না করে প্রতিপক্ষের গাছপালা কেটে বিরোধীয় জমি জোর জবর দখল ও স্থাপনা নির্মাণের লিপ্ত রয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার চকবাজারের শুলকবহর এলাকার মফিজুর রহমানের বাড়িতে।

এ নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন মুর্হুতে ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। কেননা একই জমিজামার বিরোধে এর পুর্বেও দুইপক্ষের মধ্যে নানা সালিশী বৈঠক ও আপোষ মিমাংসার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। ফলে যে কোন মুহুর্তে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কার কথা জানালেন আশেপাশের লোকজনও।

এদিকে আদালত দুপক্ষ’কে স্থিতিবস্থার আদেশ প্রচার করলেও বিবাদীগণ জোর পুর্বক জমিতে স্থাপনা তৈরি করতে লিপ্ত হলে এবিষয়ে অবগত করে গত ১লা এপ্রিল বাদীপক্ষ স্থানীয় পাঁচলাইশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তখন বিষয়টির ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব পড়ে সংশ্লিষ্ট থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল মোতালেবের উপর কিন্তু উক্ত কর্মকর্তা ও পাঁচলাইশ থানার ওসি কোন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জমি বেদখল হচ্ছে এমন আশঙ্কায় এর ৭দিন পর ৯ মার্চ (উত্তর) উপ পুলিশ কমিশনারের নিকট পুনরায় ভোক্তভোগিরা অভিযোগ নিয়ে যান।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, হোসনে আরা বেগম নিরুপায় হয়ে আদালতের আদেশ সহ প্রতিকার চেয়েছেন বিবাদী বদিউল আলম সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের। অভিযোগটি চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (উত্তর বিভাগ) উপ পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক আমলে নিয়ে ১৯৪/পিপিএন স্মারকমূলে বাদীকে আইনানুগ সহায়তা প্রদান করতে পাঁচলাইশ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

কিন্তু বিষয়টি জানার পরও স্ব স্ব অবস্থানে থাকতে এবং জমির স্থিতিবস্থা বজায় রাখতে পাঁচলাইশ থানার পুলিশ কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে প্রভাবশালীরা আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে ভ‚মিতে কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভোক্তভোগির ছেলে বেলায়েত হোসেন জনি (২৭) জানায়, ‘আদালতের নির্দেশনা পেয়ে বরং প্রতিপক্ষরা আরো বেপরোয়া ও নানা হুমকি দমকি দিচ্ছেন।’ বাদী আজিজুর রহমানের স্ত্রী হোসনা আরা বেগম (৫৫) বলেন, ‘স্থানীয় পুলিশ আদালতের আদেশ পাওয়ার পরও কাজ বন্ধ করতে গড়িমসি শুরু করার ফলে আমাদের ভিটেবাড়ির জমি বেদখল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার জন্য প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করার কথা ভাবছি’।

ঘটনাসুত্রে ও সরেজমিনে দেখা যায়, প্রভাবশালীরা জমিটি দখলে নিতে অসহায় পরিবারটির ভিটেবাড়িতে থাকা গাছপালা কেটে সাবাড় করে ফেলেছে এবং রাতারাতি স্থাপনা নির্মাণের লক্ষে জমিতে ইট, পাথর, লোহা ও কংক্রিট মজুদ করেছে।

এ বিষয়ে বাদির আইনজীবি এডভোকেট আশীষ মিত্র জানান, ‘পাঁচলাইশ থানাধীন শুলকবহর এলাকার আজিজুর রহমান বাদী হয়ে আব্দুল গণি বিবাদীগণের বিরুদ্ধে জমিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রার্থানা করিলে বিজ্ঞ ৫ম আদালত অন্তবর্তীকালীন বাদি ও বিবাদীকে জমির স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। এ আদেশ অমান্য করে যে কেউ তপশীলোক্ত সম্পত্তিতে নির্মাণ কাজ করা আদালত অবমাননার শামিল বলে মনে করি।’

বাদি আজিজুর রহমান (৫৭) দাবী করেন পাঁচলাইশ থানার পুলিশ আইনী ব্যবস্থা না নিয়ে বিবাদীগণকে বিরোধীয় ভ‚মিতে কাজ করার সুযোগ দিয়ে সুরক্ষা দিচ্ছেন।

অপরদিকে জানতে চাইলে অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. মোতালেব বলেন, ‘আদালত সরাসরি আমাদের কোন আদেশ দেয়নি। তবে দুপক্ষের জন্য স্থিতিবস্থার আদেশ ছিল ৫ম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের আর বিবাদী পক্ষের সর্বশেষ আদেশ দেখলাম ৩য় যুগ্ন জজ আদালতের। ফলে আমরা শেষের আদেশটা ফলোও করতেছি যাতে উচ্চ আদালত অবমাননা না হয় যদিও জানা মতে দুইপক্ষই কাজ করতেছে।’ অপরদিকে এডভোকেট আশীষ মিত্র বলেন, ‘দুটিই ফাইলিং কোর্ট দুটি আদেশ-ই-হলো বিরোধীয় জমিতে কাউকে প্রবেশ না করা।’

এমনকি ইতিপূর্বেও বিজ্ঞ ৫ম সিনিয়র সহকারী জজ আদালত উভয় পক্ষের উপর আগামী ৯ই মে মাস পর্যন্ত স্থিতিবস্থার আদেশ প্রচার করেন। তার পরেও জমিতে কাজ করতেছে বলে অভিযোগকারীনি এমন বেআইনী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পাঁচলাইশ থানার আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভূইয়া জানান, ‘আদালতের আদেশ অমান্য করে কে কাজ করতেছে আর কে করতেছেনা সেটা আমার নলেজে নাই। অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বললে বিষয়টি জানতে পারব।’

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বশেষ
চট্টগ্রাম বিভাগের আলোচিত
ওপরে