২৬শে মে, ২০১৯ ইং ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
সদরঘাট জিম্মি ‘খলিফা বাহিনী’র হাতে কৃষকের ঘরে বিয়ের ১১ বছর পর এক সঙ্গে চার সন্তান বাংলাদেশীদের পদচারণায় জমজমাট কলকাতার ঈদ বাজার! স্বামী সন্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের... হঠাৎ কোটিপতি হয়ে যাওয়া এক নেতা

আমতলীতে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে পিটিয়ে আঙ্গুল ভেঙ্গে দিলেন ভাসুর।

 হায়াতুজ্জামান মিরাজ,আমতলী বরগুনা। সমকাল নিউজ ২৪

দুই কন্যা সন্তানের জননী আসমা বেগম (২৯) নামের এক গৃহবধুকে ভাসুর মুছা খাঁন পিটিয়ে আঙ্গুল ভেঙ্গে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত গৃহবধুকে শনিবার দুপুরে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে শনিবার বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া বৈঠাকাটা গ্রামে। শরীরের বিষম যন্ত্রনায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন গৃহবধু আসমা। টাকার অভাবে কর্মহীন অসচ্ছল স্বামী কলিমুল্লাহ স্ত্রীর ঔষধ কিনতে পারছেন না।

জানা গেছে, উপজেলার আঙ্গুলকাটা গ্রামের আজিজুর রহমান মুন্সির কন্যা আসমাকে ২০০৭ সালে বৈঠাকাটা গ্রামের গনি খাঁনের ছেলে কলিমুল্লাহ খানের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ভাসুর মুছা খাঁন ছোট ভাই কলিমুল্লাহ খাঁনের স্ত্রী আসমাকে মেনে নিতে পারেনি। ওই সময় থেকেই ছোট ভাইকে তার স্ত্রী আসমাকে তালাক দেয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল বড় ভাই মুছা। এতে রাজি হয়নি ছোট ভাই কলিমুল্লাহ। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার সকালে ভাসুর মুছা খাঁনের সাথে ছোট ভাইয়ের বউ আসমার সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ভাই মুছা খাঁন ছোট ভাই কলিমুল্লাহকে ডেকে তার স্ত্রী আসমাকে তালাক দেয়ার জন্য চাপ দেয়। বড় ভাইয়ের কথায় রাজি হয়নি কলিমুল্লাহ।

একপর্যায় ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ভাই ছোট ভাইকে মারধর শুরু করে। স্বামী কলিমুল্লাহকে রক্ষায় স্ত্রী আসমা বেগম এগিয়ে গেলে তাকে বেধরক মারধর করে। ভাসুরের মারধরে আসমার ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ভেঙ্গে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে ভর্তি করেছে। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গৌরাঙ্গ হাজড়া বলেন, গৃহবধু আসমার একটি আঙ্গুল ভেঙ্গে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।

গৃহবধু আসমা কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, আমার ভাসুর আমাকে তালাক দেয়ার জন্য আমার স্বামীকে বিভিন্ন সময় চাপ দেয়। আমার স্বামী তার কথায় রাজি হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ভাসুর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অযুহাতে আমাকে মারধর করে আসছে। গত তিন মাস পূর্বে পিটিয়ে আমার বাম পা ভেঙ্গে দেয়। তখন আমি কোন সুবিচার পাইনি। তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন এইবার সুবিচার না পেলে আত্মহত্যা করবো।

স্বামী কলিমুল্লাহ তার স্ত্রীকে বড় ভাই মুছা খাঁনের মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, দু’জনের কেউ কাউকে মানে না। পারিবারিকভাবে ঝগড়া হলে উভয় উভয়কে গালাগাল করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ভাই মারধর করেছে।

এ বিষয়ে মুছা খাঁনের সাথে যোগাযোগ করা হলে (০১৭২৫৬৩২১৬০) তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

আমতলী থানার ওসি মোঃ নুরুল ইসলাম বাদল (তদন্ত) বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
বরগুনা বিভাগের আলোচিত
ওপরে