২৩শে মার্চ, ২০১৯ ইং ৯ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
আমতলীর মরাজান খালের ব্রীজটি এখন মরণ ফাঁদ প্রধানমন্ত্রীকে ডাকসু ভিপি নূরের প্রথম উপহার ১২ বছরের ছাত্রকে দিয়ে চাহিদা মেটাতেন শিক্ষিকা জাপার নতুন যুগ্ম-মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় ওবায়দুল কাদের এখন শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ

আমতলী ও তালতলীতে কাল বৈশাখী ঝড়ে এক কোটি কাঁচা ইট নষ্ট, দুই শতাধিক ঘর বিধ্বস্থ।

 হায়াতুজ্জামান মিরাজ,আমতলী প্রতিনিধি। সমকাল নিউজ ২৪

কাল বৈশাখী ঝড়ে বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ৩০টি ইটভাটির এক কোটি কাটা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় ,কলেজসহ দুই শতাধিক ঘর বিধ্বস্থ।

বঙ্গোপসাগরের পায়রা নদীর মোহনায় ডুবে গেছে ১৬ টি মাছ ধরা ট্রলার। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তরমুজসহ রবি শস্য ক্ষেতের। সোম ও মঙ্গলবারের এ কাল বৈশাখী ঝড়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপড়ে পরেছে অসংখ্য গাছপালা। বিদ্যুতের খুটি ভেঙ্গে ও তাঁর ছিড়ে ১৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল বন্ধ।

জানাগেছে, সোমবার সকাল ছয়টার দিকে হঠাৎ কাল বৈশাখী ঝড় আঘাত হানে আমতলী ও তালতলী উপজেলায়। ২০ মিনিটের কাল বৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। ঝড়ের সাথে প্রচন্ড বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কাল বৈশাখী ঝড় থেমে গেলেও প্রায় দুই ঘন্টা চলে মুষলধারে বজ্র বৃষ্টি। এতে বঙ্গোপসাগরের পায়রা নদীর মোহনায় ১৬টি মাছ ধরা ট্রলার ডুবে যায়।

সোনাকাটা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আলমগীর হাওলাদার জানান সকল ট্রলার স্থানীয়রা উদ্ধার করেছে। দুই উপজেলায় ৩০টি ইটভাটায় প্রায় এক কোটি কাঁচা ইট পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান আমতলী পৌরসভার সাবেক মেয়র ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ নাজমুল আহসান নান্নু।

অপর দিকে উত্তর পশ্চিম চিলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বকুলনেছা মহিলা কলেজের আশিংক ক্ষতিসহ দুই শতাধিক ঘর বিধ্বস্থ হয়েছে। প্রচন্ড বৃষ্টিতে তরমুজসহ রবি শস্য ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কৃষকরা। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ছিড়ে যাওয়ার সোমবার সকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আমতলী পৌর শহরের বাসুগী গ্রামের শাহজাহান মিয়া ও মাসুদ মীর ,বাধঘাট চৌরাস্তায় শহিদ মিয়া, হলদিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম স্বপন, ছুরিকাটা গ্রামের হায়াতুজ্জামান মিরাজ, খালেদা খানম, গোজখালী গ্রামের আল আমিন খলিফার ঘরসহ পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দুই শতাধিক ঘর বিধ্বস্থ হয়ে গেছে। ইটভাটির কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে। অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে পরেছে।

চাওড়া কাউনিয়া গ্রামের জিয়া উদ্দিন জুয়েল জানান, কাল বৈশাখী ঝড়ে অনেক গাছপালা ভেঙ্গে গেছে। রবি ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে।

আমতলী পৌর শহরের বাসুগী গ্রামের শাহজাহান মিয়া জানান, কাল বৈশাখী ঝড়ে আমার ঘরটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্থ হয়ে গেছে।
গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী এলাকার আইএসএসবি ইটভাটির পরিচালক মোঃ ফারুক গাজী জানান, বৃষ্টিতে আট লক্ষ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে।

আমতলী পৌরসভার সাবেক মেয়র ইটভাটির মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ নাজমুল আহসান নান্নু জানান, বৈশাখী ঝড়ে প্রায় এক কোটি কাচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম বদরুল আলম বলেন, এখনও তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে আরো বৃষ্টিপাত হলে ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, কাল বৈশাখী ঝড়ে ক্ষতির প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
বরগুনা বিভাগের সর্বশেষ
বরগুনা বিভাগের আলোচিত
ওপরে