৫ই জুন, ২০২০ ইং ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
চলতি মাসেই পোশাক শ্রমিক ছাঁটাই হবে : রুবানা হক বগুড়ায় সাংবাদিক অধ্যাপক মোজাম্মেল হকে’র মৃ’ত্যু সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জন্য দোয়া চেয়েছেন মোহনপুর... ভারত সীমান্তে পারমাণবিক অ’স্ত্রের সমাবেশ চীনের! এমপি ফজলে করিমের ভাইয়ের মৃ’ত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক!

আম্পান মোকাবেলায় সংবাদ সম্মেলন বরগুনার ৬১০ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত : মোতায়েন থাকবে যুদ্ধ জাহাজ ও ল্যান্ডিং ক্রাফট

  সমকালনিউজ২৪

এম. মজিবুল হক কিসলু. বরগুনা থেকে ::

বরগুনায় আম্পান মোকাবেলায় মঙ্গলবার ১২ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভু, পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন, নোবাহিনীর কমান্ডার ইমরান হোসেনসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকগণ।

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতাসহ ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনার জন্য একটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি ল্যান্ডিং ক্রাফট মোতায়েন রাখবে নৌবাহিনী। ইতিমধ্যে বরগুনায় ছয়টি উপজেলায় ২৫ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলায় মোট ছয় ৬১০ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় তিন লাখ স্থানীয় অধিবাসীসহ ২০ হাজার গবাদি পশু-পাখি আশ্রয় নিতে পারবে।

এছাড়াও আশ্রয় কেন্দ্রের আওতায় থাকবে বরগুনার সকল ভবন ও মসজিদ সমূহ। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সামাজিক দূরত্ব মানতে বাধ্য করা হবে আশ্রয় প্রার্থীদের।

তিনি আরও বলেন, জেলায় কৃষকের উৎপাদিত বোরো ধানের মধ্যে ৮০ ভাগ ধান ইতিমধ্যেই ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছ। এছাড়াও শতভাগ তরমুজ, মুগডাল এরং সূর্যমুখী কৃষকরা ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে ভুট্টার ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পরিপক্ক না হওয়ায় মাত্র ৫০ ভাগ ভুট্টা আমরা ঘরে তুলতে পেরেছি। এছাড়াও বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে জেলা জুড়ে। কিন্তু পরিপক্ক না হওয়ায় বাদাম ঘড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করবো ঘূর্ণিঝড় পরবর্তি সময় যাতে ক্ষেতে পানি জমে না থাকে, সে ব্যবস্থা করা।

বেড়িবাঁধের নাজুক অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, বরগুনা জেলায় প্রায় ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যেই আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করার জন্য চারটি টিম গঠন করেছি। এই টিম চারটি দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামত কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

এছাড়াও সমুদ্রের অবস্থানরত সকল মাছ ধরার ট্রলার ইতোমধ্যেই আমরা নিরাপদ আশ্রয় নিতে সক্ষম হয়েছি। কিছু কিছু ট্রলার এখনও নিরাপদ আশ্রয়ে না গেলেও সেগুলো নিরাপদ স্থানের খুব কাছাকাছি থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর কবল থেকে প্রাণ হানি কমাতে বরগুনার নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী বাসিন্দাসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের বাসিন্দাদের সন্ধ্যার আগেই আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হবে। আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে আশ্রয় নেয়া সাধারণ মানুষের জন্য ইফতারসহ রাতের খাবার এবং সেহরির আয়োজন করবে জেলা প্রশাসন। বেড়িবাঁধের নাজুক অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, বরগুনা জেলায় প্রায় ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যেই আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করার জন্য চারটি টিম গঠন করেছি। এই টিম চারটি দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামত কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়াও সমুদ্রের অবস্থানরত সকল মাছ ধরার ট্রলার ইতোমধ্যেই আমরা নিরাপদ আশ্রয় নিতে সক্ষম হয়েছি। কিছু কিছু ট্রলার এখনো নিরাপদ আশ্রয়ে না গেলেও সেগুলো নিরাপদ স্থানের খুব কাছাকাছি থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বরগুনায় দায়িত্ব প্রাপ্ত নৌবাহিনীর কমান্ডার ইমরান বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আমরা বরগুনা বাসির পাশে ছিলাম। ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর সময়ও আমরা বরগুনা বাসীর পাশে থাকবো। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই নৌবাহিনীর ৬ টি যুদ্ধজাহাজ উপকূলের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে উদ্ধার তৎপরতাসহ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের জন্য। মোতায়েনরত এসব জাহাজের মধ্যে একটি জাহাজ বরগুনা জেলায় অভিযান পরিচালনা করবে। এছাড়াও বরগুনায় একটি ল্যান্ডিং ক্রাফট (সামরিক উভচর বাহন) মোতায়ন করা হয়েছে। এই ল্যান্ডিং ক্রাফটি ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযানসহ ত্রাণ তৎপরতায় ব্যবহার করা হবে। পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, পুলিশ বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তি সময় যদি গাছপালা পরে সড়ক বন্ধ হয়ে যায় সেজন্য পুলিশ ইলেক্ট্রিক করাত প্রস্তত রেখেছে। দ্রুত সময় গাছপালা অপসরণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, আমরা সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছি। শুধু আমাদের একটাই অনুরোধ সাধারণ মানুষ যেন আমাদের কথা রাখেন। আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা যেন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। তারা যদি স্বেচ্ছায় ও নিরাপদ আশ্রয় না যান তাহলে আমরা বল প্রয়োগ করতে বাধ্য হব।

তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাসের এই মহামারীর মধ্যে এরকম একটি ঘূর্ণিঝড় আমাদের চরম বিপাকে ফেলে দিয়েছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। তাছাড়া সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত মজুদও রয়েছে।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
বরগুনা বিভাগের সর্বশেষ
বরগুনা বিভাগের আলোচিত
ওপরে