২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বগুড়ার অ’বৈধ স্থা’পনা উ’চ্ছেদ করলেন ইউএনও ভ্রা’ম্যমান আদালত অ’ভিযান চালিয়ে দু’টি... ছাত্র-ছাত্রীদের ভোটের মাধ্যমে সেরা শিক্ষক নির্বাচিত স্কুল শিক্ষিকা জয়ন্তী রানী’র হ’ত্যাকারীদের ফা’সির... ভূরুঙ্গামারীতে কিশোরীকে ধ’র্ষণ শেষে হ’ত্যার...

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিনগুন যাত্রী নিয়ে আমতলী লঞ্চঘাট ত্যাগ করেছে ঢাকাগামী লঞ্চ এমভি হাসান হোসেন

 হায়াতুজ্জামান মিরাজ,আমতলী, সমকাল নিউজ ২৪

পবিত্র ঈদুল ফিতরের এক সপ্তাহ পড়েও ভীর কমছে না আমতলী থেকে ঢাকাগামী লঞ্চে। ঈদে নাড়ীর টানে পরিবার পরিজনের কাছে আছে ছুটে আসা মানুষগুলো কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারনে এখনো অনেক মানুষ কর্মস্থলে যেতে পারেনি। যে কারনে এখন লঞ্চে উপচে পড়া ভীর লক্ষ্য করা গেছে। ধারন ক্ষমতার তিনগুন যাত্রী নিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) আমতলী ঘাট ত্যাগ করেছে এমভি হাসান হোসেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আছে লঞ্চ ষ্টাফদের বিরুদ্ধে। এ সুযোগে দালালদের কাছে থেকে লঞ্চের ডেকের জায়গা কিনতে হচ্ছে এ রুটে চলাচলকারী ভুক্তভোগী যাত্রীদের।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে আমতলী লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখাগেছে, লঞ্চে উপচে পড়া ভীর। ঈদ করতে পরিবার পরিজনের কাছে ছুটে আসা মানুষগুলোর কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছে। ঈদ করতে আসা মানুষগুলোর জন্য বি আই ডব্লিউ টিএ ও লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তুু কর্মস্থলে ফিরে যেতে কোন অতিরিক্ত লঞ্চের ব্যবস্থা নেয়নি । যে কারনে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এমভি হাসান হোসেন লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লঞ্চটি বিকাল ৪টায় আমতলী লঞ্চঘাট ত্যাগ করার কথা থাকলেও দুপুর ২টায় আমতলী লঞ্চঘাট ত্যাগ করে। এ লঞ্চটির ধারন ক্ষমতা ৩৬৫ জন থাকলেও লঞ্চটিতে যাত্রী উঠিয়েছে প্রায় ১২ থেকে ১৩’শ। যা ধারণ ক্ষমতার প্রায় তিনগুন। এছাড়া সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে লঞ্চ মালিক পক্ষ। ঈদের পূর্বে এ রুটে চলাচলকারী লঞ্চেগুলোর সিঙ্গেল কেবিন ভাড়া নিত ১ হাজার টাকা এখন নিচ্ছে ১২’শ থেকে ১৫’শ পর্যন্ত। ডাবল কেবিন ভাড়া নিত ২ হাজার এখন নিচ্ছে ২২’শ থেকে ২৫’শ টাকা। ডেকের ভাড়া যাত্রী প্রতি ৩’শ টাকা পরিবর্তে ৩’শ ৫০ থেকে ৪’শ টাকা নিচ্ছে।

উপজেলার কুকুয়া গ্রামের মতিন মোল্লা জানান, ঢাকা যেতে একটি ডাবল কেবিন ২৫’শ টাকায় বুকিং করেছি।

ডেকের যাত্রী হালিমা, জাহানারা, ময়জদ্দিন, গনি মিয়া বলেন সব সময় ডেকে ৩’শ টাকা ভাড়া নেয়। এখন নিচ্ছে ৩’শ ৫০ টাকা। আবার কারো কারো কাছ থেকে ৪’শ টাকাও নিচ্ছে।

ধানখালী ইউনিয়নের যাত্রী ইমরান ও হাসান মিয়া বলেন, অতিরিক্তি যাত্রী বোঝাইর ফলে লঞ্চে তিল পরিমান জায়গা নেই। তারা ডেকে যায়গা না পেয়ে ছাদে অবস্থান নিয়েছেন।

হলদিয়ার নূর মোহাম্মদ হাওলাদার বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে ঢাকা যাচ্ছি।

হাসান হোসেন লঞ্চের সুপার ভাইজার মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী বহন করা হচ্ছে না। যাত্রীর চাপ একটু বেশী থাকায় নির্ধারিত সময়ের পূর্বে ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে দিতে হচ্ছে।

আমতলী লঞ্চঘাটের টোল আদায়কারী মোঃ কনু মিয়া বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) আমি ৮’শ লোকের ঘাট টিকেট কেটেছি। কম হলেও এ লঞ্চে ১২’শ থেকে ১৩’শ যাত্রী উঠেছে।

আমতলী লঞ্চঘাটের সুপার ভাইজার শহিদুল ইসলাম বলেন, আজকে লঞ্চ এমভি হাসান হোসেন-১ দুপুর ২টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে আমতলী থেকে ছেড়ে গেছে।

বরগুনা বি আই ডব্লিউ’র সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ মুঠোফোনে বলেন, এ ঘাটে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও লঞ্চে বেশী ভাড়া আদায় দেখার জন্য প্রশাসনের লোক রয়েছে। এটা তারাই দেখতেছেন।

আমতলী থানা’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবুল বাশার বলেন, যাহাতে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী উঠাতে না পারে সেজন্য ঘাটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ মজুমদার বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী ও ভাড়া নেয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ২/১ দিনের মধ্যে মোবাইল কোর্ট করে ব্যবস্থা নেবো।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
বরগুনা বিভাগের আলোচিত
ওপরে