৬ই জুন, ২০২০ ইং ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
চলতি মাসেই পোশাক শ্রমিক ছাঁটাই হবে : রুবানা হক বগুড়ায় সাংবাদিক অধ্যাপক মোজাম্মেল হকে’র মৃ’ত্যু সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জন্য দোয়া চেয়েছেন মোহনপুর... ভারত সীমান্তে পারমাণবিক অ’স্ত্রের সমাবেশ চীনের! এমপি ফজলে করিমের ভাইয়ের মৃ’ত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক!

ঈশ্বরগঞ্জে সুদের টাকা আদায় করতে বসত ঘরে তালা দাদন ব্যবসায়ীর

  সমকালনিউজ২৪

উবায়দুল্লাহ রুমি, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের বড় ডাংরী গ্রামের নিরীহ জামির উদ্দিনের বসত ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে একই গ্রামের দাদন ব্যবসায়ী আনিস মিয়া। এব্যপারে দাদন ব্যবসায়ী আনিস মিয়ার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামির উদ্দিন মামলা দায়ের করেছেন। মামলা সুত্রে জানা যায় জামির উদ্দিনের ছেলে জুলহাস উদ্দিন গাড়ী ব্যবসার জন্য প্রায় দুই বছর আগে একই গ্রামের আব্দুল মতিন মিয়ার পুত্র আনিস মিয়ার কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা সুদি নেয়। প্রতি মাসে তাকে ত্রিশ হাজার টাকা করে সুদ দেয়ার কথা। কিন্তু গাড়ীতে আয় উপার্জন কম হওয়ায় জুলহাস ত্রিশ হাজার করে আঠারো মাস পর্যন্ত সুদের লাভ পরিশোধ করেন। দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ করার পর আয়ের সাথে সুদের লাভের সঙ্গতি না থাকায় দিন দিন সুদের হার জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। অপরদিকে কোম্পানি থেকে কিস্তিতে নেয়া গাড়ী দুটির কিস্তি সময় মত পরিশোধ করতে না পারায় কোম্পানি গাড়ী দুটি নিয়ে যায়। এতে জুলহাস দিশেহারা হয়ে পড়েন। অর্থ সঙ্কটের কারণে জুলহাস পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এদিকে দাদন ব্যবসায়ী আনিস টাকা আদায়ের জন্য জুলহাসকে না পেয়ে ৪-৫ জন লোক নিয়ে জুলহাসের বাবা জামির উদ্দিনকে তার কর্মস্থল নরসিংদী থেকে তুলে নিয়ে আসে বড় ডাংরী গ্রামে। গত ২৮ অক্টোবর রবিবার এলাকার লোকজন নিয়ে একতরফা একটি দরবারে জুলহাসের হিস্যার বাড়ীর জমি টুকু রেজিস্ট্রি করে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। ওই দিন জামিরের বসত ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে জামিরকে ঈশ্বরগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে এসে অস্রের মুখে পাঁচটি অলিখিত ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বলে আনিস। অস্র ও প্রাণ ভয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ৫ টি খালি ষ্ট্যাম্পে জামির স্বাক্ষর করেন বলে জানান। ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ছাড়া পাওয়ার পর স্বাক্ষরিত ষ্ট্যাম্প গুলো উদ্ধারের জন্য জামির গত ২৯ নভেম্বর ময়মনসিংহ নির্বাহী ম্যাজিঃ আদালতে আনিস সহ অজ্ঞাত নামা ৪-৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন এবং ঈশ্বরগঞ্জ থানায়ও একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে থানার এএসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুম ঘটনা স্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান বলে জানান। দাদন ব্যবসায়ীর ভয়ে জামির ও তার ছেলে জুলহাস বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। একমাস অতিবাহিত হওয়ার পরও জামিরের ঘরের দরজায় দাদন ব্যবসায়ীর তালা ঝুলছে।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে