১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
ঝালকাঠিতে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে হা’মলায় আহত... অ’পহরণের ৫ দিন পর ঠাকুরগাঁও থেকে তরুণীকে উ’দ্ধার বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট... র‌্যাবের অ’ভিযানে ২৫৬০ পিস ই’য়াবাসহ ব্যবসায়ী... দুর্গাপুরে হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতা

উজিরপুরের গুঠিয়ার সন্দেশ স্বাদে ও ঘ্রাণে অনন্য…

  সমকালনিউজ২৪

রাহাদ সুমন,বানারীপাড়া(বরিশাল)প্রতিনিধি ::   বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়ার সুখ্যাতি অনেক পুরোনো। আর তা সুস্বাদু এক সন্দেশের জন্য।স্বাদে অনন্য এ সন্দেশে লেগে থাকে গরুর দুধের টাটকা ঘ্রাণ। এই সন্দেশ গুঠিয়ার অর্ধশত বছরের ঐতিহ্য।জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া থেকে সন্দেশ তৈরির কৌশল শিখে আসেন গুঠিয়া এলাকার সতীশ চন্দ্র দাস নামের এক ময়রা। সেই কৌশলের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি ১৯৬২ সালে তৈরি করেন এই সন্দেশ,যা এখন গুঠিয়ার সন্দেশ নামে পরিচিত।

সতীশ চন্দ্র বহু বছর আগে কলকাতায় চলে যান এবং সেখানেই মারা যান। কিন্তু তাঁর বিখ্যাত সন্দেশের ঐতিহ্য ধরে রাখেন এখানকার বেশ কয়েকজন ময়রা। বাদশা হাওলাদার তাঁদেরই একজন। তাঁর বয়স এখন ৮০ ছুঁই ছুঁই। বিখ্যাত এই সন্দেশের প্রস্তুত প্রণালি শিখিয়েছেন তার ছেলে শাওন হাওলাদারকে (৪০)। শাওন জানালেন সন্দেশ তৈরির প্রক্রিয়া।

সাধারণত ৬-৭ কেজি দুধে ১ কেজি ছানা পাওয়া যায়। সেই ছানার সঙ্গে ১ কেজি চিনি মিশিয়ে অল্প জ্বাল দিতে হয়। ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর পাকিয়ে অল্প আঁচে ৫ মিনিট রাখলেই কাঁচামাল তৈরি। তা পরিমাণমতো নিয়ে কাঠের ওপরে রেখে সন্দেশের আকার দেওয়া হয়।

সন্দেশ তৈরিতে পরিমাণমতো আঁচ ও পাকই হলো মূল।গুঠিয়া বাজারে ৬-৭ জন এখনো এই সন্দেশের ঐতিহ্য আঁকড়ে আছেন। তাঁদের মধ্যে পরিমল চন্দ্র, অমল ময়রা অন্যতম।

এখানের ময়রারা বললেন, খাঁটি ছানা ও চিনি ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার না করায় এই সন্দেশ সুস্বাদু।বরিশাল নগরীর বিভিন্ন দোকানে গুঠিয়ার সন্দেশ মেলে।

এগুলো নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অনেক ক্রেতা এখনো বরিশাল শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরের গুঠিয়া সেতু– সংলগ্ন বাজারে ছুঁটে যান সন্দেশ কিনতে। পার্শ্ববর্তী বানারীপাড়া,বাবুগঞ্জ ও ঝালকাঠি সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে সন্দেশ ক্রয় করতে আসেন।

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরতরা গ্রামের বাড়িতে আসলে পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্খীদের জন্য গুঠিয়ার সন্দেশ ক্রয় করে নিয়ে যান। দেশ থেকে স্বজনরা বিদেশেও প্রিয়জনের জন্য সন্দেশ পাঠান।

গুঠিয়া সন্দেশের কেজি সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। কেজিতে ২৫টির মতো সন্দেশ থাকে। শাওন হাওলাদার বলেন, শীতকালে এবং বৈশাখে সন্দেশের চাহিদা বাড়ে।

তিনি বলেন, ‘দুধ, চিনি এবং শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এখন খুব বেশি লাভ হয় না। তবু ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এর স্বাদ অটুট রাখতে মানের সঙ্গে আপস করি না।

 

‘বিদ্রঃ সমকালনিউজ২৪.কম একটি স্বাধীন অনলাইন পত্রিকা। সমকালনিউজ২৪.কম এর সাথে দৈনিক সমকাল এর কোন সম্পর্ক নেই।’

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
বরিশাল বিভাগের সর্বশেষ
বরিশাল বিভাগের আলোচিত
ওপরে