১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
রি’ফাত হ’ত্যা মা’মলার প্রধান আ’সামির জা’মিন... স্পেনে টাইগার মাদ্রিদের নতুন জার্সি উন্মোচন ও... দ্বিতীয় বারের মত শুভসন্ধ্যা সৈকতে হতে যাচ্ছে জোছনা উৎসব বরগুনা সরকারি কলেজে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সমাপ্ত ঝালকাঠিতে খাদ্য অধিকার আইনের দাবিতে সমাবেশ

উপজেলায় বিএনপি ভাঙার সুযোগ নেবে আ.লীগ

  সমকালনিউজ২৪
উপজেলায় বিএনপি ভাঙার সুযোগ নেবে আ.লীগ

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে ভোটের লড়াইয়ে নামতে ইচ্ছুক দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ তাদের ভাগিয়ে নিয়ে অন্য দলে ভেড়ানোর মাধ্যমে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করে দিতে চায় বলে ক্ষমতাসীন দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের দুই কেন্দ্রীয় নেতা জানান, উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির অনেক নেতা মুখিয়ে আছেন। দল নির্বাচনে না গেলে তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের দল ছাড়তে উৎসাহ দেওয়া হবে। এলাকা বুঝে কিছু ক্ষেত্রে এসব নেতাকে আওয়ামী লীগ ভিড়িয়ে নেবে। তবে এ সংখ্যা হবে তুলনামূলক কম। বেশিরভাগকে অন্য দলে ভেড়াতে কাজ করবেন তারা।

 

ক্ষমতাসীন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, দল টেকাতে হলে বিএনপিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আসতেই হবে। নির্বাচনের বাইরে থেকে তৃণমূলের শক্তিকে ধরে রাখতে পারবে না বিএনপি। তারা বিভিন্ন দলে ভিড়ে যাবে।

 

এই দাবির পেছনের যুক্তি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘দল-মত নির্বিশেষে ব্যক্তিগতভাবে অনেক এলাকা রয়েছে, যেখানে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনপ্রিয়। নির্বাচন এলে নিশ্চয়ই তারা দলের জন্য বসে থাকবে না, কোনো না কোনো দলে ভিড়বেই।’

 

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে দলটির অনেক নেতা বিকল্পধারা, এলডিপি, এমনকি ১৪-দলীয় জোটের অনেক শরিক দলে ভিড়বে। তাছাড়া জাতীয় পার্টি তো আছেই। এর মধ্য দিয়ে ওইসব দল তৃণমূল পর্যায়ে যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি দুর্বল করা যাবে বিএনপিকে। তাছাড়া খুব অল্পসংখ্যক নেতাকর্মীকে নজরদারি করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগেও নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, বিএনপির তৃণমূলের নেতারা দল ছাড়তে চাইলে তাদের নেওয়ার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে এরই মধ্যে প্রাথমিক আলোচনাও সেরেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নির্বাচনে না এলে কারা কারা দল ছাড়তে পারেন এবং মনোনয়ন পেলে জিততে পারেন সে বিষয়ে দলীয়ভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

 

নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়ায় ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছিল বিএনপি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নানা দাবি তুলে তাতে সাড়া না পেলেও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নতুন জোট গড়ে ভোটে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ের পর ‘ভোট ডাকাতি’র অভিযোগ তুলে পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন বিএনপির নেতারা।

 

এর মধ্যে আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন নিয়ে আইনি জটিলতা কেটে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশন ২৮ ফেব্রুয়ারি এই উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে। আর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন শুরু হচ্ছে আগামী মার্চ মাসে। কয়েক মাস ধরে পাঁচ ধাপে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।

 

দুই নির্বাচনই ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে আসবে কি না এটা তাদের দলের সিদ্ধান্ত। তবে এটুকু বলা যায়, বিএনপি নির্বাচনে না এলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারাই।’

 

সম্পাদকমণ্ডলীর দুই নেতা বলেন, উপজেলা নির্বাচনও আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণমূলক করতে চায়। সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে বলে প্রত্যাশা ক্ষমতাসীনদের। তাই সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে আওয়ামী লীগ।

 

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে। রাজনীতিক হিসেবে আমি তাই বুঝি। উপজেলা নির্বাচনে না এলে বিএনপি বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে