১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন... চাঁদপুরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে সভাপন্ড।... ছাতকে শ্রীপতিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা... বালু উত্তোলনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে জাফলং সেতু বিরামপুরে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালন

এই ফেনীতে কি এমন আছে? অন্যত্র বদলী হলেও ঘুরে ফিরে ফের একই জেলাতেই!

 আবদুল্লাহ রিয়েল,ফেনী/ সমকালনিউজ২৪

ফেনীর পুলিশ প্রশাসনে চরম সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব সিন্ডিকেটের হাতে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণের দাবি, ঘুরেফিরে একই জেলায় বেশ কিছু কর্মকর্তা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে হয়রানি, ঘুষ দুর্নীতিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। এতে করে একদিকে পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে জনমনে বিরাজ করছে ক্ষোভ। তাই এই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেয়ার দাবি করেছেন ভূক্তভোগীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বছরের পর বছর ঘুরেফিরে এই একই জেলায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে আসা বেশ কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এখানে নানা অনিয়ম ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে একই জেলায় অবস্থান করার ফলে ওইসব পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যেও এক ধরনের ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে উঠেছে। প্রভাবশালী বলয় তৈরি করা ফেনীর ওইসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে দায়িত্ব বা কর্তব্যে অবহেলা, অসহায় মানুষদের হয়রানি, মামলা, আটকসহ নানাভাবে হুমকি দিয়ে ঘুষ-দুর্নীতি করার মতো গুরুতর অভিযোগ। এসব নিয়ে মুখ খুললেও পুনরায় বিপদে পড়তে হয় ভুক্তভোগী বা সাধারণ মানুষদের।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে মিলেমিশে ফেনী পুলিশের একশ্রেণির কর্মকর্তা বা সদস্য নানা অনিয়ম ও অপকর্মে জড়াচ্ছেন। সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত রাফীর ওপর বর্বরতার ঘটনায় রাজনৈতিক সিন্ডিকেটে জড়িয়ে গিয়ে সোনাগাজীর তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন আসামিদের পক্ষে ভূমিকা পালন করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এমনকি ওসি মোয়াজ্জেমের পক্ষ নিয়ে আবার পুলিশ সদর দফতরে রাফীর পরিবারকেই দোষারোপ করে লিখিত চিঠি দেন ফেনীর তৎকালীন এসপি এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার। ফলে দুজনই শাস্তির মুখে পড়েছেন, সারাদেশে হয়েছেন ঘৃণ্য। ওসি মোয়াজ্জেমকে রংপুরে বদলী করায় তার বিরুদ্ধে তো রংপুরবাসী জুতামিছিল পর্যন্ত করেছে। রংপুরের বদলী বাতিল করে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত করতে দেয়া হয়েছে আল্টিমেটাম।

অভিযোগ আছে, এভাবেই প্রায় সব ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের মতো করেই চলছে ফেনীর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। বর্তমানে ফেনী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাশেদ খান চৌধুরী এক যুগের বেশি সময় ধরে এই একই জেলায় ঘুরেফিরে নানা পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৪ সালে ফেনী মডেল থানায় পিএসআই হিসেবে যোগদান করেছিলেন তিনি। এর কয়েক বছর পর পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পেলে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানায় অল্প কিছুদিন ছিলেন। সেখান থেকে ফের চলে আসেন ফেনী মডেল থানার অপারেশন অফিসার হিসেবে। এরপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি, সেখান থেকে জেলার ছাগলনাইয়া থানার ওসি, তারপর ফেনী মডেল থানার ওসি এবং সর্বশেষ বর্তমানে জেলা ডিবি পুলিশের ওসির দায়িত্ব পালন করছেন রাশেদ খান চৌধুরী।

অন্যদিকে ফেনী মডেল থানার বর্তমান ওসি আবুল কালাম আজাদ প্রায় ৯ বছর ধরে একই জেলায় কাজ করছেন। ওসির দায়িত্ব পাওয়ার আগে এই থানাতেই পরিদর্শক (তদন্ত) পদে নিয়োজিত ছিলেন। তার আগে জেলা ডিবি পুলিশের ওসি ও দাগনভূঞা থানার ওসির দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে সোনাগাজী মডেল থানার বর্তমান পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেনও ১৩ বছর ধরে এ জেলায় রয়েছেন। মাঝখানে অল্প কিছুদিন চাঁদপুরে থাকলেও ঘুরেফিরে ফেনীতেই চলে আসেন।

প্রায় ১০ বছর ধরে ফেনীতে বিভিন্ন পদে চাকরি করছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ডিআইও-১ পরিদর্শক শাহিনুজ্জামান। প্রথমে ফেনী মডেল থানায় এসআই হিসেবে যোগ দিলেও পদোন্নতির পরও ঘুরেফিরে একই জেলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তবে মাঝখানে এক বছর জাতিসংঘ শান্তি মিশনে ছিলেন তিনি। এ রকম আরও অনেক পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য আছেন যারা দীর্ঘদিন ধরেই ফেনী জেলায় চাকরি করছেন।

এ ছাড়া রাফীর ঘটনার পর প্রত্যাহারকৃত সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনও ফেনীতে ছিলেন প্রায় ছয় বছর। সোনগাজীর আগে ছাগলনাইয়া থানার ওসি এবং তার আগে ফেনী মডেল থানার ওসির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

পুলিশ ও ভূক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এখানে ব্যাপকহারে গণগ্রেফতার বা আটক-বাণিজ্যের ঘটনা ঘটে। ওই সময় ফেনীর হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন ও আবদুর রহিমকে ফেনী সদর থানা পুলিশ থানায় তিনদিন আটকে রাখে। এরপর দেনদরবার করে ৩ লাখ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় সাখাওয়াত ও রহিমকে। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ‘স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত’ কপিল উদ্দিনকে গ্রেফতারের পর তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে তার পরিবারের কাছে ১২ লাখ টাকা দাবি করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তী সময়ে দেনদরবারের মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নিয়ে কপিলকে কারাগারে পাঠানো হয়। দুই মাস আগে ভিআইওপি ব্যবসায়ী সন্দেহে (ছদ্মনাম) আকরাম হোসেনের কাছ থেকে ৫ লাখ নিয়ে তাকে ফেনী থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব অভিযোগের ব্যাপারে ফেনী শহরে ওপেনসিক্রেট আলোচনা হয়। তবে জড়িত কর্মকর্তাদের বিষয়ে ভয়ে কেউ মুখ খোলে না।

প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থাকার কারণে পুলিশের আন্তরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যার সাথে সুসম্পর্ক তাকে সবকিছু দিয়ে সহায়তা আর তার সাথে সুসম্পর্ক নেই তাকে ভ্রুক্ষেপও করা হয় না বলে অভিযোগ।

প্রশ্ন আছে আরোও একটা, এই ফেনীতে কি এমন আছে? যার জন্য একজন পুলিশ অফিসার এখানে ৮-১০ বছর চাকরী করছেন? আবার অন্যত্র বদলী হলেও কিছুদিনের মধ্যে ঘুরে ফিরে একই জেলাতেই আসছেন! অথবা কাদের ইশারার বাইরে পুলিশ প্রশাসনের কোন কর্মকর্তার বদলি কিংবা যোগদান হয় না?

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ফেনী বিভাগের সর্বশেষ
ফেনী বিভাগের আলোচিত
ওপরে