২২শে মে, ২০১৯ ইং ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
চাঁদপুরের কৃতি সন্তান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম... চাঁদপুরে কেরোসিনের আগুনে নববধূর মৃত্যু : আটক স্বামী। পত্নীতলায় মালঞ্চ কিন্ডার গার্টেন এন্ড হাইস্কুলের... আমতলীতে ধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেফতার “ফেনীর মীর আবদুল হান্নান চিরবিদায় “

একমাত্র স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ৪ লাখ মানুষের জন্য ডাক্তার ৫ জন ।

 বুলবুল ফরিদপুর প্রতিনিধি। সমকাল নিউজ ২৪

ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ মানুষের সেবা দিতে মাত্র ৫ ডাক্তার নিয়োজিত রয়েছেন। এ দুই উপজেলা একটি মাত্র স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এখানে ২১ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন। এ ছাড়াও জনবলের অভাবে প্রায় ১০ বছর যাবৎ এক্স-রে মেশিনসহ ল্যাব টেকনিশিয়ান যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার পথে। দুই উপজেলায় এ্যাম্বুলেন্স মাত্র একটি তাও আবার লক্কর জক্কর ভাবে চলছে।

জানাগেছে ৫০ শয্যা বিশিস্ট নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২১ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন। এর মধ্যে জুনিয়র কলসালটেন্ট (গাইনী ও অবস্) ডাঃ সংযুক্তা চৌধুরী ও এ্যানেসথেটিস্ট ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ২/৩ দিনের মধ্যে শিক্ষা প্রেষনে চলে যাচ্ছেন বলে হাসপাতাল সুত্রে জানাগেছে। ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর জুনিয়র কনসালটেন্ট(সার্জারী) ডাঃ নূর মোহাম্মদ শরীফ আস- শামস এ হাসপাতালে যোগদান করেই ২/১ দিন পর প্রেষনে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চলে যায়। এ ছাড়াও জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডাঃ মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসাইন ২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল যোগদান করলেও সাথে সাথে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে প্রেষনে চলে যায়। ১৬ টি পদ দীর্ঘদিন শুন্য থাকার ফলে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষ প্রত্যাশিত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলা সদরের বাসিন্দা জালাল উদ্দিন মিয়া বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসার যে অবস্থা মনে হচ্ছে দেখার কেউ নেই। ডাক্তার নেই ২/৩ জন যা আছে তারাও ঠিকমতো থাকেন না। স্বাস্থ্য সহকারীদের দিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।

জুঙ্গুরদী গ্রামের আসাদুজ্জামান বলেন, কয়েকদিন আগে আমার মাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। অপেক্ষা করে প্রায় একঘন্টা পর ডাক্তার পেয়েছিলাম।

এছাড়াও সেবীকাদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানান অভিযোগ। ইনজেকশন পুশ করতে রোগীদের নিকট টাকা দাবী করা হয়। না প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালে ভর্তি এক রোগী জানিয়েছেন নার্সদের টাকা না দিলে শরীরে ব্যাথা দিয়ে ইনজেকশন পুশ করান।

এছাড়াও ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৫ টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলোতে প্রত্যেকটি পদ শুন্য থাকায় গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষেরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপ-সহকারীদের দিয়ে কোন রকম চলছে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলো।

হাসপাতালে ১শত ১৯ জন কর্মচারীর পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৬৭ জন। নার্সিং সুপার ভাইজারে ২ টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন একজন। ২১ টি নার্স পদের স্থলে কর্মরত আছেন ১৮ জন।

হাসপাতালে অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার থাকলেও অভিজ্ঞ জনবলেন অভাবে তা বন্ধই থাকে। ফলে অপারেশনের যন্ত্রপাতি সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়া ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীদের আবাসিক ভবন জ¦রাজীর্ন ও পরিত্যক্ত হওয়ায় তাদেরকে ক্যাম্পাসের বাহিরে থাকতে হচ্ছে।

এ দুই উপজেলার মুমুর্ষ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরী ভিত্তিত্বে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়ার জন্য একটি মাত্র এ্যাম্বুলেন্স সেটি লক্কর জক্কর ভাবে চলছে। মুমুর্ষ রোগী বহনের সময় এ্যাম্বুলেন্সটি মাঝে মাঝে রাস্তায় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, একাধিকবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। ডাক্তার সংকটের কারনে নগরকান্দা ও সালথাবাসীদের চিকিৎসা দিতে আমাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ফরিদপুর বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে