২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৫ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
ঝালকাঠিতে ইলিশ নিধন অ’পরাধে তিন জেলেকে কা’রাদ’ন্ড বগুড়ায় সাংবাদিক পীর হাবিবের বি’রুদ্ধে অপপ্রচারের... আখাউড়ায় কমিউনিটি পুলিশিং সভা ও মা’দক বি’রোধী সমাবেশ... বানারীপাড়ার মেয়ে মৃত্তিকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র... জৈন্তাপুরে মা’দক ব্যবসায়ীদের হা’মলায় ৬ পুলিশ...

এক কেজি বেগুনের দাম মাত্র ১.৫ টাকা!

 অনলাইন ডেস্কঃ সমকালনিউজ২৪

‘লাভের আশায় এক লাক টেকা খরচ কইরা ৪ বিগা জমিত বেগুন লাগাইছিলাম। লাভ দূরে থাইক, এহন পন্ত মাত্র ৩০ হাজার টেকার বেগুন বেচবার পাইছি। এহন বেগুনের যে দাম তাতে বেগুন তুলার খরচও ওঠে না। তাই গরুর খাওনের জন্য বেগুন খেত ছাইড়া দিছি।’

 

হতাশ কণ্ঠে কথাগুলো বললেন জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার শাহাজাতপুর খানপাড়া গ্রামের বেগুনচাষি রেজা খান। শুধু রেজা খান নয়, উপজেলার অন্যান্য কৃষকেরও একই অবস্থা।

 

প্রতাব ঝগড়ি খানপাড়া গ্রামের কৃষক বেলাল খান ৩০ হাজার টাকা খরচ করে দেড় বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেন। বিক্রি করতে পেরেছেন মাত্র ১৫ হাজার টাকার বেগুন।

 

টুপকার চর গ্রামের চাষী মো. পারুলেরও মাথায় হাত। তিনি ৪০ হাজার টাকা খরচ করে আড়াই বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে, ঘরে তুলতে পেরেছেন মাত্র ২০ হাজার টাকা।

 

মেলান্দহ উপজেলার কৃষকদের মতো লোকসান গুনতে হচ্ছে জামালপুরের সাতটি উপজেলার বেগুন চাষিদের।

 

সরেজমিনে জামালপুরের মেলান্দহ স্টেশন বাজার এলাকার বেগুন হাট ঘুরে দেখা যায়, প্রতি মণ বেগুন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬০ টাকা দরে। অর্থাৎ প্রতি কেজি বেগুনের দাম মাত্র দেড় টাকা। হাটে আসা বেগুন চাষিরা নামমাত্র মূল্যে বেগুন বিক্রি করে ফিরে যাচ্ছেন হতাশ নিয়ে।

 

বাজারে বেগুন বিক্রি করতে আসা আফজাল উদ্দিন ও মো. জাহিদ মিয়া হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ধার-দেনা করে বেগুন চাষ করেছিলাম, এখন পর্যন্ত খরচের অর্ধেক টাকাও উঠাতে পারিনি। মূলধন লোকসান হওয়ায় আগামী মৌসুমে অন্য ফসল চাষ-আবাদ করতে গেলেও সুদে টাকা নিতে হবে।’

 

জামালপুরের চরাঞ্চলগুলোতে প্রতি বছর ব্যাপক হারে বেগুনের চাষ হয়ে থাকে। এ বছরও চার হাজার হেক্টর জমিতে আলগি, বল বেগুন, টালি বেগুন, শিংনাথ, পার্পাল কিংসহ বিভিন্ন জাতের বেগুন আবাদ হয়েছে।

 

এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বেগুনের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে যে হাসি ফুটেছিল তা মিলিয়ে গেছে বাজারে বেগুন বিক্রি করতে এসে। মৌসুমের শুরুতে কিছুটা দাম থাকলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে নামমাত্র দামে। তাই বাজারে না এনে বেশির ভাগ চাষিই ক্ষেতে ফেলে রেখেছেন তাদের বেগুন গো-খাদ্য হিসেবে।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা এবার বেগুনের বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তবে একসঙ্গে সব বেগুন উৎপাদনে আসায় এবার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা। দেশে বেগুন সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার না থাকায় এসব বেগুন সংরক্ষণেরও কোনো সুযোগ নেই।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
অর্থনীতি-ব্যবসা বিভাগের আলোচিত
ওপরে