২১শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বগুড়ায় ছেলে ধরা সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পুলিশে সোপর্দ বরগুনায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা... কোটচাঁদপুরে অবৈধ গর্ভপাতের মূলহোতা রিনা পারভিন আটক মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর # রিফাত হত্যাকারীদের... মিন্নির জামিন নামঞ্জুর

কর্ণফুলীতে মাদকের বিরুদ্ধে ইউএনও’র অভিযান:, ইছানগরের রহস্যময় দুই আলিশান বাড়িতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান

 জে. জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো। সমকাল নিউজ ২৪

কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটার ইছানগরে গড়ে ওঠা রহস্যময় দুই আলিশান বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫টি সিসিটিভি জব্দ ও ১৩দিনের মধ্যে ভাড়াটিয়াদের বাসা ছাড়ার মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

১২ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার দুপুর ১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সামশুল তাবরীজ এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের এই ভ্রাম্যমান আদালতের সহযোগিতায় ছিলেন কর্ণফুলী থানার ওসি তদন্ত মো. হাসান ইমাম, এসআই মো. দিদার হোসেন, এসআই মোহাম্মদ আলম খাঁন, এএসআই মো. জুবায়ের হোসেন, এএসআই আশুতোষ চন্দ্র সরকার, এএসআই রফিকুল ইসলাম সহ সঙ্গীয় ফোর্স ও স্থানীয় চৌকিদার।

জানা যায়, কয়েকদিন আগেও দু’বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। দু’বাড়ির প্রকৃত মালিকেরা সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানের সময় বিদেশে পালিয়ে যায় বলে প্রচার রয়েছে।

তবে তাদের বৈধ ব্যবসার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। মূলত মাদক ব্যবসার আয়ে এই রহস্যময় দুটি বাড়ি তৈরী করেন বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। অভিযানকালে দু’বাড়িতে ভাড়াটে কিছু মহিলা ও শিশু সন্তান সহ কাউকে পাওয়া যায়নি। মৌখিক ভাবে দু ভবনের সকল ভাড়াটিয়াকে আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে বাসা ছাড়ার নিদের্শনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অন্যতায় পর্যায়ক্রমে গ্যাস বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বন্ধ করা হবে বলে সর্তক করেন তাদের।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরীজ জানান, ‘মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইছানগরের দুই আলিশান বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। এসময় বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ভাড়াটিয়াদের সর্তক ও কয়েকটি সিসিটিভি জব্দ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নিদের্শে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

সরেজমিনে জানা যায়, কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইছানগর এলাকার বিএফডিসির ঠিক বিপরীতে ডায়মন্ড সড়কের বাঁ পাশে গড়া ওঠা দুটি আলিশান বাড়ি। প্রায় ১০ থেকে ১৫ গন্ডা জমির উপর বাড়ি দুটির বাউন্ডারি। দেখতে সুবিশাল রাজ প্রাসাদের মতোই ঢের দাড়িয়ে রয়েছে।

নীল রংয়ের পাঁচতলা বাড়িটি হেলাল নামে এক ব্যক্তির। গোল্ডেন কালারের চারতলা বাড়ি হাজেরা মঞ্জিল নামে পরিচিত। যার মালিক টেকনাফের মোহাম্মদ হোসেনের বলেও প্রচলিত। দুজনেই মামা ভাগ্নে বলে স্থানীয়রা তথ্য দেন। মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হলে দুজনে মধ্যপ্রাচ্যের ওমানে পাড়ি দিয়েছেন বলেও খবর রটেছে। তথ্যমতে কেয়ারটেকার হিসেবে তাহের ও আমিন নামে দুজন লোকের নাম আসে।

চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের বাসিন্দারা সঠিক তথ্য দিতে না পারলেও অনেকে বলেছেন, বাড়ি দুটির মালিক টেকনাফ থেকে আগত। ওরা কিছুদিন আগে ইছানগরের মীর্জা বাড়ির হাফেজ আহমেদ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি ক্রয় করে। পরে দ্রæতই নির্মাণ কওে এই দু’টি বহুতল ভবন ।

অভিযোগ ওঠেছে, রহস্যময় এ দুটি প্রাসাদের যারা মালিক, তাঁরা টেকনাফের ভয়ঙ্কর মাদক ব্যবসায়ী। যারা টেকনাফ পুলিশের খাতায় ওয়ান্টেট ক্রিমিনাল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

টেকনাফের এই কথিত ভবন মালিকেরা কর্ণফুলীতে আসার পর থেকেই এখানে মাদকের মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলেছে বলে স্থানীয়দের মাঝে অভিযোগ ওঠেছে। যদিও সারাদেশে রহস্যজনক কারণে ধরা ছোঁয়ার বাইরেই আছেন ইয়াবা গডফাদারেরা! যাদের হাত ধরে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে মরণ নেশা ইয়াবা ।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বশেষ
চট্টগ্রাম বিভাগের আলোচিত
ওপরে