২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
চাঁদপুরে ইলিশের আমদানী বাড়লেও দাম না কমায় হতাশ ক্রেতারা আত্রাইয়ে পানিতে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃ’ত্যু; ১৯... পাইকগাছায় ভুয়া ঠিকানা দিয়ে বিয়ে করে দুই লক্ষ টাকা... বাল্যবিবাহ-ই’ভটিজিং-স’ন্ত্রাস ও মা’দক প্রতিরোধে... বরগুনায় ৬ষ্ট শ্রেনীর মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার ...

কিছুতেই থামছে না ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম

 মেহেদী হাসান উজ্জল,ফুলবাড়ী/ সমকালনিউজ২৪

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কিছুতেই থামছে না শিশুশ্রম,দিন দিন বেড়েই চলেছে ঝুঁকিপুর্ণ শিশুশ্রম। পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড,বাজার, ঢাকা মোড়, রেল গুমটি, নিমতলা মোড়, টিটির মোড়, হাসপাতাল মোড় এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় শিশু শ্রমিকদের দেখা মেলে। তার মধ্যে কেউ কেউ মোটর সাইকেল ওয়ার্কশপে, গাড়ির গ্যারেজে, স্টিল ও কাঠের ফার্নিচারের দোকান, ভাঙ্গারীর দোকান, হোটেল,ওয়াল্ডিং এর দোকানে, কসমেটিক্স দোকান, ওষুধের ফার্মেসি ও ব্যাটারির দোকানসহ বহুতল ইমারত নির্মাণকাজেও তারা নিয়োজিত।

ফুলবাড়ী পৌর শহর ঘুরে দেখা গেছে, গাড়ির গ্যারেজ, কেউ ট্রাকের চাকার টায়ার পাল্টাতে আবার কেউ স্টিলের বিভিন্ন ফার্নিচার তৈরিতে ব্যাস্ত, আবার কেউ অয়ের্ল্ডিং এর দোকানে লোহা পিটিয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছে শিশুরা। এদের মধ্যে প্রত্যেকেরই বয়স ৯ থেকে ১০ আবার কারো ১৩ কিংবা ১৪ হবে।

ওইসব শিশু শ্রমিকদের সঙ্গে কথার বলার এক পর্যায়ে মারুফ জানায়, আমার বয়স (১৩)। আমি ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। আমরা ২ ভাই ১ বোন। তার বাবা গ্রামে মুরগী কিনে তা বিক্রি করে ৪ সদস্যের পরিবার চালাতে হিমসিম খেতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমি পড়ালেখা ছেড়ে স্টিলের দোকানে কাজ শুরু করি। বেতনের কথা জানতে চাইলে সে বলে, আমি প্রতি সপ্তাহে ৪০০ টাকা পাই ২০০ টাকা দিয়ে নিজে চলি আর বাকি ২০০ টাকা বাড়িতে দেই। এটা তো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, এ কাজ কেন করো- এমন প্রশ্নের উত্তরে সে জানায়, অন্যান্য কাজের চেয়ে এ কাজে টাকা বেশি পাই তাই করি এবং আমিও ভালো করে চলতে পারি ও পরিবারকে কিছু টাকা দিতে পারি। মারুফের মতো অনেক শিশু শহরের বিভিন্ন দোকানে শিশু শ্রমের কাজ করছে।

বর্তমান বিশ্বে প্রতিটি দেশে শিশু শ্রম বন্ধের ঘোষণা দিলেও,বর্তমানে দেশে এটি বেড়েই চলেছে। ফলে দিন দিন এই শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। সচেতন মহল মনে করেন বাংলাদেশে শিশু শ্রমের অন্যতম কারণ হলো দারিদ্রতা। এদের বেশির ভাগ পরিবার অসচ্ছল। ফলে এসব পরিবারের শিশুরা তাদের পেটের ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য ছোট থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ শুরু করে। তাই তাদের নিজেদের আর পরিবারের খাওয়ার জন্য শিশুরা লেখাপড়ার পরিবর্তে এ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে পিছপা হয় না।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
দিনাজপুর বিভাগের আলোচিত
ওপরে