২৬শে মে, ২০১৯ ইং ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে বেনাপোল পোর্ট... ফেসবুকের কাছে ১৯৫টি অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছে সরকার সদরঘাট জিম্মি ‘খলিফা বাহিনী’র হাতে কৃষকের ঘরে বিয়ের ১১ বছর পর এক সঙ্গে চার সন্তান বাংলাদেশীদের পদচারণায় জমজমাট কলকাতার ঈদ বাজার!

খুলনার পাইকগাছায় ফুলে ফুলে ভরে গেছে সজিনা গাছ।

 ইমদাদুল হক,পাইকগাছা,খুলনা। সমকাল নিউজ ২৪

খুলনার পাইকগাছায় ফুলে ফুলে ভরে গেছে সজিনা গাছ। ঔষধি গুনাগুন, সুস্বাদু ও তেমন কোন উৎপাদন খরচ না হওয়ায় এলাকায় সজিনার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। একক কোন চাষাবাদ না হলেও উপজেলার ব্যবহার অনুপযোগী প্রতিটি স্থানে সজিনার আবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর উৎপাদন বেশি হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃপ। পুষ্টিসমৃদ্ধ মৌসুমি সবজির মধ্যে সজিনা অন্যতম, যা দেশের সর্বত্রই পাওয়া যায়। ড্রামস্টিক, মরিঙ্গাসহ দেশ-বিদেশে সজিনা বহু নামে পরিচিত হলেও বাংলাদেশে এক নামেই সকলেই সজিনা নামেই পরিচিত। সজিনার বহুবিধ ঔষধি গুনাগুন রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের সুত্রমতে-এ্যানিমিয়া, জয়েন্ট পেইন, ক্যান্সার, কোষ্টকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া, হার্ড পেইন, ব্লাড পেসার, কিডনিতে পাথর, মায়ের দুধ বৃদ্ধিকরাসহ বিভিন্ন ঔষধি গুনাগুন রয়েছে।

বসতবাড়ির আশে পাশে রাস্তার ধারে ও ক্ষেতের আইলে লাগানো সজনা গাছ যত্ন ছাড়াই অবহেলার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে। সজিনা পুষ্টি ও ভেজষ গুনে ভরা সবজি হিসেবে খুব দামী।

সজিনার ব্যাপক চাহিদা ও উচ্চ মুল্যে বিক্র হওয়ায় গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-বাজার ভরপুর সজিনাতে। উৎপাদন খরচ ও পরিচর্যা কম বলেই চাষীরা সজিনা চাষে আগ্রহী। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এখানকার উৎপাদিত সজিনা এখন রাজধানী ঢাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রতিদিন পাইকারী ব্যবসায়িরা জেলার বিভিন্ন বাজার থেকে সজিনা ক্রয় করে ঢাকার মোকামে বিক্রি করছে। মৌসুমের শুরুতে ২শ’ টাকা কেজি দরে সজিনা বিক্রয় হচ্ছে বলে জানিয়েছে ক্রেতারা তবে কিছু দিন পরে তা কমে ৪০/৫০ টাকায় এসে দাঁড়ায়। তখন দাম কমায় খুশি হয় ক্রেতারা। কৃষকরা এখন পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে সজিনা গাছ লাগিয়ে লাভবান হচ্ছে।

সজিনা বিশ্বের অন্যতম প্রয়োজনীয়একটি বৃক্ষ এগাছের পাতা, ফুল, ফল,ব্যাকল ও সিকড় সবই মানুষের উপকারে আসে। সজিনার পুষ্টি গুন অনেক বেশি।এ গাছের অনেক গুণ থাকায় এ জন্যই হয়তো, এগাছকে যাদুর গাছ বলা হয়।কাঁচা সবুজ পাতারান্না করে, ভত্তাকরে ও বড়া ভেজে খাওয়া যায়। ফল,সবজির মত রান্না করে খাওয়া যায়, ফল পাকলে সে সব ফলের বীজ বাদামের মতো ভেজে খাওয়া যায়। সজনেরপাতা, ফল, ফুল,বীজ, ছাল, মুলের ভেজষগুনও আছে।

তাই সজিনা গাছেরবিভিন্ন অংশ ভেজষ চিকিৎসায়কাজে লাগে। সজিনার পাতার পুষ্টিগুণ বেশি, যেভাবে খাওয়া হোকনা কেন তা শরীরে পুষ্টি যোগাবে,আর ঔষধী গুণ তো আছেই। সজিনার পাতায় যে পরিমাণ পুষ্টি রয়েছে তা অনেক পুষ্টিকর খাবারেও নেই। যেমন,ডিমের চেয়ে বেশি আমিষ, দুধেরচেয়েবেশী ক্যালশিয়াম, কমলার চেয়ে বেশী ভিটামিন সি, কলার চেয়ে বেশী ক্যালশিয়াম, গাজরের চেয়ে বেশি ভিটামিন এ আছে।তাছাড়া সজিনার পাতা গুড়ো করেখাওয়ায় অন্তত ১৬টি উপকারী কথা জানাগেছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকরে, পরিপাকক্রিয়া ভালো রাখে,চোখ ও মস্তিস্কের পুষ্টি যোগায় প্রভৃতি।
সজিনা সবজি যেমন উপাদেয় এর ভেজষ গুণও অসাধারণ। মৌসুমী নানা রোগ ব্যাধী নিরাময় ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত কার্যকর।বিশেষ করে জন্ডিস, বসন্ত, মূত্রসংক্রান্ত সমস্যা প্রাচীনকাল থেকে সজিনা নানা ব্যবহার করে আসছে ইউনানী ও আয়ূর্বেদ চিকিৎসকরা।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নও ১টি পৌরসভা মিলে প্রায় ২২ হাজারের উদ্ধে সজিনা গাছ আছে। প্রতি বাড়িতেকমপক্ষে ১/২টি গাছ রয়েছে। বাড়িরপাশে ক্ষেতের আইলে লাগানো এসবগাছ। গাছে ফলনও বেশি হয়। যত্ন ছাড়াই এসব গাছ বেড়ে উঠেছে।দেশে ২টি জাত আছে সজিনা ও নজিনা। সজিনার ফুল আসে জানুয়ারীতে আর নজিনা ফুল আসে মার্চ মাস থেকে। তবে সব ফুল থেকে ফল হয় না। একটি থোকায় ১৫০টি মত ফুল হয়ফুল ৪০ সেঃ মিঃ থেকে ৮০ সেঃমিঃ পর্যন্ত লম্বা হয়।

ফুল ফোটার ২ মাস পর ফল তোলা যায়। একটি বড় গাছে ৪’শ থেকে ৫’শ ফল ধরে। প্রতিটি ফলে২০-৩০ টি বীজ হয়। গাছ প্রতি সর্বোচ্চ২০-৫০ কেজি ফল পাওয়া যায়। দেশে সাধারণ ডাল কেটে ডাল রোপন করে সজিনাগাছ লাগানো হয়। ভারত থেকে হাইব্রিড সজিনার জাত এদেশে এসেছে। এ জাতের বীজবপন করে লাগাতে হয়। হাইব্রিড জাতের সজিনা গাছে দু’বার ফুল আসে ফেব্রুয়ারী-মার্চ ও জুন-জুলাই মাস। গতবছর উপজেলায় ৬ হাজার ২শত সজিনারডাল রোপন করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ৪ হাজার সজনের ডাল রোপন করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
খুলনা বিভাগের আলোচিত
ওপরে