১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
ভ্রমনের জন্য বরগুনার লঞ্চযাত্রায় আপনাদের স্বাগতম বরগুনায় শেখ রাসেলের ৫৫তম জন্মদিন উদযাপন ৩০ বার রক্ত দিয়ে রেকর্ড গড়লেন সাগর কর্মকর যশোরের বেনাপোলে শেখ রাসেলের জন্মদিন পালিত বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট সমিতি’র সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে...

গরিবের হক ‘লুট’ আত্রাইয়ে পানির দরে চামড়া বিক্রি

 নাজমুল হক নাহিদ,আত্রাই, সমকালনিউজ২৪

নওগাঁর আত্রাইয়ে এবার কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে পানির দরে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এই দাম ছিলো সর্বনিম্ন। গরুর চামড়া ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা দরে । এই মূল্য অবনতির বড় শিকার হয়েছে দুঃস্থ মানুষ এবং ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বছরের বৃহৎ এই আয় থেকে বঞ্চিত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের মাথায় হাত পড়েছে।

চামড়ার চাহিদা না থাকার অজুহাতে এবার ন্যায্যমূল্য দেয়নি এখানকার ব্যবসায়ীরা। ফলে কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েন উপজেলাবাসী। এ কারণে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে পানির দরে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এবার কারসাজি করে চামড়ার দাম কমিয়ে ফেলা হয়েছে। ছলচাতুরি করে কমমূল্যে চামড়া কেনার চক্রান্ত বাস্তবায়ন করেছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। এবার আত্রাই উপজেলায় কুরবানির চামড়ার দাম ছিল গেল কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মসজিদ-মাদ্রাসা-এতিমখানার কমিটির কাছে দান করা চামড়াগুলোর দামও ওঠেনি ভালো।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশি দরে চামড়া কিনে প্রতিবছরই তাদের লোকসান গুণতে হয়। এ জন্য এবার তারা বেশ ‘সতর্ক’ হয়েই চামড়া কিনেছেন। গতবছর ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট চামড়া ৪০ টাকা ও খাসির চামড়া সারা দেশেই ২২ টাকা দরে কিনেছেন ব্যবসায়ীরা। এবারও তারা একই দর চূড়ান্ত করে নিয়েছিলেন সরকারের কাছ থেকে। অন্য বছর সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দরে চামড়া বিক্রি হলেও এবার তা হয়নি।

উপজেলা জুড়ে এবার ফড়িয়াদেরও দৌরাত্ম্য ছিল অনেক কম। ফলে চামড়া কেনার সময় ব্যবসায়ীরা এবার বেমালুম চেপে গিয়েছেন সরকার নির্ধারিত দাম। কোথাও কোথাও চামড়া বিক্রি হয়েছে নির্ধারিত দামের চেয়েও কম টাকায়। গত কয়েকটি কুরবানির ঈদে চামড়া এতো কম মূল্যে বিক্রি হতে দেখা যায়নি। অন্য বছরগুলোর তুলনায় এবার মৌসুমি ব্যবসায়ীর দাপটও ছিল কম। ফলে চামড়ার বাজারে ‘রাজত্ব’ করেছেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরাই। তারা চামড়া বিক্রেতাদের বলেছেন, গত বছরের চামড়ার প্রায় অর্ধেক এখনো রয়ে গেছে ঢাকার ট্যানারিগুলোতে। তাছাড়া ট্যানারিগুলো স্থানান্তর করতে গিয়েও টালমাটাল ব্যবসায়ীরা। ফলে নতুন করে চামড়া কেনার আগ্রহ ছিলো না তাদের। তারা চামড়া কিনছেন ঝুঁকি নিয়ে। ট্যানারি মালিকরা চামড়া না নিলে তারা লোকসান গুণবেন। এ জন্য তারা চামড়া বেশি দামে কিনতে পারছেন না।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের একাধিক মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছর চামড়া ব্যবসা করে মহাজনের কাছে তাদের লাখ লাখ টাকা বকেয়া পড়েছে। তাই এবার সতর্কতার সঙ্গে চামড়া কিনেছেন। তারা আরো বলেন গরুর চামড়া ১০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে কিনেছেন।

উপজেলার ভরমাধাইমুড়ি সিদ্দিকিয়া দারুল উলুম কাওমি মাদ্রার শিক্ষক মতিউর রহমান জানান, এবার চামড়ার দাম হওয়ার কারণে অনেক গ্রামে ছাগল-ভেড়ার চামড়া কেউ কিনতেও পর্যন্ত যায়নি। অনেক কুরবানিদাতা পশুর চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছে । আবার কেউ কেউ নদীর পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছে।

এদিকে চামড়ার দাম কম হওয়ায় কোরবানিদাতারা হতাশ হন। তারা মন্তব্য করেন, মাত্র কয়েক বছর আগে একটি গরুর চামড়া দুই হাজার থেকে আড়াই হাজারে এবং ছাগলের চামড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পশুর মূল্য অনেক বেড়ে গেলেও চামড়ার দাম নেই বললেই চলে। এতে বিভিন্ন মাদ্রাসার এতিম শিশুদের হক নষ্ট করা হয়েছে। তারা এ জন্য চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, গরিবের হক নষ্ট করে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছেন।

উপজেলার সচেতন মহল মনেকরছেন, সিন্ডিকেট চক্র সরকার নির্ধারিত দরের তোয়াক্কা না করে নামমাত্র দরে চামড়া বিক্রি করতে জনগণকে বাধ্য করেছে। এদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
নওগাঁ বিভাগের সর্বশেষ
নওগাঁ বিভাগের আলোচিত
ওপরে