২রা জুন, ২০২০ ইং ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বগুড়ায় মানববন্ধন বরগুনায় ভিজিএফ চাল আত্মসাতের অভিযোগে দুই ইউপি... নন্দীগ্রামে করোনায় চিকিৎসক আক্রান্ত নওগাঁর আত্রাইয়ে লোকালয়ে হনুমান উৎসুক জনতার ভীড় সাপাহারে স্টার জলসায় ঝরে গেল নুশরাত জাহানের জীবন

চাঁদপুরে ১৪ বছর পর ডাকাতি মা’মলায় মৃ’ত্যুদন্ড-১ ও যা’বতজ্জীবন-৪

  সমকালনিউজ২৪

কাজী নজরুল ইসলাম,চাঁদপুর ::

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার খেড়িহর গ্রামের ডাকাতি মা’মলায় মজিবুর রহমান বেপারীকে মৃ’ত্যুদন্ড ও মো: আবুল কাশেম, আনোয়ার হোসেন, মাহবুবুর রহমান ও কামালকে যা’বতজ্জীবন কা’রাদন্ড দিয়েছে বিজ্ঞ আদলত। একই সাথে প্রত্যেক আসামীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আবুল কাশেম কে পৃথক ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কা’রাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুর সোয়া একটায় চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো: জুলফিকার আলী খান এই রায় দেন।

মা’মলা বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালে ২৬ জানুয়ারী রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার খেড়িহর গ্রামের মো: ফারুকের বসত ঘরে মুখোশধারী একদল ডাকাত অ’স্ত্রশ’স্ত্র সজ্জিত হয়ে ডাকাতি করতে আসে। ঐ সময়ে ঘরে থাকা লোকজন টের পেয়ে ডাক-চিৎকার করলে তার জেঠাত ভাই তাজুল ইসলাম এগিয়ে আসে। তখন উপস্থিত ডাকাতরা তাজুল ইসলামকে ইটপাটকেল মারে এবং গু’লি করে হ’ত্যার হু’মকি দেয়। ঠিক ঐ মুহুর্তে তাজুলের পিতা বদরুস ইসলাম ঘরের দরজা খুলে বের হলে ডাকাতরা তাকে লক্ষ করে গু’লি করে। ঐ সময়ে ডাকাতের তান্ডবে প্রত্যেক পরিবারের লোকজন এলোমেলো অবস্থায় ছোটাছুটি করলে ডাকাতরা পরক্ষণেই ফারুকের ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী ঝরনা বেগমকে অ’স্ত্র ঠেকিয়ে স্বর্ণলংকার মুল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

অপরদিকে গু’লিবৃদ্ধ তাজুল ইসলামের পিতা বদরুল ইসলামকে আহত অবস্থায় চিকিৎসক আব্দুর রহিমের নিকট নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হ’ত্যাকান্ড ও ডাকাতির ঘটনায় তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ঐ দিনই শাহরাস্তি থানায় ৩৯৬ ধারায় মা’মলা দায়ের করে।

মা’মলা তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার তৎকালীন সময়ের পুলিশ পরিদর্শক মো: নুরুল আফসার ভূইয়া তদন্ত শেষে উল্লেখিত আসামীদের ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে প্রমান পাওয়ায় ২০০৭ সালে ২৫ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবি পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো: আমান উল্যাহ বলেন, মা’মলায় প্রথমে আসামী ছয়জন থাকলেও আবুল খায়ের নামে একজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মা’মলাটি দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর চলমান অবস্থায় ১৯ জনের স্বাক্ষর গ্রহণ করে মা’মলার স্বাক্ষ্য প্রমান ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বিজ্ঞ বিচারক ৩৯৬ ও ৪১২ ধারায় আসামীদের পৃথক সাজায় দ’ন্ডিত করেন। দ’ন্ডিত আসামীদের মধ্যে মজিবুর রহমান, আবুল কাশেম ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছে এবং বাকী দুই আসামী মাহাবুবুর রহমান ও কামালের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।

সরকার পক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন মুক্তার আহম্মেদ। আসামী পক্ষের আইনজীবি ছিলেন এড. সেলিম আকবর, এড. আনোয়ার গাজী, এড. রাজেশ মুর্খাজি।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
চাঁদপুর বিভাগের সর্বশেষ
চাঁদপুর বিভাগের আলোচিত
ওপরে