১৭ই জুন, ২০১৯ ইং ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে... বিদ্যালয়েে দেহব্যবসা চালাচ্ছেন দপ্তরি-নৈশপ্রহরী, শুনে... আমতলী উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে বিদায়ী ও নবাগত নির্বাহী... রাজাপুরে ওয়ারেন্ডভুক্ত আসামী গ্রেফতার বগুড়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষ একজনকে...

চিরবিদায় নিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ।

 অনলাইন ডেস্ক। সমকাল নিউজ ২৪

সুরের মায়া কাটিয়ে চিরবিদায় নিলেন বরেণ্য সুরকার, গীতিকার, সংগীত পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

 

দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে দুইশর বেশি চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করে গেছেন তিনি।

 

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুরের উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে আছে ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘সেই রেললাইনের ধারে’, ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’, ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেব না’, ‘একতারা লাগে না আমার দোতারাও লাগে না’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যিখানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’, ‘আমি তোমারি প্রেমও ভিখারি’, ‘ও আমার মন কান্দে’, ‘আমার একদিকে পৃথিবী একদিকে ভালোবাসা’, ‘আমি তোমার দুটি চোখে দুটি তারা হয়ে থাকব’, ‘আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে’, ‘পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমারই ছোঁয়াতে যেন পেয়েছি’, ‘তোমায় দেখলে মনে হয়, হাজার বছর আগেও বুঝি ছিল পরিচয়’, ‘ওই চাঁদ মুখে যেন লাগে না গ্রহণ’, ‘বাজারে যাচাই করে দেখিনি তো দাম’, ‘আম্মাজান আম্মাজান’, ‘এই বুকে বইছে যমুনা’, ‘সাগরের মতোই গভীর, আকাশের মতোই অসীম’, ‘প্রেম কখনো মধুর, কখনো সে বেদনা বিধুর’, ‘আমার সুখেরও কলসি ভাইঙ্গা গেছে লাগবে না আর জোড়া’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’, ‘কী আমার পরিচয়, ঠিকানা কী জানি না’, ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’, ‘জীবনে বসন্ত এসেছে, ফুলে ফুলে ভরে গেছে মন’, ‘আমার হৃদয় একটা আয়না’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা, হৃদয়ে সুখের দোলা’, ‘তুমি আমার এমনই একজন, যারে এক জনমে ভালোবেসে ভরবে না’, ‘একাত্তরের মা জননী কোথায় তোমার মুক্তিসেনার দল’, ‘এই জগৎ সংসারে তুমি এমনই একজন’, ‘জীবন ফুরিয়ে যাবে ভালোবাসা ফুরাবে না জীবনে’, ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’, ‘নদী চায় চলতে, তারা যায় জ্বলতে’, ‘ও ডাক্তার, ও ডাক্তার’, ‘চিঠি লিখেছে বউ আমার’ ও ‘আট আনার জীবন’। তার দেয়া দেশাত্মবোধক গানের সুর বাংলাদেশের মানুষের বুকে চিরদিন বাজবে।

 

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আফতাবনগরের বাসায় হার্ট অ্যাটাক হলে বুলবুলকে মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে গীতিকার কবীর বকুল জানান।

 

একুশে পদক পাওয়া এই গানের মানুষটির বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছিলেন।

 

হার্টে ব্লক ধরা পড়ায় গতবছর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে তার অস্ত্রোপচারও করা হয়েছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।

 

হাসপাতালের চিকিৎসকরা শেষ কথা জানিয়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বুলবুলের মরদেহ নিয়ে যান আফতাবনগরের বাসায়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।

 

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ জানান, বুলবুলের মরদেহ মঙ্গলবার বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। বুধবার বেলা ১১টায় তার কফিন নিয়ে যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবদনের আগে এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি জানানো হবে রাষ্ট্রীয় সম্মান।

 

জোটের সাবেক সভাপতি নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু সাংবাদিকদের বলেন, “জানাজা বা দাফনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে