২০শে মার্চ, ২০১৯ ইং ৬ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নূর, দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুমকি পাইকগাছায় ১০ টাকা মুল্যে চাল বিতরণ সরকারের জনবান্ধব... রাজশাহী কলেজে বিশ্ব সমাজকর্ম দিবস পালিত মির্জাগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে... শার্শায় ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উন্নয়নে মুখর।

 এস.এম.নুর আলম। চিরিরবন্দর প্রতিনিধি। সমকাল নিউজ ২৪

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে উপজেলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আজমল হক। গত দুই বছর আগে যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল ভূতুড়ে পরিবেশে চিকিৎসা সেবা প্রধান করা হতো আজ সেই উপজেলা কমপ্লেক্স হাসপাতালে প্রবেশ মুখ থেকে শুরু করে সামনের অংশ থেকে পৃথকভাবে তিনটি স্থানে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে। চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যার বিশিষ্ট সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছেন। হাসপাতাল শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আজমল হক। উপজেলাটি সম্পূর্ণ নিরিবিলি পরিবেশ মুখর। এবং হাসপাতালটি প্রথমে ঢুকতে দেখতে পাবেন পুরাতন ভবনের পার্শ্বে চোখে পড়বে পুষ্টি উদ্যানের সাইনবোর্ড। খানিকটা সময় চোখে আটকে যাবে পুষ্টি উদ্যান। পুরো জায়গাটি মিলে ছোট অংশ ভাগ করে ১৩ রকমের সবজি চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে মৌসুমের সবজিসহ পাতাকপি, বেগুন, মুলা, শালগম, ফুলকপি, মরিচ, গাজর, আলু, সীম, লাউ, পেঁপে। সাইকেল গ্যারেজের পার্শ্বে আদা, রসুন, পেঁয়াজ, ধনেপাতা, আকন্দ পাতা, তেজপাতা, ধুতরার গাছ। ডা. আজমল ভাষায় ভেষজ বলতে শুধু কবিরাজের বাটা পৃথকেই বোঝায়না। তিনি বলেন আদা, রসুন, পেয়াজ, যেগুলো আমাদের শরীরে এ্যানজাম তৈরী করতে সহায়তা করে এগুলো ও ভেষজের পর‌্যায় পড়ে। হাসপাতালটিতে নানা রকমের পাতাবাহারের গাছসহ ৮০০ টবে প্রায় ৪০ রকমের ফুলের গাছ রয়েছে। এবং নীচতলা থেকে ৪ তলা প্রতিটি করিডোরে সারিবদ্ধভাবে সাজানো হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে গোলাপ, গাঁদা, জবা, মালতী, চন্দ্র মল্লিকা, মোরগ ফুল, কসমস, ডালিয়া ইত্যাদি। ডা. আজমল বলেন, ক্লীন হাসপাতাল ইনোভেটিভ থিউরি থেকে হাসপাতাল চত্ত্বরে সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছি। তিনি আরোও বলেন নতুন ভবনের প্রবেশ মুখের বাম পাশের একটি কক্ষে গড়ে তুলেছেন লাইব্রেরী। তিনটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ গল্প, উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, এনাটমি, ফার্মাকোলজি, ফিজিওলজি, সার্জারীসহ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি জ্ঞান সমৃদ্ধ প্রায় ২৫০ কপি বই ইতোমধ্যে স্থান পেয়েছে লাইব্রেরীতে। ডা. মর্তুজা আল মামুন বলেন, স্যারের এবং আমাদের নিজেদের সংগৃহীত কিছু বই এবং নিজেরাই চাঁদা দিয়ে পরিকল্পনা ইতোমধ্যে গ্রহন করা হয়েছে। চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে নরমাল ডেলিভারী। গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারী করে চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রসূতি মায়েদের ভীতি দূর করেছেন তারা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মরত চিকিৎসক নার্স মিলে টিম ওর্য়াক করে নরমাল ডেলিভারীর মাধ্যমে সন্তান প্রসবের উদ্যোগে সফলতা লাভ করেছেন ইতোমধ্যে। ফলে উপজেলায় বেসরকারী হাসপাতাল আর ক্লিনিকগুলো পড়েছেন বিপাকে। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা: ফারিয়া। তাসমিন দিশা বলেন, ২০১৬ সালে ৭১ জন, ২০১৭ সালে এখানে নরমাল ডেলিভারী করা হয়েছে ১৪৯ জন। প্রসূতি মায়ের ২০১৮ সালে নরমাল ডেলিভারী হয়েছে ৩২৯ জনের এবং চলতি বছরের ১ম মাসে এ যাবৎ ১৪ জন প্রসূতি মায়ের ডেলিভারীর মাধ্যমে সন্তান প্রসবে প্রসূতি মায়েদের উদ্ধুদ্ধ করতে তারা চালিয়েছেন বিভিন্ন রকম প্রচার প্রচারণা। হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন মায়েদের প্রসূতি বিনামূল্যে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এরপর ডেলিভারি না হওয়া পর্যন্ত ফ্রী পরামর্শ ও চেকআপের ব্যবস্থ্য করা হয়েছে। প্রসূতি কার্ড ও নরমাল ডেলিভারী করাতে মাঠ পর্যায়ে শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন এনজিও মায়েদের কাজ বার্তা পৌঁছানো হয়। এবং অনেক সময় নিজেরাই কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলোতে মা সমাবেশ করে থাকেন। উপজেলার জগন্নাথপুর বাংলা বাজার থেকে আসা শিরিন আক্তার (২২) এর নরমাল ডেলিভারী করা হয়েছে। অনুভূতির কথা জানতে চাইলে শিরিন আক্তার বলেন, নরমাল ডেলিভারী বাড়ির আশেপাশের কয়েকজন বলেন ক্লিনিকের সিজার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাঠকর্মী এবং ডাক্তার আমাকে সাহস দেয়। এরপর আমি নরমাল ডেলিভারী করাত রাজি হই। আমার ছেলে সন্তান ও আমি স্স্থ্যু আছি। ডা. আজমল বলেন, ডেলিভারী নিরাপদ করতে হাসপাতালে রাখা হয়েছে দক্ষ ধাত্রীদের। উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সহযোগীতায় জন্মনেয়া নবজাতকের জন্য জামা-কাপড়, মশারী ও প্রসূতি মাকে উপহার দেয়ার ব্যবস্থ্য করেছি। ডেলিভারীর সময় বেশি অসুস্থ্য মায়েদের রেফার্ড করে এ্যাম্বুলেন্সের করে ফ্রীতে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল ও দিনাজপুর মেডিকেল পৌঁছানোর ব্যবস্থা ও আছে বলে তিনি জানান। নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে টেলি মেডিসিন ও ভিডিও কনভারেন্স সেন্টার। প্রসূতি মায়েরা ছাড়াও বিভিন্ন রোগী আসে। এবং কনফারেন্স মাধ্যমে তাদেরকে বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। এই বিভাগে কর্মরত সাপোর্টিং ইজ্ঞিনিয়ার খাদিজাতুল কোবরা বলেন, সাধারণত স্কীন সমস্যা নিয়ে এখানে বেশী রোগী পাওয়া যায়। রেজিষ্টার খাতা দেকে তিনি জানান শুধুমাত্র ২০১৮ সালে টেলি মেডিসিন কর্ণার থেকে ২ হাজার ৯৫৬ জন রোগীকে সেবা দেয়া হয়। সুন্দরভাবে সেবা দেওয়ার কারণে জাতীয় পর‌্যায়ে বছরে ৫২ সপ্তাহের মধ্যে ২৬ সপ্তাহ নিয়মিত প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

প্রতিষ্টানের অর্গানোগ্রামে অনুযায়ী ১ম শ্রেণীতে ডাক্তার ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩৪টি, বিপরীতে আছেন ৫জন, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১৮ জনের স্থলে রয়েছেন ১৬জন, তৃতীয় শ্রেণীতে ৮৫ জনের স্থলে রয়েছেন ১৫ জন কর্মচারী। উপজেলা উন্নয়ন মেলায় ২০১ তে হাসপাতালটি চিকিৎসা সেবায় প্রথম স্থান অর্জন করে সম্মাননা গ্রহণ করেছে চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
দিনাজপুর জেলার সিভিল সার্জন অফিসার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমান পরিবেশ সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।

ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ আমরা পরিদর্শন করেছি। বাংলাদেশে যেকটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে মডেল ঘোষনা করা হবে তার মধ্যে চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সট নাম থাকবে বলে তিনি আশা করেন।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
দিনাজপুর বিভাগের সর্বশেষ
দিনাজপুর বিভাগের আলোচিত
ওপরে