১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
ঝালকাঠিতে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে হা’মলায় আহত... অ’পহরণের ৫ দিন পর ঠাকুরগাঁও থেকে তরুণীকে উ’দ্ধার বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট... র‌্যাবের অ’ভিযানে ২৫৬০ পিস ই’য়াবাসহ ব্যবসায়ী... দুর্গাপুরে হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতা

জনবল সংকটে বাগমারায় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কার্যক্রমে অচলবস্থা

  সমকালনিউজ২৪

নাজিম হাসান, রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারায় মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কার্যক্রম। জনবল সংকটে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। কেবল নাম দিয়ে চলছে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কার্যক্রম। সরকারের সকল সেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে দেয়া হয়েছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর। সেখানে প্রাণিসম্পদের সঠিক চিকিৎসা প্রদানের জন্য প্রতি মাসে দেয়া হয় হাজার হাজার টাকার সরকারী ঔষধ। সরকার ঔষধ দিলেও সেটা সেবাপ্রত্যাশীদের মাঝে বিতরণের নেই উপযুক্ত লোক। গরু-ছাগল সহ বিভিন্ন প্রাণির চিকিৎসা নিতে প্রাণিসম্পদ দপ্তরে এসে পাচ্ছে না সঠিক সেবা। ঔষধ সহ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ১১টি পদের স্থলে রয়েছে মাত্র ৩ জন। অবশিষ্ট পদগুলো প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে শূণ্য রয়েছে। আছে বলতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার, ভি.এফ.এ. এক জন এবং ড্রেসার পদে এক জন। বাকি পদগুলোর মধ্যে দু এক জন যোগদান করলেও তারা আবার বেশি দিন এই অফিসে থাকেন না। তারাও আবার প্রমোশন নিয়ে অন্য স্থানে চলে যান। নেই কোন ভেটেনারী সার্জন। তাছাড়া ভি.এফ.এ পদে তিন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র একজন শূণ্য রয়েছে দুই জনের পদ, কম্পাউন্ডার ১ জন, এফ. এ. আই পদে ১ জন, অফিস সহায়ক ১ জন, এবং অফিস সহকারী ১ জনের পদও রয়েছে শূণ্য। রাজশাহীর সর্ব বৃহৎ উপজেলা বাগমারা হলেও প্রাণিসম্পদ সেক্টরের অবস্থা জরাজীর্ণ। তবে সরকারী লোকবল না থাকায় সাধারণ জনগণের দ্বারা দেয়া হচ্ছে হাতে গণা কিছু লোকজনকে সেবা। এদিকে বিনাবেতনে ১৩ বছর ধরে এই অফিসে সেবা দিয়ে আসছেন এ, আই, টেকনিশিয়ান রেজাউল করিম। জনবল না থাকায় তাকেই সামলাতে হচ্ছে শূণ্য পদ গুলোর কাজকর্ম। ভেটেনারী সার্জন না থাকায় অসুস্থ পশু নিয়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরে গেলেও সেবা না নিয়ে বাড়িতে ঘুরে যেতে হচ্ছে লোকজনকে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে প্রাণিসম্পদ দপ্তরে গিয়েছিলেন ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাদোপাড়া গ্রামের দুলাল উদ্দীন তারই একটি গরুর খুরা রোগের ভ্যাকসিন এবং কৃমির ট্যাবলেট নিতে। ভ্যাকসিন অফিসে না থাকায় তাকে বাড়ি ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। সেই সাথে পাননি কৃমির ট্যাবলেটও। এছাড়া পৌরসভার চাঁনপাড়া থেকে একটি ছাগল নিয়ে এসে ছিলেন হাবিব নামের একজন। ছাগলের পেটে বাচ্চা থাকায় অন্য কাউকে না দেখিয়ে আসেন সরকারী প্রাণিসম্পদ অফিসে। সেখানে ভেটেনারী সার্জন না থাকায় খানিকটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাকে। তবে দীর্ঘদিন থেকে ওই দপ্তরে উঠাবসা করছেন সোহেল নামের একজন। তিনি ওই ছাগল দেখে বলেন যে পেটের ভিতরে বাচ্চা মারা গেছে সে কারণে পেটের ভিতর থেকে এসব বের হচ্ছে। এদিকে চিকিৎসক না থাকায় মরা বাচ্চা পেটে নিয়েই ছাগল সহ বাড়ি চলে যান হাবিব। পরে বাহিরের পশু চিকিৎসক দিয়ে বাচ্চা বের করতে হয় তাকে। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় প্রতি দিনই ব্যাহত হচ্ছে প্রাণির চিকিৎসা সেবা। প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানাগেছে, উপজেলায় ১৯৫ টি গরুর খামার রয়েছে। তবে যে সকল বাড়িতে ৫ টি বা ততাধিক গরু রয়েছে তাদেরকে একটি খামার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতোগুলো খামার থাকলেও সেগুলো দেখভালের কোন সরকারী পশু চিকিৎসক নাই। গ্রামাঞ্চলের মানুষের আমিষের বেশির ভাগ চাহিদা পূরণ হয় গরু-ছাগল, হাস-মুরগী দিয়ে। এদিকে হাস-মুরগীর খামারীরাও পড়েছেন বিপাকে। খামারীদেও দু একজন প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিয়ে খামার করলেও বেশির ভাগেরই নেই পশু-পাখির রোগ ব্যাধি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান। ফলে খামারের হাস-মুরগী মরে লোকশান গুনতে হচ্ছে তাদের। তাদের অভিযোগ সরকারী প্রাণিসম্পদক দপ্তরে যদি ভালো ভেটেনারী সার্জন থাকে তাহলে সেখান থেকে পশু-পাখির বিভিন্ন রোগ ব্যাধি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে পারতো। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার আতিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই অনেক পদ শূণ্য রয়েছে। এ সকল পদে জনবল প্রাপ্তির জন্য উপর মহলে অনেক বার বলা হয়েছে। পর্যাপ্ত লোক না থাকায় সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে এ সকল পদে জনবল পেলে আর কোন সমস্যা থাকবেনা।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
রাজশাহী বিভাগ বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে