১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
রি’ফাত হ’ত্যা মা’মলার প্রধান আ’সামির জা’মিন... স্পেনে টাইগার মাদ্রিদের নতুন জার্সি উন্মোচন ও... দ্বিতীয় বারের মত শুভসন্ধ্যা সৈকতে হতে যাচ্ছে জোছনা উৎসব বরগুনা সরকারি কলেজে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সমাপ্ত ঝালকাঠিতে খাদ্য অধিকার আইনের দাবিতে সমাবেশ

ঝড় তুলে কবি জাহেদ সরওয়ার এর ফেসবুক স্ট্যাটাস ‘পরিকল্পিত বেয়াদবি’।

 জে, জাহিদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো। সমকালনিউজ২৪

পুুরা কক্সবাজার জেলায় তুমুল ঝড় বইছে কবি জাহেদ সরওয়ার এর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে। যদিও তিনি জেলার মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের কৃতি সন্তান।

 

গত ২২ জানুয়ারী রাত ২টা ১৭মিনিটে নিজের ফেসবুক পেইজে ‘কুতুবজোম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নতুন ভবন উদ্বোধনে দাওয়াত কার্ডের নিচে নিজের নাম দেখে তিনি এ স্ট্যাটাস দেন।

 

মাত্র কয়েক ঘন্টায় এটি নজরে পড়ে সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মহেশখালীর সন্তানদের। যারা বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি পদস্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী। স্ট্যাটাসটির পক্ষে এবং দাওয়াত কার্ডে হাইব্রিড আ’লীগ ও যুবলীগ নেতাদের নাম রয়েছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য পাওয়া যায় ফেসবুক কমেন্টস এ। অর্ধশত বিরুপ মন্তব্য ও নানা আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে পুরা মহেশখালীর কুতুবজোম ও কক্সবাজার জুড়ে।

 

পাঠকের প্রয়োজনে কবি জাহেদ সরওয়ার এর দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবুহ তুলে দেওয়া হলো-
“কুতুবজোম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি যে ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত তা দান করেছিলেন মরহুম হাজী আবুল ফজল কোম্পানি। তিনি আমার পিতা। এই স্কুল প্রতিষ্ঠায় তিনি কী শ্রম ও সহযোগিতা করেছিলেন সেটা কুতুবজোমের সবাই জানে। তিনি এই স্কুল প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম। অথচ এই মহান মানুষটার মৃত্যুতে একটা শোকসভাও হয়নি এই স্কুলে। আমি নিজেও এই স্কুলের একজন দাতা সদস্য। শুনেছিলাম স্কুলের দাতার তালিকা থেকে আমাদের নাম মুছে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু আজকে স্কুল থেকে দাতা হিসাবে একটা দাওয়াত পত্র পেলাম। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২০১৯। ভিতরে খুলে দেখলাম বিশেষ অতিথি হিসাবে অনেক জুনিয়র পোলাপাইনের নিচে আমার নামটাও আছে। এখন বুঝলাম স্কুল থেকে হয়ত এখনও আমাদের নাম মুছে ফেলা হয়নি। কারণ মুছে ফেললে তো আমাদের অপমান করতে পারবে না। আজ খুব অপমানিত হয়ে পাবলিকলি এই অব্যক্ত কথাগুলো লিখছি। এই তালিকা কে এবং কিসের ভিত্তিতে করেছে আমি কী জানতে পারি? আচ্ছা ধরলাম এই তালিকা পলিটিকালি করা হয়েছে। কুতুবজোম ইউনিয়ন যুবলীগের ৭ বছর ধরে কনভেনার প্রেসিডেন্ট ছিল জাহেদ সরওয়ার। মহেশখালী উপজেলা যুবলীগের ৫বছর ফার্স্ট জয়েন সেক্রেটারি ও ৩ বছর সেক্রেটারি (ভারপ্রাপ্ত)। জোট সরকারের আমলে রাজপথ কাঁপিয়ে, সারা মহেশখালীর যুবলীগকে সংগঠিত করে, মামলা খেয়ে ( যে মামলা এখনও চলমান)। এসবের সাক্ষী জেলা যুবলীগের যোগ্য সেক্রেটারি জনাব শহিদুল হক সোহেল । উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহŸায়ক শেখ কামাল সহ আরও অনেকে। আর এর প্রতিদান হচ্ছে দল থেকে নির্বাসন। জীবনে কোনদিন ছাত্রলীগ করেনি যুবলীগ করেনি সে রকম হাইব্রিড পোলাপানদের নীচে অবহেলিত, অপমানিত একটা নাম। এটাই দল করে পাওয়া সন্মান। সেটা বাদ দিলাম আমি কখনও সন্মানের কাঙাল নই। নিজের কথা কখনও বলতে চাইনি কিন্তু আজ বলতে হচ্ছে সন্মান অনেক পেয়েছি জীবনে। দেশে বিদেশে। পনেরটা বইয়ের লেখক জাহেদ সরওয়ার। বাংলাদেশের তরুণ লেখক-কবিদের মধ্যে এই নামটি ব্র্যান্ড। মহেশখালীর ১২০জন কৃতি সন্তানের জীবনী নিয়ে প্রকাশিতব্য ‘আলোকিত মানুষ’ বইয়ের সম্পাদক ও সংগ্রাহক জাহেদ সরওয়ার (শুধু এলাকার মানুষদের সন্মান ধরে রাখার জন্য এই প্রচেষ্টা)। একাধিক জাতীয় পত্রিকায়, দেশে বিদেশে একাধিক জার্নালের নিয়মিত লেখক জাহেদ সরওয়ার। নিজের গ্রামে এই তার সন্মান। শুধু আমি নই সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক দাতা জনাব মাস্টার নুরুল আমিনকে রাখা হয়েছে লিস্টের একদম শেষে মানে সবার নীচে। এই অশিক্ষিত, মূর্খ, অকৃতজ্ঞদের অপমান। এটাকে আমি পরিকল্পিত বেয়াদবি হিসাবেই নিলাম। নিশ্চয়ই সেইদিন সমাগত যেদিন আপনারাও এই অপমানের মুখোমুখি হবেন।”

 

স্ট্যাটাসটি পড়ে মহেশখালীর কৃতি সন্তান বর্তমান পটিয়া থানার ওসি তদন্ত হেলাল উদ্দিন মন্তব্য করেন, ‘ম‚ল্যায়ন চাই না, কিন্তু অবম‚ল্যায়নও কামনা করি না। যদি কেউ করেই থাকে প্রতিক্রিয়াও করতে চাই না। আমাদের সমাজ ব্যবস্থাটাই নষ্টে পর্যবসিত হয়ে গেছে। শুদ্ধ আর সঠিকটা কি সেটাইতো হারিয়ে গেছে কালের গর্বে। আমরা যেখানে হাটতেছি সেটা অবশ্যই চলাচলের রাস্তা নয়। ‘রাস্তা’ সহসা উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখি না। অনেকদিন প‚র্বে ঢাকায় কফি নিতে নিতে সে কথাই আমি আপনাকে বলতে চেয়েছিলাম। সব কিছুকে সহজ ও স্বাভাবিকভাবে নেওয়া ছাড়া আর কিই বা করার আছে? বাধ্যবাধকতার ধর্ষণকে উপভোগ করাই আমাদের হীন কৌশল। অথচ আমরা সেটাকেই সাফল্য বলে অট্টহাসিতে মেতে আছি।’
কুতুবজোমের সন্তান যিনি ওই স্কুলে লেখাপড়া করেছেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দিনের প্রটোকলে পুলিশের নিরাপত্তা অফিসার রাশেদুল ইসলাম কমেন্টস করেন, ‘এত অতিথি লিষ্টে রাখলে অনুষ্টানের গুনগত মান ক্ষুন্ন হয়। সভাপতি, প্রধান অতিথি, একজন বিশেষ অতিথির নামে ব্যানার /পোষ্টার করলেই ভাল। এতে এত দোষারোপের সুযোগ থাকে না। তাছাড়া যার সম্মান তাকে দিতে না পারলে নামটা না দেওয়াই উত্তম।’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

অপরদিকে মহেশখালীর আরেক কৃতি সন্তান ঢাকা মেট্টোপলিটন সেশন জজ এরফান উল্লাহ কমেন্টস এ মন্তব্য করে বলেন, যে বিশাল বিশেষ অতিথি মহোদয়গণের তালিকা দেখলাম এটা তৈরিতেও মহান কতৃপক্ষের কয়েক মাস সময় লেগেছে নিশ্চিত। আরো অনেক অসংগতি আছে এই তালিকায় যা খুবই দু:খজনক।’

 

এভাবে একের পর এক নানা মন্তব্য জমা পড়ে স্ট্যাটাসটিকে ঘিরে। শেষে দুবাই প্রবাসী মহেশখালীর সন্তান হামিদুল হক মন্তব্য করেন, ‘রাজনীতিতে হাইব্রিড নেতার দাম বেশি।’

 

আসলে কি রাজনীতিতে তা ঘটছে! শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য যারা জমি দান করেছেন এমন দাতা সদস্যের নাম হারিয়ে যাচ্ছে তালিকা থেকে না অন্য কিছু!! প্রশ্ন সাধারণ জনগণের ?

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বশেষ
চট্টগ্রাম বিভাগের আলোচিত
ওপরে