২৬শে মে, ২০১৯ ইং ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
সদরঘাট জিম্মি ‘খলিফা বাহিনী’র হাতে কৃষকের ঘরে বিয়ের ১১ বছর পর এক সঙ্গে চার সন্তান বাংলাদেশীদের পদচারণায় জমজমাট কলকাতার ঈদ বাজার! স্বামী সন্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের... হঠাৎ কোটিপতি হয়ে যাওয়া এক নেতা

টর্ণেডোর আঘাতে বিধ্বস্থ স্কুল ঘর: খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান

 হায়াতুজ্জামান মিরাজ আমতলী, বরগুনা। সমকাল নিউজ ২৪

আকস্মিক টর্ণেডোর আঘাতে উড়ে গেছে বিদ্যালয়। তাই খোলা আকাশের নিচেই চলছে পাঠদান। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বাধ্য হয়েই পাঠদান চালাচ্ছেন শিক্ষকরা। প্রখর রোধের মধ্যে একসাথে ৬টি শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নেয়া হচ্ছে। এতে বেঞ্চে বসায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাগেছে, ১৯৬১ সালে বরগুনার আমতলী উপজেলার উত্তর-পশ্চিম চিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। ১৯৯৪ সালে এখানে একটি একতলা পাঁকা ভবন নির্মাণ করা হয়। ২১ বছরের মধ্যে ভবনটিকে স্থানীয় শিক্ষা অধিদপ্তর ২০১৫ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ওই সময় থেকেই স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অধিদপ্তরের সহায়তায় একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে শিক্ষকরা। এ বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক টর্ণেডোর আঘাতে সম্পূর্ণ বিধ্বস্থ হয়ে যায় বিদ্যালয়টি। এরপর থেকেই খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে বিদ্যালয়টিতে। বিদ্যালটিতে প্রাক- প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫০জন।

পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোঃ মাহফুজ ও রাশেদুল জানান, প্রতিদিন খোলা আকাশের নিচে বসে ক্লাস করায় গাছের পাতা ও ডালপালা ভেঙ্গে শরীরে পরে। তখন ভয় লাগে। প্রচন্ড রোদের মধ্যে ক্লাস করা কষ্টকর। এতে করে পাঠদানে আমরা মনোযোগী হতে পারি না। সব ক্লাসের শিক্ষার্থীদের একসাথে বসিয়ে ক্লাস নেওয়ায় কোন কিছুই ভাল ভাবে আমরা বুঝতে পারি না। তারা আরো বলেন, বৃষ্টি এলে দৌড়ে কোথাও আশ্রয় নেওয়ার আগেই আমাদের জামা-কাপড় ও বই-খাতা ভিজে যায়।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অভিবাবক ফারুক গাজী ও সহ-সভাপতি জসিম মোল্লা জানান, প্রতিদিন এভাবে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস চলতে থাকলে আমাদের শিশুদের স্কুলে পাঠানো সম্ভব হবে না। কেননা খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করায় রোদে বৃষ্টিতে ভিজে আমাদের শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাকিবুল হাসান বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালের আকস্মিক ঝড়ে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ বিধ্বস্থ হয়ে যায়। এরপর থেকেই খোলা আকাশের নিচে আমরা পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। খোলা আকাশের নিচে পাঠ্যদান কার্যক্রম চলায় নানামুখী অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আসমা সুলতানা বলেন, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করানোয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমাদেরও অসুবিধা হচ্ছে। এখানে সবাইকে এক সাথে বসিয়ে পাঠদান করানোর ফলে কোন শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই দ্রুত আমাদের অস্থায়ী ভিত্তিতে পাঠদানের ব্যবস্থা করা না হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যহত হবে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পাশ্ববর্তী একটি মাদ্রাসায় একটি কক্ষে বসানো হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তাই দ্রুত একটি অস্থায়ী ঘর নির্মাণের দাবি জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিয়া সুলতানা বলেন, আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ বিধ্বস্থ হওয়ার সাথে সাথে আমরা উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। উপজেলা প্রথামিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসে সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে গেছেন। আশা করি শীঘ্রই শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যহত রাখান জন্য তারা পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেই জন্য একটি অস্থায়ী ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, ওই বিদ্যালয়ে পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয় সেই ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
বরগুনা বিভাগের আলোচিত
ওপরে