১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
স্বামীর লাশ ওয়ারড্রবে রেখে অফিস করলেন স্ত্রী! ঐক্যফ্রন্টকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবিতে মানববন্ধন বন্য হাতির আক্রমণে নিহত জাসদ নেতা সাইমুন কনক গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ইয়াবা কারবারিদের বাড়িঘর

টাকার বিনিময়ে ভুয়া সার্টিফিকেট, ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত অনেকে!

 মোঃ ইলিয়াস আলী, নিজস্ব প্রতিবেদক। সমকাল নিউজ ২৪

ভুয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট কেনাবেচার আখড়া হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল। আর এসব ভুয়া সার্টিফিকেট দেখিয়ে থানায় খুন, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলা করা হচ্ছে। ফলে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি প্রকৃত চিকিৎসকদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে মামলার কাজে যেসব সার্টিফিকেট দেয়া হচ্ছে তার শতকরা ৬০ ভাগই ভুয়া।

হাসপাতালের একশ্রেণীর অর্থলোভী ডাক্তার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদে­র যোগসাজশে এ জাতীয় সার্টিফিকেট দেয়া হচ্ছে। উপযুক্ত তদারকী ও শাস্তী না পাওয়ায় ভুয়া সার্টিফিকেট কেনাবেচার সংঘবদ্ধ চক্র দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

হাসপাতালের মেডিক্যাল রেকর্ড সেন্টারের তথ্যানুসারে, গত দু`বছরে সর্বমোট হাজারের উপরে সার্টিফিকেট ইস্যু করেছেন চিকিৎসকরা। গত বছরের শুরু থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ইস্যুকৃত সার্টিফিকেটের সংখ্যা সাড়ে তিনশ`র বেশি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালে একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রকৃত সার্টিফিকেটের চেয়ে ভুয়া সার্টিফিকেটের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, এসব ভুয়া সার্টিফিকেট দেখিয়ে থানায় খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে। তবে এসব মামলায় বিজ্ঞ বিচারকের সন্দেহ হওয়ায় সার্টিফিকেটগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। গত দেড় বছরে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে দেয়া তিন শতাধিক সার্টিফিকেট যথার্থ কিনা তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়েছেন আদালত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের বহিঃবিভাগ, জরুরি বিভাগ ও ভেতরে ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রির জন্য মক্কেল ধরতে ওত পেতে থাকে চক্রের সদস্যরা। সংঘর্ষ অথবা নির্যাতনে কেউ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তারা প্রথমে সহযোগিতার ভান করে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে খাতির জমায়। মামলা করার ইচ্ছে আছে জানতে পারলেই মেডিক্যাল সার্টিফিকেট পাইয়ে দেয়ার কথা বলে চুক্তি করে। মেডিক্যাল ইনজুরি সার্টিফিকেট দুই ধরনের: সাধারণ ও গুরুতর। সার্টিফিকেট ভেদে মক্কেলের কাছ থেকে সর্বনিম্ন এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকাও নিয়ে থাকে তারা। পরে বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকের নাম, পদবী ও স্বাক্ষর নকল করে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেয়া হয়। আউটডোর, ইনডোর, রিলিজ সার্টিফিকেট ও কাগজপত্রে একজন পাস করা চিকিৎসকের মতোই রোগীর চিকিৎসার বিবরণ লেখা থাকে। যা দেখে সহজে বোঝার উপায় থাকে না যে সার্টিফিকেটটি ভুয়া।

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও থানায় দায়েরকৃত নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বাদী শেফালি বেগম হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। যাচাইকালে দেখা যায় ভুয়া টিকেটে ভুয়া চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা ও ইনজুরি সার্টিফিকেট দিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. আবু মো: খায়রুল কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি ভুয়া সার্টিফিকেট দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ডাক্তারদের সঠিক সার্টিফিকেট দেয়ার নির্দেশ দেয়া আছে।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ঠাকুরগাঁও বিভাগের আলোচিত
ওপরে