১৫ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরগুনায় উপকূলী অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সংলাপ... ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাইকোর্টে... ফেনীর ভূইয়া ট্রান্সপোর্ট যেন মোহাম্মদ আলীর ” আলাদীনের... গো’লাগু’লিতে আসামি নি’হত বগুড়ায় টাকাসহ চার ছিনতাইকারী গ্রে’ফতার

ঠাকুরগাঁওয়ের কোচল ও হরিপুর চাপসা সীমান্তে লাখো মানুষের মিলন মেলা

 হাসেম আলী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: সমকালনিউজ২৪

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল কোচল ও হরিপুর চাপসা সীমান্তে বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) ভারত ও বাংলাদেশের পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়।

 

বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উভয়ের সম্মতিতে পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই প্রতি বছর পাথর কালীর মেলায় এই সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়া হয়। কাঁটাতারের বেড়া তাদের আলাদা করে রাখলেও আবেগ পৌছে যায় একে অপরের হৃদয়ে।

 

গোবিন্দগঞ্জ থেকে আসা রাজন সাহার সাথে মেলা স্থলে কথা হলে তিনি বলেন প্রায় ৩০ বছর পর আমার ছোট শালির সাথে দেখা করলাম। দেখা পেয়ে চোখে যেন আনন্দের বাধ মানছিল না। শালি থাকে ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রায়গঞ্জ থানায়। অনেক দিন দেখা না হলেও আজ সম্পর্কের টান ঠিকই তাদের হাজির করেছে কাঁটাতারের পারে।

বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রংপুর এবং ভারতে কোচবিহার, আসাম, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কলকাতা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাই সাইকেল, অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস, মিনিবাস যোগে মেলা স্থলে হাজির হয়। এর পর চলে প্রতিক্ষার প্রহর।

 

শুক্রবার বিজিবি ও বিএসএফের সম্মতিতে সকাল দুপুর থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলে এ মিলন মেলা। সীমান্ত এলাকার স্থানীয়রা জানান, ভোর থেকে দুই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষেরা এসে জড়ো হন সীমান্তে, দির্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হবার এ সুযোগ হাত ছাড়া করতে চায় না কেউ। প্রতি বছর দু’দেশের স্বজনদের এ মিলন মেলা এখানে এক বিরল দৃশ্যের জন্ম দেয়।

 

লাখো মানুষ কথা বলেছে এই দিনে তাদের প্রিয় স্বজনদের সাথে। দু’ দেশের সীমারেখা কাঁটাতার দিয়ে আলাদা করা হলেও আলাদা করা যায়নি তাদের রক্তের, আত্মীয় সম্পর্কের ভালবাসার টান। দীর্ঘদিন দুরে থাকা, দেখা হওয়ায় অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আবার কেউ প্রিয়জনের দেখা না পেয়ে বাড়ি যেতে হয় চোখে পানি নিয়ে।

 

দু’দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা সাধারণ মানুষ টাকা পয়সার অভাবে পাসপোর্ট ভিসা করতে পারেন না তারা এই দিনটির অপেক্ষয় থাকেন। সারা বছর দু’দেশের মানুষ অপেক্ষা করে এই দিনটির জন্য। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আগে থেকেই স্বজনরা পর¯পরকে জানিয়ে দেয় । কে কোথায় দেখা করবে। ভারতীয়রা কাঁটাতারের পাশে এলে সেখানে বাংলাদেশের ও লাখো নারী পুরুষ সমবেত হয়।

 

ছোট বৌমা মায়াবতি ভারতীয় সীমান্তে ও শ্বাশুড়ী মুক্তিরাণী বাংলাদেশ সীমান্তে সঙ্গে নাতী নাতনি সবাই সবার সাথে কান্নাজড়িত কন্ঠে কথা বলছে। মুক্তিরাণী বলেন ৮ বছর পর ছেলে, বৌমা নাতি নাতনির দেখা পেলাম একে অপরকে জড়িয়ে ধরার ইচ্ছা থাকলেও পারছিনা। বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাঝখানে কাঁটাতারের বেড়া।

 

ভারতের মাকড় হাটে থাকা ছোট বোন রোজিনাকে দেখতে আসা দিনাজপুরের আবুল বাসার বলছিলেন, বোনকে একটু ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে হচ্ছিল কিন্তু ছুতে পারছিলামনা। জড়িয়ে একটু চিৎকার করে কান্না করি তবে হয়তো দির্ঘদিনের জমে থাকা কষ্টগুলো থেকে একটু হাল্কা হতাম।

 

পাথর কালীর মেলার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নগেন পাল জানান, কৃষকের ধান মাঠে থাকার কারনে এক সপ্তাহ পিছিয়ে এ মেলা করা হচ্ছে। ১৯৭৪ সালে পর উপজেলার সীমান্ত এলাকা পাক ভারত বিভক্তির আগে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অধিনে ছিল। এ কারনে দেশ বিভাগের পর আত্মীয় স্বজনেরা দু’দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সারা বছর কেউ কারো সাথে দেখা সাক্ষাত করতে পারেননা। অপেক্ষা করে থাকে এই দিনটির জন্য। থানা অফিসার ইনর্চাজ আব্দুল মান্নান বলেন আইন শৃংখলার রক্ষার জন্য পুলিশ বাহিনী সেখানে দায়িত্ব পালন করছে।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ঠাকুরগাঁও বিভাগের সর্বশেষ
ঠাকুরগাঁও বিভাগের আলোচিত
ওপরে