১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
ঝালকাঠিতে ৫ম শ্রেনীর ছাত্রীকে যৌ’ন নিপড়ন, দিনে থানায়... স্ত্রীর মর্যাদা না পেয়ে স্বামীর বাড়িতে কাবিননামা... জয়নগর ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলের... নওগাঁয় হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া শিশু ১১দিন পর উ’দ্ধার আবরার হ’ত্যার ন্যয়বিচারের দাবীতে চাঁদপুরে মানববন্ধন...

তাহেরপুরে বাজার মনিটরিং না থাকায় কাঁচা বাজারে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী

 নাজিম হাসান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: সমকালনিউজ২৪

রাজশাহী জেলার বৃহতম বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভা হাটে কাঁচা বাজারে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী চলছে।

 

শরতের শেষে প্রতিবছর এ সময়ে অগ্রিম শীতকালীন সবজি ওঠলেই বাজারে দাম কমতে শুরু করে। সবজির প্রয়োজনীয় চাহিদা অনুপাতে অপ্রতুল। স্বস্তি ফিরে পায় নিন্ম মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ। কিন্তু বাজারের বর্তমান চিত্র ভিন্ন। এই সময়ে সবজির যে দাম থাকার কথা,তার চেয়ে তুলনামূলক বেশি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

 

এছাড়া নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকা এবং প্রতিটি দোকানে দাম নির্ধারণ করে তালিকা না দেওয়ায় ইচ্ছামত দাম হাকিয়ে নিচ্ছে খুচরা দোকানীরা। তাই স্বস্তিতে নেই নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ। এদিকে শীত যত ঘনিয়ে আসছে তাহেরপুর হাটে শীতকালীন সবজির আমদানি তত বাড়ছে। তবে সরবরাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দাম বাড়ছে সবজির। এক সপ্তাহের ব্যবধানে শীতকালীন সবজির দাম কেজিতে বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচের দাম দিন-দিন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এবং এ রকম চলতে থাকলে কাঁচা বাজারের দাম বাড়তেই থাকবে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। শুক্রবার সকালে তাহেরপুর হাটে খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, এ সপ্তাহের ব্যবধানে সবজিসহ বাকি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। কাচা মরিচ ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। একাধিক ক্রেতারা জানান সব ধরনের তরকারী রান্নাতে মরিজ পিয়াজের প্রয়োজন। যেখানে মরিজ পিয়াজ ছাড়া সাদ হয়না। এখন বাধ্য হয়ে তরকারীতে মরিজ দেয়া হচ্ছে কিন্তু পরিমাণে অনেক কম। শুধু মরিচের ঝাজতো আছেই। সেই সাথে শীতের সবজি বাজারে উঠলেও দাম নাগালের বাহিরে। নিম্ম আয়ের,লোকজন জানান, তরি তরকারী কিনতে এসে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। এত দাম হলে কিভাবে চলা যায়। বেশি দাম হবার কারনে সব কিছু অর্ধেক করে কেনা হচ্ছে। হাটে দেশী পিয়াজ প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাচা মরিচ ৮০’ থেকে ১০০ টাকা কেজি, বেগুন ও ফুলকপি কেজিতে ২০ টাকা, মুলা পাইকাড়ি দাম কম হলে ১০টাকা কেজিতে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও শিম কেজিতে ৩০ টাকা, পুরাতন আলু কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা,নতুন আলু ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এসব নিত্যপণ্য সবজির বাজার কে নিয়ন্ত্রন করেন। এরা ইচ্ছেমত দাম নির্ধারণ করেন।

 

হাটে আসা একাধিক ক্রেতা জানান সরকারী মুল্যের চেয়ে খাজনা আদায় হয় কয়েকগুন বেশি। আর এসবের জের টেনে সাধারন নিম্ম আয়ের মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে বেপরোয়া ভাবে। প্রশাসনের কোন ধরনের বাজার মনিটরিং না থাকার কারনে ইচ্ছেমত দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্রেতারা বলছে খুচরা ব্যবসায়ীরা সবজি বিক্রিতে অতি মুনাফা করছেন। মোকামে দাম কম হলেও তারা দাম বেশি নিচ্ছেন।

 

প্রশাসন বাজার পর্যবেক্ষণ করে অতি মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে সবজির দাম কিছুটা আয়ত্বের মধ্যে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তবে নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকা এবং প্রতিটি দোকানে দাম নির্ধারণ করে তালিকা দেয়া হলে এত অনিয়ম থাকবেনা বলে দাবি একাধিক ক্রেতার।

 

উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালের অ্যাগ্রিকালচারাল প্রডিউস মার্কেটস্ রেগুলেশন অ্যাক্ট ও ১৯৮৫ সালের সংশোধিত বাজার নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৬ (১) ও ১৬ (২) ধারামতে কৃষিজাত ও ভোগ্যপণ্যের ক্রয়মূল্য, বিক্রয়মূল্য ও মজুদ পরিস্থিতির তদারকির ক্ষমতা রয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজার কর্মকর্তাদের। কিন্তু বাস্তবে কোথাও আইনটির প্রয়োগ হতে দেখা যায় না। তাছাড়া ১৯৫৩ সালের মজুদবিরোধী আইন ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনেরও প্রয়োগ নেই। সেজন্যে ক্রমাগতভাবে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে বাজার।#

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
রাজশাহী বিভাগ বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে