২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
মিলার স্বামীকে খোলামেলা ছবি পাঠাতেন নওশীন! অবশেষে শপথ নিলেন আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফোরকান বরগুনায় নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে মানববন্ধন মঠবাড়িয়ায় পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে... মধ্যরাতে বন্ধ হচ্ছে ২২ লাখ ৩০ হাজার সিম

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

  সমকাল নিউজ ২৪
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু চৌধুরীর অনিয়ম, দুর্নীতি ও কমিশন চাওয়ার বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রী বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শামছুল ইসলাম। গত ২৮ জানুয়ারি তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রী বরাবরে এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট থেকে সরকারি প্রজ্ঞাপন দ্বারা সরকারিকরণ করা হয়। প্রজ্ঞাপনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠির মাধ্যমে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ সরকারিকরণের পূর্ব পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য কলেজের শুধুমাত্র আর্থিক কার্যক্রম সম্পাদনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের যৌথ স্বাক্ষরের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সে মোতাবেক তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ যথারীতি সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন। তার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুস সামাদকে দিয়ে প্রভাষক মোঃ জয়নুল ইসলাম ও হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা মন্তাজ আলী কলেজের বিল নিয়ে গেলে তাদের কাছ থেকে সম্মানী চেয়ে কমিশন দাবী করেন।

সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ভর্তির সময় সেমিনার ফি বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর নিকট চারশত টাকা হারে ৪ বছরের ষোলশত টাকা গ্রহণ করার বিধান থাকায় কলেজ অধ্যক্ষ উক্ত টাকা বিভাগীয় প্রধান ও কলেজ অধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হিসাব নম্বরে জমা না দিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে কলেজের সাধারণ তহবিলে জমা করেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কমিশন না দেয়ার কারণে আজ পর্যন্ত সাধারণ তহবিল থেকে স্ব স্ব বিভাগের হিসাব নম্বরে টাকা স্থানান্তর করা যায়নি। যা বিভাগ পরিচালনার জন্য শিম/ অডিসেল/ ২৪৩/ ২০১১/ ৪৭৫/ পরিপত্রের ৬ ধারা মোতাবেক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ইতিমধ্যে উপরোক্ত বিষয়াদি সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও কল্যাণ)কে অবহিত করা হয়েছে। তাছাড়া শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বত কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ জানুয়ারি তারিখে দক্ষিণ সুরমা কলেজ কেন্দ্রে পরিচালিত অনার্স ২য় বর্ষের পরীক্ষার সম্মানী, খরচ ও আনুসাঙ্গিক বিল নিয়ে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারাদিন বসিয়ে রেখে উৎকোচ বা কমিশন দেয়ার জন্য পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করেন এবং দু’টি চেক স্বাক্ষর না করে বাকিগুলোতে স্বাক্ষর প্রদান করেন। ঐদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ-কে দিয়ে ফোনের মাধ্যমে কলেজ হিসাব রক্ষক মন্তাজ আলীর নম্বরে ফোন দিয়ে কলেজের যাবতীয় ফাইলপত্র তলব করেন। এমনকি তার অধিনস্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সত্য ব্রত রায়, কলেজের সহকারী অধ্যাপক সালমা ইয়াসমিন, রওনক জাহান বেগম, প্রভাষক আতাউর রহমান ভূইয়া ও ফাতেমা খানমকে পদন্নোতির স্কেল ও এমপিও ভুক্তির জন্য তাদের নিকট বিরাট অংকের উৎকোচ দিতে বাধ্য করেন।

এমতাবস্থায় দুর্নীতি গ্রস্ত দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দক্ষিণ সুরমা উপজেলাবাসীকে হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভোক্তভোগী শামছুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে আলাপকালে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু চৌধুরী জানান, অভিযোগের ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। কলেজের ব্যাপারে বিধি সম্মতভাবে যা কিছু করার তা করে যাচ্ছি।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
সিলেট বিভাগের আলোচিত
ওপরে