১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
ঝালকাঠিতে ৫ম শ্রেনীর ছাত্রীকে যৌ’ন নিপড়ন, দিনে থানায়... স্ত্রীর মর্যাদা না পেয়ে স্বামীর বাড়িতে কাবিননামা... জয়নগর ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলের... নওগাঁয় হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া শিশু ১১দিন পর উ’দ্ধার আবরার হ’ত্যার ন্যয়বিচারের দাবীতে চাঁদপুরে মানববন্ধন...

দাগনভূঞায় কুরবানী পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম তৈরীতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কামার শিল্পীরা

 মোঃ নাজমুল হক, দাগনভূঞা, সমকালনিউজ২৪

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ-উল- আযহা। আর মাত্র তিনদিন পরেই কুরবানী ঈদ। এই ঈদের অন্যতম কাজ হচ্ছে পশু কুরবানি করা। ঈদ-উল- আযহাকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার কামার শিল্পের কারিগররা। কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করছেন সব ধারালো সামগ্রী। তবে এসব তৈরিতে এখনো আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। পুরানো সেকালের নিয়মেই চলছে আগুনে পুড়ে লোহা হতে ধারালো সামগ্রী তৈরির কাজ। তবে দ্রব্য মূল্যের দাম কিছুটা বেশি এবং ঈদের এখনও তিন দিন বাকি থাকায় জমে উঠেনি দা, কাচি, হাসুয়া, কোপা, ছুরি চাপাতির বেচাকেনা।

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অন্যতম উৎসব হচ্ছে ঈদ-উল- আযহা। আর এই ঈদে মুসলিম ধর্মের অনুসারীরা আল্লাহকে রাজি খুশি করতে পশু জবাই করে থাকে। এই পশু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজন হয় বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামাদি। মাংস কাটা এবং কুরবানি পশু জবাই করার বিভিন্ন ধাপে ছুরি, দা, চাপাতি এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। তাই পশু কুরবানিকে কেন্দ্র করে কামার পল্লীগুলো অনেকটাই ব্যস্ত সময় পার করছে।

দগদগে আগুনে গরম লোহায় ওস্তাদ-সার্গেদের পিটাপিটিতে মুখর হয়ে উঠেছে কামার পল্লীগুলো। প্রস্তুত করছেন জবাই সামগ্রী। ঈদে শত শত গরু, খাসি, ভেড়া, মহিষ ইত্যাদি পশু কুরবানি করা হয়ে থাকে। এ সব পশু জবাই থেকে শুরু করে রান্নার চূড়ান্ত প্রস্তুত পর্যন্ত দা-বঁটি, ছুরি, চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ার আবশ্যকীয় হয়ে যায়। ঈদের আগেই পশু জবাই করার ছুরি, চামড়া ছাড়ানোর ছুরি, চাপাতি, প্লাস্টিক ম্যাট, চাটাই, গাছের গুঁড়িসহ সবকিছু প্রস্তুতি রাখতে হয়।

দেশি চাপাতিগুলো কেজি হিসেবে বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতি কেজি ওজনে চাপাতির দাম ৬’শ থেকে ৮’শ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া বিদেশি চাপাতি প্রতি কেজির দাম ৭’শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা জানান, সারা বছর বেচাকেনা কিছুটা কম থাকে। কোনোরকম দিন যায়। এই সময়ের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি। কুরবানি ঈদের আগে ভালো বেচাকেনা হয়। ওই সময় দামও ভালো পাওয়া যায়। লোহার তৈরি ছোট ছুরি ৬০ থেকে ২’শত পঞ্চাশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জবাই ছুরি মিলছে ৫’শত থেকে ৬’শত টাকায়।

কামার শিল্পীরা জানান , এ পেশায় অধিক শ্রম, জীবিকা নির্বাহে কষ্ট হলেও শুধু বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ পেশাটিকে তারা এখনও আঁকড়ে ধরে আছেন। বিভিন্ন সময় এসবের চাহিদা কম থাকলেও কুরবানির পশুর জন্য বেশি প্রয়োজন হওয়ায় সকলেই এখন ছুটছেন কামারদের কাছে। আর এতেই এক মাসে পেশাটি জমজমাট হয়ে উঠেছে। কামার শিল্পীরা এই ঈদ মৌসুম ছাড়া কাস্তে, হাঁসুয়া, পাসুন, বাঁশিলা, কুড়ালও তৈরি করে থাকেন।
কয়েকজন ক্রেতা জানান,

কুরবানীর ঈদের আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজটি সেরে ফেলছেন। তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকু, কাটারির দাম একটু বেশি বলে জানান তারা। লোহার পাশাপাশি স্টিলের ছুরি চাকুও বিক্রি হয় অনেকাংশে। দেশি চাপাতিগুলো কেজি হিসেবে বিক্রি হয়ে থাকে।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ফেনী বিভাগের সর্বশেষ
ফেনী বিভাগের আলোচিত
ওপরে