৩০শে মে, ২০২০ ইং ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
একটি সিট বাদ দিয়ে ট্রেনের টিকিট বিক্রি হবে : রেলমন্ত্রী নওগাঁর পত্নীতলায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাইয়ের মৃ’ত্যু রাণীনগরে গভীর রাতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হ’ত্যা নটরাজ হুমায়ুন ফরিদীর জন্মদিন আজ ‘চোর’ বলে প্রকাশ্যে পেটানোর অভিযোগে চেয়ারম্যান’র...

দিনাজপুরে প্রাণীখেকো বা মাংসাশী উদ্ভিদের সন্ধান।

 মেহেদী হাসান উজ্জল ফুুলবাড়ী দিনাজপুর প্রতিনিধি। সমকালনিউজ২৪

প্রাণীরা উদ্ভিদকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে,এটি স্বাভাবিক। তবে যদি বলা হয় উদ্ভিদ প্রাণীদেরকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তাহলে কেমন শোনাবে। সাধারনত গল্প কিংবা উপন্যাসে এমন কথা মানায়। তবে এমনি এক প্রজাতির ৩টি উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে দিনাজপুরে। যে উদ্ভিদটি প্রাণী অর্থাৎ পতঙ্গকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

 

রুপকথার গল্প ‘এরাবিয়ান নাইটস’ এর সিন্দাবাদ পর্বে একটি গাছের উল্লেখ ছিল যেটি মানুষ বা প্রাণীদেরকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। বিভিন্ন গল্প বা উপন্যাসে এমন কথার স্থান পাওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এবারে বাস্তবে এমন উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছে দিনাজপুর সরকারী কলেজের উদ্ভিববিজ্ঞান বিভাগ। যে উদ্ভিদগুলোর প্রধান খাদ্য প্রাণী।

 

মাংসাশী উদ্ভিদটির বিজ্ঞানসম্মত নাম Drosera Rotundifolia যাকে বাংলায় সূর্যশিশির বলা হয়। মাংসাশী উদ্ভিদের মধ্যে এই প্রজাতি সবচেয়ে বড়। ৪-৫ সেন্টিমিটার ব্যাস বিশিষ্ট গোলাকার থ্যালাস সাদৃশ্য উদ্ভিদটির মধ্য থেকে একটি লাল বর্ণের ২-৩ ইঞ্চি লম্বা পুষ্পমঞ্জুরী হয়। ১৫-২০টি তিন থেকে চার স্থরের পাতা সাদৃশ্য মাংসাল দেহের চারদিকে পিন আকৃতির কাটা থাকে। মাংসাল দেহের মধ্যভাগ অনেকটা চামুচের মত ঢালু এবং পাতাগুলোতে মিউসিলেজ সাবস্টেন্স নামক একপ্রকার এনজাইম (আঠা) নি:সৃত হয়। সুগন্ধ আর উজ্বলতায় আকৃষ্ট হয়ে পোকা উদ্ভিদটিতে পড়লে এনজাইমে আঠার মাঝে আটকে যায় এবং পতঙ্গ নড়াচড়া করলে মাংসাল পাতার চারদিকে পিনগুলো বেকে পোকার শরীরে ফুড়ে গিয়ে পোকাকে ধরে ফেলে।

 

গত ১৫ জানুয়ারী কলেজ ক্যাম্পাসের উত্তরদিকে পরিত্যক্ত ভূমিতে এই উদ্ভিদগুলো সনাক্ত করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। নিজ ক্যাম্পাসে এমন উদ্ভিদের সন্ধান পেয়ে আনন্দিত ও গর্বিত সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। উদ্ভিদটিকে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে তারা।

 

দিনাজপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক (উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ) দেলোয়ার হোসেন ও সহকারী অধ্যাপক বাবুল হোসেন জানান, মাংসাশী বা পতঙ্গখেকো এই উদ্ভিদের ইংরেজি নাম Sundews । এটি Caryophyllales বর্গ এবং Droseraceae গোত্রের অর্ন্তভুক্ত। উদ্ভিদটি সংরক্ষণের জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ভিদ নিয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত এই শিক্ষক। এজন্য সরকার ও বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান তারা।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
দিনাজপুর বিভাগের সর্বশেষ
দিনাজপুর বিভাগের আলোচিত
ওপরে