১৮ই জুন, ২০১৯ ইং ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
সংবাদ প্রকাশের পর ডিসির সহযোগীতায় ভাতা কার্ড পেল ১৩ জন... নওগাঁয় পাটক্ষেত থেকে দুই কিশোরসহ মোট ৩জনের লাশ উদ্ধার ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরল বাংলাদেশি ৬ নারী চয়ন কে মামলা থেকে বাঁচাতেই প্রতিবন্ধী শরিফুলের... রাজাপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

দুর্গাপুরে কুমড়া চাষিরা বিপাকে একটু ভুলে এলাকার সব গাছে পচন

 তোবারক হোসেন খোকন সমকাল নিউজ ২৪

জেলার দুর্গাপুর পৌরসভা, সদর ইউনিয়ন ও চন্ডিগড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা, নেত্রকোনা জেলার মধ্যে দেশীয় চাল কুমড়ার বাম্পার ফলনের এলাকা হিসেবে খ্যাত। অত্র এলাকার চাষীরা ধান চাষের চেয়েও কুমড়া চাষে আগ্রহী থাকায় তাদের পরিশ্রমে বদলে গিয়েছিলো এলাকার অবস্থা।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, পৌরসভার বুরুঙ্গা, মাসকান্দা, মাকড়াইল এলাকায় ব্যাপক ভাবে কুমড়া ফলাতো এলাকার চাষিরা। কিন্তু একটু ভুলের কারনে অত্র এলাকার কুমড়া চাষিদের ভাগ্যে নেমে এসেছে কালো মেঘের ঘনঘটা। গত ৩ বছর, পরপর অত্র এলাকায় কুমড়ার বাম্পার ফলন হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সব্জি ব্যবসায়ীরা দুর্গাপুরের কুমড়া নিতে আসতো। এ বছর ফলন না হওয়ায় পাইকারী ব্যবসায়ীরা এ এলাকা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এবার কুমড়া গাছে পচন ও ফলন কম হওয়ার বিষয়ে স্থানীয় কৃষক ছিদ্দিক মিয়া, আব্দুল ওয়াহাব ও এইচ এম সাইদুল বলেন, গত বছরের কুমড়া থেকে বীজ তৈরী করে ভালো আবাদের জন্য হাতের তৈরী বীজ দিয়েই এবার কুমড়া ক্ষেত তৈরী করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে গাছে আশানুরুপ ফলন না হওয়ায় কৃষি বিভাগের সহায়তায় বিষয়টি উন্মোচিত হয়। এছাড়া যাহারা হাতের তৈরী বীজে ক্ষেত তৈরী করেনি, সে সকল কৃষকদের ক্ষেতে ফলন ভালো হয়েছে। কৃষক মোঃ আব্দুল লতিফ ১৩ একর, মোঃ আবুল কাশেম ১০ একর, আঃ জলিল ৫.৫ একর, মোঃ ফজল মিয়া ৩ একর, মোঃ আব্দুল মোতালেব ২ একর সহ প্রায় ৪০ জন কৃষকের কুমড়া ক্ষেতে পচন ধরাসহ কোন গাছেই ফলন ধরেনি। কুমড়ার জন্য ক্ষেত তৈরী করতে হয় পৌষ ও মাঘ মাসে, ফলন হয় চৈত্র মাসে আর কুমড়া গুলো বিক্রি চলে বৈশাখ এর শেষ অবধি পর্যন্ত।

বীজ ব্যবসায়ী সুমন রায় বলেন, হাইব্রীড বীজের চেয়ে হাতে তৈরী বীজ অনেক ভালো, তবে সে গুলো যদি বীজ তৈরী ও চাষের প্রক্রিয়া মোতাবেক করা হতো তাহলে কৃষকদের এই সর্বনাশ হইতো না।

উপজেলা সাবেক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় বোরো চাষের বাইরে সকল পতিত জমিতে কুমড়া চাষ করেই লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। এবার বীজ তৈরী ও প্রক্রিয়াজাত করণ সঠিক না হওয়ায় কৃষকদের এ সর্বনাশ হয়েছে। হাতে তৈরী বীজ সারা রাত ভিজিয়ে ৩ঘন্টা রোদে দেয়ারপর রোপন করলেই এ বীজে কোন সমস্যা হয় না। আবাদকৃত কুমড়ার ফুলে ও ফলে পোকা বসার কারনে, কুমড়া লাল হয়ে ঝড়ে পড়ে যায়। এ পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য তিনি সেক্স ফেরোমন পদ্ধতি ব্যবহার করে পোকা নিধন করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
নেত্রকোনা বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে