৫ই এপ্রিল, ২০২০ ইং ২২শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
আ.লীগের দুঃসময়ের কান্ডারী পাথরঘাটার এড.গোলাম কবির আর করোনায় বিপর্যস্ত স্পেনে ৭০ বাংলাদেশী আক্রান্ত বালিয়াডাঙ্গীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে ডাঃ আঃ... বগুড়ায় দুই হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ বরগুনায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ঈদের বাজারের মত...

দুর্গাপুর উপজেলার সফল ইউএনও ফারজানা খানম

  সমকালনিউজ২৪

দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি ::

ন্যায়-নীতি, সততা ও আদর্শ মানুষ হিসেবে একজনকে মুল্যায়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট। ঐসব গুনাবলীর পাশাপাশি যদি একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করে যান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তবে তার তুলনাই হয় না। এমনই এক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম। যিনি নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুর উপজেলায় গত ৩০ মে ২০১৯খ্রি: উপজেলা’র প্রথম নারী ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন। উপজেলায় মাত্র আট মাসের কর্মকান্ডে যিনি রেখেছেন নানা দৃষ্টান্ত। ইতোমধ্যে তাঁর নানা কর্মসাফল্যে পেয়েছেন সম্মাননা।

জানাগেছে, বিসিএস ৩০তম ব্যাচে উত্তীর্ণ হয়ে চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসক এর কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। সেখান থেকে নাটোর জেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেণ। অতি অল্প সময়ে তার কর্মদক্ষতায় পদোন্নতি পেয়ে পাবনার ভেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে ৬মাসের অধিক সময় সুনামের সহিত চাকুরি করেণ। এর পরই যোগদান করেন দুর্গাপুর উপজেলায়।

এই উপজেলায় যোগদানের পর তিনি অনেক দুঃস্থ্য ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন গুলো পরিদর্শন শেষে ইউপি চেয়ারম্যানদের সহায়তায় দুঃস্থ্য, অসহায় ও সহায়-সম্বলহীন মানুষের নামে বরাদ্দকৃত সাহায্য গুলো ঠিকমতো দেয়া হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখেন তিনি। সরকারি অর্থে নির্মিত সকল নির্মান কাজ সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। নিজ বেতনের টাকা থেকে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া অসংখ্য শিক্ষার্থীদের পুস্তক ক্রয় সহ আর্থিক সহায়তা করেছেন। এলাকায় দুর্যোগের সময় সকল সরকারী সহায়তা গুলো নিজ হাতে ক্ষতিগ্রস্থ্যদের পৌছে দিয়ে সুনাম অর্জন করেছেন। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ এর অপেক্ষা না করে ঝড়-বৃষ্টিতেও সকলকে নিয়ে বিরিশিরি-শ্যামগঞ্জ মহাসড়ক রক্ষায় মাটির কাজ করা সহ কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বেরিবাঁধের কাজ নিজে অবস্থান থেকে করানোর জন্য এলাকায় সর্বজনপ্রিয় নির্বাহী অফিসার হিসেবে মনোনীত হয়ে যান তিনি। ঈদ পুজোতে যাত্রী সাধারনের ভোগান্তী লাঘোবে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকেন।

এছাড়া সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সহ দৃড়তার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এলাকার অনিয়ম প্রশ্নে কোন সুপারিশ গ্রহন না করায় ডিসেম্বর ২০১৯খ্রি: পর্যন্ত প্রায় ৩শটি নিয়মিত মা’মলা, প্রায় ৩.৫ লক্ষ টাকার মতো জড়িমানা আদায় সহ ২১ জনকে সা’জা দিয়েছেন তিনি।

নানা উন্নয়নের মধ্যে উপজেলা পরিষদের মিলনায়তন আধুনিকায়নকরণ, ভিজা বালু উত্তোলন বন্ধে নির্দেশনা, শিল্পকলা একাডেমি ভবনের উন্নয়ন, উঠান বৈঠকের মাধ্যমে উৎকোচের টাকা ফেরত, ডেঙ্গু নিধন, নিম্ন মানের ঔষধ বিক্রি বন্ধ, ভোগ্যপণ্য নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বাজার তদারকি, পয়:নিষ্কাশন, খাল পুণ:খনন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথা সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করণ, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, সকল সভা সেমিনারে যথাসময়ে উপস্থিতি, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা গুলোতে সৌর বিদ্যুৎ চালিত সড়ক বাতি স্থাপন সহ কোন হুমকী-ধকমি তে ভয় না পেয়ে সৎ ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার ফলে অল্প দিনেই সাধারণ মানুষের মুখে ‘‘ফাটা কেষ্ট’’ হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছেন। সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি হিসেবে কাজের ফাঁকে মিশে যান উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক ঝাঁক শিশুরদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। গান শোনার পাশাপশি আবৃত্তি করেন তিনি।

উপজেলায় কর্মরত এক অফিসার বলেন, ইউএনও স্যার এখানে যোগদানের পর থেকেই ঘুষ-দূর্নীতি নাই বল্লেই চলে। নানা অফিসে আগত লোকজন তাঁদের কাঙ্খিত সেবা পেয়ে অনেকেই খুশি। তিনি অফিসের কর্মকর্তাদের নানা কাজে সহায়তা করার কারনে আমরা আর কোন কাজেই ফাঁকি দেইনা। যে কারনে সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ভিঘ্নে সামলিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, শুভ্রত সাংমা, আব্দুল মতিন মোতালেব বলেন, আমরা অনেক কাজই শিখেছি এই সারের কাছ থেকে। এমন যোগ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এ উপজেলায় থাকলে মন্ত্রনালয়ের অনেক বরাদ্দ আনা সহজ হবে। ইউনিয়নের প্রতিটি কাজই তিনি খতিয়ে না দেখে স্বাক্ষর করেন না। যে কারনে আমাদের কাজের গতি
বৃদ্ধি পেয়ে যায় এমনিতেই।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মানু মজুমদার বলেন, দুর্গাপুর উপজেলার বর্তমান ইউএনও ফারজানা খানম এক কথায় একজন ভালো অফিসার। তিনি সকল কাজই সততা ও নিষ্ঠার সাথে করে থাকেন। আমার জানামতে দলীয় নেতাকর্মীদের পশাপাশি সরকারের উন্নয়ন মুলক কাজ সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করছেন। আমি তাহার কার্যক্রমে খুশি।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, ইউএনও হিসেবে অনেক কাজের চাপ থাকে। দুর্গাপুর পর্যটন এলাকা হিসেবে সরকারী উর্দ্ধতন অনেক কর্মকর্তাগন ওই এলাকায় বেড়াতে আসেন। সরকারী কাজ ও সকল প্রটোকল নিষ্ঠার সাথে করে থাকেন ইউএনও ফারজানা খানম।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিনহা চন্ডিগড় মানবকল্যানকামী অনাথালয়ে এক সাক্ষাতে বলেন, এখানে বেড়াতে এসে বুঝলাম এখানকার মানুষ কত ভালো। সেই সাথে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা নারী ইউএনও এর ব্যবহার ও প্রশাসনিক প্রটোকলে আমি মুগ্ধ।

সার্বিক বিষয় নিয়ে ইউএনও ফারজানা খানম বলেন, বর্তমান সরকার দেশকে সাজাতে ঘুষ-দুর্নিতী বন্ধে কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট হউক এমন কোন কাজে আমি আপোষ করবো না। কাজ করলে ভুল হবেই। তবুও একজন চাকুরীজীবী হিসেবে যে কর্মস্থলে যাই না কেন, যদি নিষ্ঠার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করি, তাহলে ওই এলাকার উন্নয়ন হবেই। প্রশাসনের একার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়। এতে এলাকাবাসীকেই এগিয়ে আসতে হবে। আমি আমার জায়গা থেকে প্রতিটা কাজই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করে থাকি। দুর্গাপুর উপজেলাকে সুন্দর ভাবে সাজাতে তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে