২৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরগুনা থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কা’রাগারে পাঠানো হল... বগুড়ায় স্ত্রী হ’ত্যার দায়ে স্বামীর মৃ’ত্যুদন্ড বরগুনায় তরুণ সমাজ সেবক সবুজ খান পিরোজপুরের আবির মোহাম্মদ হোসেন জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি... ঝালকাঠিতে ইলিশ শিকারের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতে দুই...

ধর্মের পথ থেকে সরে যাচ্ছি আমরা, তা বড় ধরনের মহামারিই ইঙ্গিত করে : আশীষ মল্লিক

  সমকালনিউজ২৪

এখনকার সময়ে কোন মানুষের মন আর মুখ এক নয়। কারণ আমরা সবাই মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে সত্য বলার ভান করি। অন্যদিকে মিZথ্যাকে পুঁজি করে জীবন অতিবাহিত করছি। আমরা এমন এক মানুষ ! আমাদের মানবিক মূল্যবোধের জায়গাটা দিনদিন ছোট হয়ে যাচ্ছে। ‘কৃষ্’ মানে সত্তা আর ‘ণ্’ এর অর্থ হলো আনন্দ। এই দুই মিলিয়েই তিনি কৃষ্ণ। আজ সেই মহাবতার শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে প্রত্যাশা করি যেন পৃথিবী থেকে দূর হয়ে যায় সকল অসত্য, অন্যায়, অধর্ম।

হে কৃষ্ণ করুনাসিন্ধো দীনবন্ধু জগৎপতে।
গোপেশ গোপীকাকান্ত রাধাকান্ত নমোহস্তুতে।।

ভগবান কৃষ্ণের জন্মদিন হিসেবেই জন্মাষ্টমী পালন করা হয়ে থাকে। প্রাচীন শাস্থ অনুযায়ী আজ থেকে ৫২৪৫ বছর আগে থেকেই জন্মাষ্টমী’র সূচনা হয়, অর্থাৎ ভগবান কৃষ্ণের জন্ম হয়। এই দিনটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মন্দিরে পূজা অর্চনা, তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন ও তারকব্রহ্ম নামযজ্ঞেরও আয়োজন করা হয়। এছাড়া ঘরে ঘরে ভক্তরা উপবাস থেকে জন্মাষ্টমীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা ও পূজা, গীতাযজ্ঞ, কৃষ্ণপূজা, পদাবলি কীর্তন করে থাকেন। দিনটি ঘিরে অন্যান্য বছর যে সভা-সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য জন্মাষ্টমী মিছিল হতো, তা এবার করোনা মহামারির কারণে স্থগিত রয়েছে।

সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল,তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ভগবান কৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। আরো বিশ্বাস রয়েছে, তা হলো দুষ্টের দমন করতে এভাবেই যুগে যুগে মানুষের মাঝে নেমে আসেন এবং সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেন।

শ্রীকৃষ্ণের ১২৫ বছরের মনুষ্যরূপী লীলাকে সময়ানুসারে বৃন্দাবন লীলা (১ থেকে ১১ বছর), মথুরালীলা (১১ থেকে ২৩ বছর), দ্বারকালীলা (২৩ থেকে ১২৫ বছর) এ ভাগে ভাগ করেছেন শাস্ত্রকাররা। লীলাচ্ছলেই শ্রীকৃষ্ণ সৎ ধর্মের, সৎ কর্মের, সদাচারের, বাণী প্রকাশ করেছেন, যা লোকশিক্ষা হিসেবে সর্বস্থানে সর্বকালেই প্রাসঙ্গিক।

ধর্মের পথে অগ্রসর হয়ে বিভিন্ন যাগ যজ্ঞের অনুষ্ঠান করলে , স্বাভাবিকভাবেই আমাদের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হয়। যজ্ঞ অনুষ্ঠান করার মাধ্যমে খাদ্য , শস্য , দুধ আদি পর্যাপ্ত মাত্রায় অর্জন করা যায় , তখন অত্যধিক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও খাদ্যদ্রব্যের কোন অনটন হয় না।

সর্বোচ্চ সুখ কেবল তখনই অনুভব করা যায় , যখন কৃষ্ণভাবনায় ভাবিত হয়ে , ভগবানের চিন্ময় ধামে ভগবানের সাহচর্য লাভ করে ভগবানের সেবা করা যায় । তাই কৃষ্ণভক্তি সাধন করাটাই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ যজ্ঞ এবং সব রকম সমস্যার সমাধান করার সেটি শ্রেষ্ঠ উপায় ।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে এই নামের মধ্যে সব সুখের দেখা মেলে।

পরমকরুণাময় গোলোকপতি সচ্চিদানন্দ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর একান্ত হ্লাদিনী শক্তি শ্রীমতী রাধারাণী এবং সকল বৈষ্ণব ভক্ত-পার্ষদদের শ্রীচরণকমলে নিরন্তর প্রার্থনা করি, সকলের জীবন যেনো রাধা-কৃষ্ণময়তায় পূর্ণ হয়ে, মঙ্গলময়, কল্যাণময়, ভক্তিময়, সুন্দরময় আর আনন্দময় হয়ে ওঠে সর্বদা।

লেখক : আশীষ মল্লিক

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে