২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
সিলেটে সাংবাদিক বুলবুলকে গ্রে’ফতারে নিন্দা জ্ঞাপন... দুর্গাপুরে রেমন্ড আরেং কে সংবর্ধনা আমতলীতে ব’জ্রপাতে দুই ভাই নি’হত ঝালকাঠির সাংবাদিক আজমীরকে তথ্য প্রযুক্তি আইনের... বিএসএফের নি’র্যাতনে, ঠাকুরগাঁওয়ের এক রাখালকে...

ধ্বংসের মুখোমুখি মাদারগঞ্জের দুই’শ বছরের নীলকুঠি

 এম সবুজ মাহমুদ, অতি্থি লেখকঃ সমকালনিউজ২৪
ধ্বংসের মুখোমুখি মাদারঞ্জের দুই'শ বছরের নীলকুঠি

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুইশ’ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক নীলকুঠিটি সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসের জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জের তারতাপাড়া গ্রামের দক্ষিণে কাতলামারি মৌজার ৪ একর জমির উপর নীল বানানোর কারখানা নির্মাণ করে ইংরেজ বনিকরা। কারখানার ২শ গজ দক্ষিণ পাশেই ছিল নদী। সেখানে ইংরেজদের বড় বড় জাহাজ আসত নীল নেয়ার জন্য। জাহাজ বাঁধার জন্য ২টি ধ্বংসপ্রাপ্ত ইটের পিলার এখনো দৃশ্যমান। সেই কারখানার একটি লোহার কড়াই ছিল, যার ওজন ছিল প্রায় ৩৫ মণ। কড়াইয়ে প্রতিবার প্রায় ২০ মণ নীল জাল দেয়া হত। ইংরেজরা প্রথমে এ দেশের সাধারণ কৃষকদের বিভিন্ন লোভ-লালসা দেখিয়ে নীল চাষ করাতে আগ্রহী করে তুলত। কয়েক বছর নীল চাষ করে কৃষকেরা দুবেলা খাবার জোগাড় করতে না পারায় তারা নীল চাষ থেকে পিছিয়ে আসতে শুরু করে। এরপর থেকেই সাধারণ কৃষকদের উপর শুরু হয় ইংরেজদের অমানুষিক নির্যাতন-নিপীড়ন।

জানা গেছে, কোন তদারকি না থাকায় নীলকুঠির লাখ লাখ টাকা মূল্যের প্রায় ৪ একর জমিসহ অন্যান্য সম্পদ বেহাত হয়ে গেছে। এখন পড়ে আছে শুধু ইংরেজদের নির্মিত চুন-সুরকির ভগ্ন দালানকোঠা এবং পোড়ামাটির দেয়াল চিহ্ন। যা আজো মনে করে দেয় নীলকর ও নীল চাষের ইতিহাস।

কিছুদিন আগেও নীল কারখানার বড় বড় লোহার কড়াই, চুল্লির ধ্বংসাবশেষ ছিল। ছিল তাদের দালান কোঠা। এলাকার কিছু লোক জমি দখলের জন্য এই ঐতিহাসিক স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে। নীলকুঠির সম্পত্তি দখল করে নেয়। এখন প্রাচীন কিছু গাছ ও ঝোপঝাড়ের মধ্যে এই কুঠিটির শেষ অংশ টিকে রয়েছে।

ইংরেজ কর্মচারী এশরী ইডেন নামে এক লেখক নীলকরদের নির্মম আত্যাচারের কাহিনী বর্ণনা করেছে যে, খুন-অপহরণ, দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও নারী নির্যাতনসহ এমন কোন অত্যাচার নেই যে, তারা তা না করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় মাদারগঞ্জের এই কুঠিতে ইংরেজ বণিকরা নারী নির্যাতন করতো। গ্রামের সুন্দরী নারীদের ধরে নিয়ে কুঠিতে নির্যাতন করতো। অনেক নারী তাদের ইজ্জত হারিয়ে কুঠিসংলগ্ন গাছে ফাঁসিতে ঝুলে অত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। লোকমুখে কথা রয়েছে এখনো নাকি পূর্ণিমার রাতে কুঠির ভগ্ন দালানের ইটের গাঁথুনি আর গভীর জঙ্গল থেকে নির্যাতিত নারীকণ্ঠের কান্না ভেসে আসে।

এলাকাবাসীর দাবি, ইতিহাসের স্বাক্ষী এই জায়গাটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বর্তমান শিক্ষার্থীরা নীল চাষের বিষয়ে বইপুস্তকে পড়ে কিছুটা ধারণা অর্জন করলেও সরেজমিনে দেখার মত এখনো অনেক কিছু রয়েছে।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
পরিবেশওজীববৈচিত্র্য বিভাগের আলোচিত
ওপরে