১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
ঝালকাঠিতে পেঁয়াজ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য... সাংবাদিক রাহাদ সুমন বানারীপাড়া উপজেলায় ম্যানেজিং... মতলব দক্ষিণের নবাগত ইউএনও ফাহমিদা হক মির্জাপুরে ই’ভটিজিং বা’ল্যবিবাহ মা’দক জ’ঙ্গীবাদ... নবান্ন উপলক্ষে মাছের মেলা

নওগাঁয় ধ’র্ষন মা’মলার আসামীকে আ’টক না করায় সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত ভুক্তভুগিরা \ হু’মকি-ধা’মকীর ভয়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না শিক্ষার্থী

  সমকালনিউজ২৪

নাজমুল হক নাহিদ,নওগাঁ ::

নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকচম্পক ছোট নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী কুমারী প্রিয়া রাণী। বয়স ১৫বছর। দেখতে অনেকটাই হাবাগোবার মতো। কথা খুবই কম বলে প্রিয়া। তার শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সকালে তার বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর সময় জোরপূর্বক ধ’র্ষন করে।

এই ঘটনায় থানায় মা’মলা দায়ের করার ১৪দিন পার হলেও এখনো শিক্ষককে আ’টক না করায় সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত ভুক্তভুগির পরিবার। এছাড়াও প্রভাবশালী দাদন ব্যবসায়ী শিক্ষক ঘটনার পর থেকে প’লাতক থাকলেও তার লোকজনের দেওয়া বিভিন্ন হু’মকি-ধা’মকীতে মেয়েটি বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। তাই বর্তমানে গরীব এই পরিবারটি মেয়েকে নিয়ে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জেলার মান্দা উপজেলার চকচম্পক হিন্দুপাড়া গ্রামের পলাশ চন্দ্রের মেয়ে কুমারী প্রিয়া রাণী। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে আর বাবা বগুড়ায় একটি ওষুধের দোকানে চাকরী করেন। অনেক কষ্টে দিন চলে এই পরিবারের। ছোটবেলা থেকেই প্রিয়া সবার সঙ্গে কথা কম বলে। অনেকটাই সে শারীরিক ভাবে একটু দুর্বল বলে মনে হয়। প্রিয়া বাড়ির পাশে বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। সেই বিদ্যালয়ের গণিত ও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আমিনুল ইসলামের কাছে তার বাসায় প্রাইভেট পড়তো। গত ১৮-১০১৯ইং তারিখে বাড়ির পাশে শিক্ষকের বাড়িতে সকালে প্রাইভেট পড়তে গেলে শিক্ষক কৌশলে পরিত্যক্ত ৩তলায় নিয়ে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধ’র্ষণ করে। বিষয়টি পরদিন প্রিয়া তার পরিবারকে জানালে বিষয়টি সবাই জানতে পারে।

এদিকে ঘটনার পরদিন থেকে শিক্ষক আমিনুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। অনেক ঘটনার পর থানা পুলিশ নারী ও শিশু নি’র্যাতন দমন আইনে মা’মলা গ্রহণ করে গত ২১-১০-১৯ তারিখে (মা’মলা নং ৩৭২৭(৩)/১, তাং ২২-১০-১৯)।

এদিকে মা’মলা করার পর থেকে প্রভাবশালী দাদন ব্যবসায়ী শিক্ষক আমিনুল ইসলামের লোকজনের বিভিন্ন ভ’য়-ভী’তি ও হু’মকি-ধা’মকীতে চরম নি’রাপত্তাহীনতায় রয়েছে প্রিয়া রাণীসহ তার গরীব বাবা-মা। তাদের ভ’য়-ভী’তির কারণে প্রিয়া রাণী বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। তাই বর্তমানে এই পরিবারটি সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিষ্ণুপদ প্রামাণিক, সুবল কুমার সরকারসহ অনেকেই বলেন, শিক্ষক সমাজের মানুষ গড়ার কারিগর। আর সেই শিক্ষক যদি ধ’র্ষক হয় তাহলে সমাজের মানুষ কোথায় যাবে। এই শিক্ষক আগেও এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। সেগুলো টাকা মাধ্যমে সমাধান করেছেন। বর্তমানে শিক্ষকের যে স্ত্রী বর্তমান রয়েছে সেও এই শিক্ষকের ছাত্রী ছিলো অনৈতিক কাজের অপ’রাধে তাকে বিয়ে করতে হয়েছে। শিক্ষক আমিনুল ইসলাম গরীব এই মেয়ের যে সর্বনাশ করেছে আমরা তার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই যা সমাজে এক নজির হয়ে থাকবে।

শিক্ষার্থী কুমারী প্রিয়া রাণী জানায় প্রতিদিনের মতো ওই দিন সকালে আমি শিক্ষকের বাসায় পড়তে যাই। গিয়ে দেখি আমার অন্যান্য সহপাঠিরা আসেনি। শিক্ষক আমাকে বললেন প্রিয়া ৩ তলায় চলো। আজ তোমাদের ৩ তলায় পড়াবো। এরপর শিক্ষক ৩তলায় নিয়ে গিয়ে ঘরের জানালা-দোরজা বন্ধ করে দেয়। আমার নিষেধ তিনি শোনেন না। জোর করে আমাকে ধ’র্ষন করে। এরপর তিনি আমাকে ভ’য় দেখান যে আমি যেন বিষয়টি কাউকে না বলি। তাহলে তিনি আমার পড়ালেখার খরচসহ যাবতীয় খরচ বহন করবেন।

প্রিয়া রাণীর মা শ্রীমতি গীতা রাণী বলেন আমরা গরীব মানুষ। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাই। আমার মেয়ে অনেকটাই হাবাগোবা ধরণের। কথা কম বলে। সেই মেয়ের প্রতি শিক্ষক যে বর্বর নি’র্যাতন করেছে তার উপযুক্ত শাস্তি চাই। কিন্তু মা’মলা করার অনেক দিন পার হলেও পুলিশ এখনো ধ’র্ষককে আ’টক করতে পারেনি। এদিকে শিক্ষকের লোকজন প্রতিনিয়তই আমাদেরকে মা’মলা তুলে নেওয়ার হু’মকি-ধা’মকীসহ নানা রকমের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। ভ’য়-ভী’তির কারনে মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে পারছি না। আমরা বর্তমানে চরম নি’রাপত্তাহীনতায় রয়েছি।

চকচম্পক ছোট নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিদুল ইসলাম বলেন শিক্ষক আমিনুলের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ পাওয়ার পরই বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা তাকে বিদ্যালয় থেকে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করেছে। আর আমিনুল ইসলাম যদি সত্যিই এ ধরনের কাজ করে থাকে তাহলে আমরা তার দৃষ্টান্তরমূলক শাস্তি চাই।

নওগাঁ পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মো: আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন আমরা ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছি। আর দুপক্ষ থেকে দুরকম তথ্য পাওয়ায় মামলাটি সর্তকতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ডাক্তারী পরীক্ষার সনদপত্র এখনো পাওয়া যায় নাই। ডাক্তারী পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেলেই ঘটনার সত্যতা জানা যাবে। আর সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই মূল আসামীকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

 

 

‘বিদ্রঃ সমকালনিউজ২৪.কম একটি স্বাধীন অনলাইন পত্রিকা। সমকালনিউজ২৪.কম এর সাথে দৈনিক সমকাল এর কোন সম্পর্ক নেই।’

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
নওগাঁ বিভাগের সর্বশেষ
নওগাঁ বিভাগের আলোচিত
ওপরে