১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
আপন বড় ভাইয়ের সাথে ছোট বোনের বিয়ে। ভ্রমনের জন্য বরগুনার লঞ্চযাত্রায় আপনাদের স্বাগতম বরগুনায় শেখ রাসেলের ৫৫তম জন্মদিন উদযাপন ৩০ বার রক্ত দিয়ে রেকর্ড গড়লেন সাগর কর্মকর যশোরের বেনাপোলে শেখ রাসেলের জন্মদিন পালিত

নতুন স্বপ্ন নিয়ে বোরো চাষে ব্যস্ত জৈন্তাপুরের কৃষকরা ।

 শোয়েব উদ্দিন জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি সমকালনিউজ২৪

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মাঠে মাঠে এখন চলছে কৃষকের বোরো আবাদের ধুম পড়েছে। শীতের হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে এ এলাকার কৃষকরা এখন কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। জমিতে চাষ, সেচ প্রদান ও জমিতে ধানের চারা লাগাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। বিগত বোরো ও আমন মওসুমে ধানের বাম্পার ফলন ঘরে তোলায় এবার বেশ ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে বোরো আবাদে এখানকার কৃষকরা। তবে বেশ কয়েকটি হাওরে সেচ ও পানি সঙ্কটের কারণে বোরো আবাদ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক কৃষক। এদিকে, ফলন ভালো পেতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পাচ্ছে না কোন পরামর্শ।

 

জানা গেছে, চলতি বছর আবহাওয়া বোরো চাষের অনুক’লে থাকায় ও বীজতলা রোগ-বালাই না থাকায় চাষিরা বোরো চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা ৩০ থেকে ৪০ দিন বয়সী চারা জমিতে রোপণ করছেন। তবে মাঘ মাসের শেষের দিকে পুরোদমে বোরো রোপণ শুরু হবে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন।

 

জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তর দেওয়া তথ্য মতে এ বছর জৈন্তাপুর উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ৭শ ১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯শ ৭০ মেট্রিক টন চাল। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় ৩০ ভাগ জমিতে রোপণ করা হয়েছে বোরো ধান। ফলন ভালো পেতে তাইতো তীব্র শীত উপেক্ষা করে চাষাবাদে ব্যস্ত কৃষকরা।

 

৬ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে বোরো আবাদ। কলের লাঙল ও টেক্টর দিয়ে মাটি চাষ করে তৈরি হচ্ছে বোরো ক্ষেত। দেওয়া হচ্ছে জমিতে সার ও সেচ। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় সেচ পাম্প থেকে পানি নিচ্ছেন চাষিরা। আবার কোথাও সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হচ্ছে ইরি ধানের চারা। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদী তাঁরা। ধান উৎপাদনের খরচ বেড়ে গেলেও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা।

 

জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের কৃষক তাজ উদ্দিন মাসুক বলেন, বোরো রোপণের জন্য জমি তৈরি করা হচ্ছে। তিনি চলতি মৌসুমে ২৭ একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করবেন। এখন পর্যন্তু ২০ একর জমিতে বোরো রোপন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবার ভালো ফলন হবে বলে আশা করছেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি সমপ্রসারন অধিদপ্তর থেকে আমাদের কোন প্রশিক্ষন ও পরামর্শ দেয়া হয় না।আমরা সরকারী ভাবে সার বা বীজ কোন কিছু পাই না। সার ও উন্নত জাতের বীজ পেলে আমি আরও উপকৃত হতে পারতাম।
জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু মাঝপাড়া গ্রামের কৃষক আইন উদ্দিন বলেন, তিনি এ বছর ৩ একর জমিতে বোরো রোপণ করবেন। এ সপ্তাহের মধ্যে জমিতে চারা রোপণ কাজ সম্পন্ন হবে।

 

জৈন্তাপুর উপজেলার দত্তপাড় গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, এ মৌসুমে তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি পাওয়া যাচ্ছেনা। আমি এ বছর ৮ একর জমিতে বোরো রোপণ করবো। এখন পর্যন্তু ৬ একর জমিতে বোরো রোপন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি সমপ্রসারন অধিদপ্তর থেকে আমাদের প্রশিক্ষন ও পরামর্শ দিলে আরও উপকৃত হতে পারতাম। সরকার থেকে উন্নত জাতের বীজ পেলে আরও বেশী লাভবান হতে পারতাম।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, জৈন্তাপুর উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ৭শ ১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯শ ৭০ মেট্রিক টন চাল। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় ৫০ ভাগ জমিতে রোপণ করা হয়েছে বোরো ধান।আমরা কৃষকদের জমি চাষের সঠিক ব্যবহার সহ নানান পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। কৃষকের মাঝে সার, বীজ দেয়ার ক্ষমতা আমার নাই । আমি শুধু কৃষকদের পরামর্শ দিতে পারবো।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
সিলেট বিভাগের আলোচিত
ওপরে