২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৭ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরগুনায় আদালতের নির্দেশে সন্তানের ম’রদেহ ফিরে পেলেন... ভারতে যাচ্ছেন চার জেলার ডিসি-এডিসিরা পতীতলায় ইউএনও সাথে গ্রাম পুলিশদের মতবিনিময় সভা সীমান্তে বিএসএফের গু’লিতে ঠাকুরগাঁওয়ের যুবক নি’হত  আলমপুুর ইউনিয়ন  বিএনপির ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি...

নরসিংদীর শিবপুরে হত্যার পর প্রেমিকার মরদেহ ধর্ষণ

 স্বপন খান,নরসিংদী, সমকালনিউজ২৪

নরসিংদীর শিবপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর সাবিনা আক্তার (২১) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব-১১। ধর্ষণে বাঁধা দেয়ায় সাবিনাকে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করে প্রেমিক সাইফুল। পরে প্রেমিকার মরদেহ ধর্ষণ করে সে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার (১১ জুন) রাতে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামী সাইফুল ইসলাম (২৮) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছে। আসামী সাইফুল শিবপুর উপজেলার দুলালপুর খালপাড় গ্রামের মৃত. হানিফ ফকিরের ছেলে।

আজ বুধবার (১২ জুন) দুপুরে নরসিংদী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে: কর্ণেল কাজী শামসের উদ্দিন জানান, নিখোঁজের দুইদিন পর ৮ জুন শিবপুরের কাজীর চর গ্রামের একটি কলা ক্ষেত থেকে একই উপজেলার মাছিমপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মিলন মিয়ার মেয়ে সাবিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১১ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করাসহ উক্ত ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীকে গ্রেফতারের নিমিত্তে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১ এর একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলেপ উদ্দিন, পিপিএম, এর নেতৃত্বে ও সঙ্গীয় অফিসার এএসপি শাহ মোঃ মশিউর রহমান, পিপিএম এর সহযোগীতায় চাঞ্চল্যকর সাবিনা আক্তার হত্যা ও ধর্ষণের রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকারী গ্রেফতারের জন্য বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বশেষ গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় শিবপুরের কলেজ গেট এলাকা থেকে আসামী মো. সাইফুল ইসলাম গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত সাইফুলের স্বীকারোক্তি মোতাবেক র‌্যাবের আভিযানিক দল ও মামলার তদন্তকারী কমকর্তা উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম ও স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে তার বাড়ীর বাথরুমের ভিতর থেকে ভিকটিম সাবিনার মোবাইল ও সীম উদ্ধার করা হয় এবং বাড়ির পাশের একটি নোংরা নর্দমা থেকে তার ভ্যানিটিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ভ্যানিটিব্যাগ ভিতরে সাবিনার ব্যবহৃত আয়না, চিরুনি, একটি ওড়না ও অন্যান্য প্রসাধণী সামগ্রী পাওয়া যায়। এছাড়াও হত্যায় ব্যবহৃত আসামীর পরিহিত শার্ট ও আসামীর মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত মোঃ সাইফুল ইসলাম(২৮) বিবাহিত, তার প্রথম স্ত্রীর সাথে ডিভোর্স হওয়ার পর সাহিনুর বেগম(২৩)কে ২য় বিবাহ করে। সেই ঘরে সাইফুলের ০৫ বছর ও ১০ মাস বয়সের ২টি সন্তান রয়েছে। প্রায় ০৩ মাস পূর্বে শিবপুর থানাধীন ধানুয়া কারীবাড়ী মাজারে মোঃ সাইফুল ইসলাম এর সাথে ভিকটিম সাবিনা আক্তারের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে সাইফুল তার ২য় স্ত্রীর কথা গোপন করে সাবিনাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

এর প্রেক্ষিতে সাইফুল সাবিনার সাথে বিভিন্ন স্থানে মাঝে মাঝে দেখা করত। এসময় কয়েক বার সে সাবিনাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় কিন্থু সাবিনা তাতে রাজি না হওয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের ফন্দি আটে। তাদের এই প্রেমের সম্পর্কের কথা সাবিনা তার চাচাতো বোনকে জানায়। সাইফুল ও সাবিনা মিলে টান চলনা গ্রামে সাবিনার চাচাতো বোনের বাসায় গিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনা করে। এর বেশকিছু দিন পর পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক সাবিনা ও সাইফুল বিয়ে করার জন্য ঘটনার দিন অর্থ্যাৎ ০৬ জুন ২০১৯ তারিখ আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে শিবপুরে মিলিত হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক সাইফুল ভিকটিম সাবিনাকে নিয়ে সিএনজি করে শিবপুর হতে টান চলনা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করে।

আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রধান সড়ক থেকে সিএনজি হতে নেমে পায়ে হেঁটে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে কলাবাগানের ভিতর দিয়ে সাইফুল সাবিনাকে নিয়ে টান চলনা গ্রামের দিকে যেতে থাকে। একপর্যায় কলাবাগানের ভিতর নির্জন এলাকায় সাইফুল সাবিনার সাথে দৈহিক সম্পর্ক করতে চায়।

তখন সাবিনা সাইফুলকে বাধা দিলে সাইফুল বল প্রয়োগ করলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় ও সাবিনা উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকে এবং বলতে থাকে “আমারে কই লইয়া আইছ, আমারে দিয়া আয়” তখন সাইফুল ধর্ষণের জন্য আগে থেকে গায়ের খোলা শার্ট দিয়ে সাবিনার গলা পেঁচিয়ে ও মুখ চেপে ধরে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। হত্যার পর সাইফুল মৃত সাবিনাকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে নরসিংদীর শিবপুর থানায় হস্তান্তর এবং আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
নরসিংদী বিভাগের সর্বশেষ
নরসিংদী বিভাগের আলোচিত
ওপরে