১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
পঞ্চগড়ে মাতৃত্বকালীন ভাতা উত্তোলনে ভোগান্তি,দেখার কেউ... দাগনভূঞায় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও পোনা... ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম নেটের বিভিন্ন... আমতলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হাজার- হাজার সমর্থকদের... বরগুনায় জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত

নানা সমস্যায় জর্জরিত ধনবাড়ীর বওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়; শিক্ষকের নিজ উদ্যেগে তৈরী হলো শহীদ মিনার

 হাফিজুর রহমান,টাঙ্গাইল, সমকাল নিউজ ২৪

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর বওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে জীর্ণদশায় হয়ে রয়েছে। অবশেষে প্রায় ৪৬ বছর পর শিক্ষকের নিজ উদ্যেগে তৈরী হলো শহীদ মিনার।

ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের বওলা সরকারী প্রাথমিক ধনবাড়ীর বওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে জীর্ণদশায় হয়ে রয়েছে। অবশেষে প্রায় ৪৬ বছর পর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জামিল সরকারের মাহতী উদ্যেগে তৈরী হলো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ শহীদ মিনার। শহীদ মিনার টি নির্মাণ হওয়ার বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী সহ সকল অভিবাকগন আনন্দিত।

জানাযায়, বওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৬ জন শিক্ষক শিক্ষকা নিয়ে চলছে বিদ্যালয়টিতে পাঠদান। দীর্ঘ ৪৬ বছর পর ছাত্র-ছাত্রী দের আর দূরে যেতে হবে না ভাষা শহীদ দিবস, আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস সহ অন্যান্য সকল দিবসে ফুল দিতে দূরের বিভিন্ন যেতে হত । তার অবসান ঘটল বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জামিল সরকারের ব্যাক্তি উদ্যেগে তৈরী শহীদ মিনার টি নির্মান হওয়ায়।

বিদ্যালয়টির পূর্ব পাশে রয়েছে বংশাই নদী পশ্চিম পাড়ে বওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। জীবনের ঝুকি নিয়ে বাঁশের সাকো দিয়ে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা নদী পাড়ি দিয়ে পড়ালেখা করতে আসে এই স্কুলে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা জানান, আমাদের এই বওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে বয়ে চলা বংশাই নদীর উপর একটি ব্রীজ হওয়া জরুরী দরকার। স্কুলের বাউন্ডারী জরুরী প্রয়োজন কারণ খেলাধুলা করতে গিয়ে যে কোন সময় নদীতে পড়ে প্রাণ হারাতে পারে যে কোন শিক্ষার্থী। তার পর স্কুলে একটি শহীদ মিনার ছিলো না স্কুলের শিক্ষক জামিল সরকার তিনি নিজ অর্থায়নে একটি শহীদ মিনার তৈরী করে দিয়েছে।

বওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিহাদ , সবুজ, মারিয়া, শ্রাবন্ত্রী রানী,চায়না এরা সকলেই জানায়, আমরা জীবনের ঝুকি নিয়ে আমরা নদী পারাপার হই বাঁশের সাকো দিয়ে। বর্ষাকালে তো নদীতে পানি থৈ থৈ করে বাঁশের সাকো দিয়ে আসা যায় না। কারণ বাঁশে পানি লেগে পিচ্ছিল হয়ে যায়। তাই পা পিচ্ছলে ছাত্র ছাত্রী নদীতে পড়ে যায়। যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পাশের আমিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়া আক্তার, তমা, আখি, জয়া সূত্রধর, বৃষ্টি সূত্রধর, সুমি, আলেয়া, জুয়েল, আলহাজ, অনিক, সুমন এরা জানায়, আমাদের এই বওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে বয়ে চলা বংশাই নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মান করা অতি জরুরী প্রয়োজন। কারণ আমাদের চলাচলে সমস্যা হয় জীবনের ঝুকি নিয়ে আমাদের এই নদী পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। যে কোন সময় বাঁশের সাকো ভেঙ্গে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। এজন্য আমরা আমাদের এলাকার চেয়ারম্যান সহ মাননীয় কৃষি মন্ত্রী ড.মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রেহেনা খাতুন, সাজেদা খাতুন, ফাতেমা খাতুন জানায়, বন্যার দিনে আমাদের দ্যিালয়ের মাঠে পানি প্রবেশ করে বিদ্যালয়ে পাঠদান করানো সম্ভব হয় না । বিল্ডিং বভন না থাকায় শিক্ষার্থীদের বসে পাঠদান করা কষ্ট হয়। আমরা চাই আমাদের বিদ্যালয়ের শিশুরা যাতে নিরাপদে স্কুলে খেলাধুলা করতে পারে এজন্য বিদ্যালয়ের চারপাশে বাউন্ডারী প্রয়োজন। এবং কী বিল্ডিং ভবন প্রয়োজন যাতে করে ভালভাবে পাঠদান করানো যায় ছেলেমেয়েদের কে। শহীদ মিনার নির্মাণ করার জন্য জামিল স্যারের কে ধন্যবাদ জানাই।

বওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জামিল সরকার জানান, আমি এই স্কুলে যোগদান করার পর এসে দেখি স্কুলে কোন শহীদ মিনার নেই। তাই ভাবলাম স্কুলের কচি কাচা ছেলে মেয়ে স্বাধীনতা সম্পর্কে তাদের অনেক কিছু অজানা থেকে যাবে। যাতে এখান থেকেই ছেলেমেয়েরা দেশাত্ববোধ ও দেশ প্রেম দেশের স্বাধীনতা সম্পর্কে জানুক। তাই আমি নিজ উদ্যেগে শহীদ মিনার টি তৈরী করে দিয়েছি । আমার মনে হয় সরকার প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন করলে আগামী প্রজম্মের ছেলেমেয়েরা দেশ প্রেম দেশের প্রতি মূল্যবোধটাকে ধরে রাখতে পারবে।

বওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জামিল সরকারের মাহতী উদ্যেগে তৈরী হলো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ শহীদ মিনার টি নির্মান করে দেওয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানাই। আর আমাদের বওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত। যেমন বিদ্যালয়টির কোন বহুতল বভন নেই, বিদ্যালয়টির কোন বাউন্ডারী সহ বিভিন্ন উন্নয়ন অবকাঠামোগত দিকে পিছিয়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ের সকল উন্নয়ন অবকাঠামো দরকার এজন্য মাননীয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সহ মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর হস্থক্ষেপ কামনা করছি।

এব্যাপারে ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা জানান, বিদ্যালয়টি নদী এলাকায় থাকায় বর্তমানে বওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে কোন বিল্ডিং ভবন আসে নাই। তবে বিদ্যালয়টির সামনে বংশাই নদী খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নদীটির উপর একটি ব্রীজ জরুরী প্রয়োজন। বওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির জায়গার সমস্যার কারনে ওয়াশবুক সহ বান্ডারী করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক অবকাঠামোর জন্য তালিকায় নাম দিয়েছি বড় ধরনের বরাদ্দ পেলে যাতে বিদ্যালয়টিতে বড় ধনর উন্নয়নমূলক কাজ করা যায়।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
টাঙ্গাইল বিভাগের আলোচিত
ওপরে