২১শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ৮ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
আমি চাইলে নিশ্চয় দোষের হবে না বিমানের টয়লেটে মিলল ১৪ কেজি সোনা পিরোজপুরের নাজিরপুরে শেখ হাসিনা সেতুর উদ্বোধন করলেন... রাজাপুর ভিজিডি কার্ড বিতরণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ স্কুলছাত্রী নিপাকে কৃত্রিম পা লাগাতে নেয়া হবে বিদেশে

নিজের গর্ভে নাতনির জন্ম দিয়ে আলোচনায় এই নারী

 অনলাইন ডেস্ক সমকাল নিউজ ২৪

যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কার ৬১ বছর বয়সী এক নারী তার গর্ভেই নিজের নাতনিকে জন্ম দিয়েছেন। তার নাম সিসিল এলেজ। তিনি তার সমকামী পুত্র ম্যাথিউ এলেজ এবং তার সঙ্গী এলিয়ট ডোহার্টির কন্যা সন্তান উমা লুইসের জন্ম দিয়েছেন।

সিসিল এলেজ বলেন তার ছেলে এবং ডোহার্টি যখন তাকে জানায় যে তারা সংসার শুরু করতে চায়, তখন তিনিই তাদের এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

তিনি বিবিসিকে বলেন, দু’বছর আগে তিনি যখন এই প্রস্তাব দেন তখন তার পরিবারের সদস্যরা এটিকে গুরুত্বের সাথে নেয়নি। শুরুতে তারা সবাই সিসিলের এই পরিকল্পনা হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু পরে ম্যাথিউ এলেজ এবং এলিয়ট ডোহার্টি যখন সন্তানের বিষয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেন, তখন একজন চিকিৎসকের পরামর্শে মত পরিবর্তন হয় তাদের।

সারোগেট মা হওয়ার জন্য সিসিল এলেজের একটি ইন্টারভিউ নেয়া হয় এবং অনেকগুলো পরীক্ষা করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ম্যাথিউ এলেজ শুক্রাণু প্রদান করেন এবং ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয় ডোহার্টির বোন লেয়া’র কাছ থেকে।

এ নিয়ে নরসুন্দরের কাজ করা ডোহার্টি বলেন সাধারণ যুগলদের জন্য আইভিএফ বা তৃতীয় একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়ার চিন্তা করা সাধারণত অনেকগুলো পছন্দের শেষ পছন্দ হলেও তাদের মত সমকামী যুগলের জন্য নিজেদের সন্তান পাওয়ার এটিই ‘একমাত্র আশা’।

স্কুলশিক্ষক ম্যাথিউ এলেজ বলেন, ‘আমার সবসময়ই জানতাম নিজেদের সন্তান চাইলে আমাদের ভিন্নধর্মী কিছু ভাবতে হবে।’

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর মিসেস এলেজের অধিকাংশ অভিজ্ঞতা ইতিবাচকই ছিল বলে জানান তিনি। তবে এলেজের অন্য দুই ভাইবোন শুরুতে তাদের মা’র গর্ভবতী হওয়ার খবর শুনে কিছুটা চমকে গিয়েছিল বলে জানান সিসিল।

‘সবাই যখন পুরো বিষয়টি জানতে পারে তখন থেকে আমাকে সর্বোচ্চ সমর্থন করে এসেছে তারা।’

তবে এই ঘটনার ফলে নেব্রাস্কায় এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সাথে হওয়া বৈষম্যমূলক আচরণের বিষয়টি অনেকটাই প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট সমকামী বিয়েকে বৈধতা দিলেও ঐ রাজ্যে যৌনতাকে কেন্দ্র করে বৈষম্য রোধ করার কোনো আইন এখনো নেই।

প্রাচীন এক আইন অনুযায়ী, ২০১৭ পর্যন্ত নেব্রাস্কা রাজ্যে সমকামী পুরুষ ও নারী যুগলের জন্য সন্তান দত্তক নেয়া নিষিদ্ধ ছিল।

এ সম্পর্কে সিসিল বলেন, নিজের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খরচের জন্য তার বীমা প্রতিষ্ঠানের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে হয় তাকে। তিনি যদি তার নিজের সন্তান জন্ম দিতেন, তাহলে বীমা প্রতিষ্ঠান তার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খরচ বহন করতো, কিন্তু এক্ষেত্রে শেষপর্যন্ত বিমা প্রতিষ্ঠান খরচ বহন করেনি।

আরেকটি আইন অনুযায়ী, সন্তানের জন্মদাত্রীকে মা হিসেবে চিহ্নিত করায় সদ্যজাত সন্তানের জন্ম সনদে মায়ের নাম দেয়া হয়েছে সিসিল এলেজের নাম। আর পিতার নাম হিসেবে জায়গা পেয়েছে তারই ছেলে ম্যাথিউ এলেজের নাম। আর এলেজের সমকামী সঙ্গী ডোহার্টির নাম বাদ দেয়া হয়েছে ওই শিশুর জন্ম সনদ থেকে।

গত চার বছর আগে স্কুট ক্যাথলিক হাই স্কুলের শিক্ষক ম্যাথিউ এলেজ যখন স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান যে তিনি সমকামী সঙ্গী ডোহার্টিকে বিয়ে করতে চান, তখন তাকে চাকরীচ্যুত করা হয়। এ নিয়ে সে সময় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে