১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং ২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
প্রধান সাক্ষী ও রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে গ্রেপ্তার... অবশেষে মিন্নি গ্রেপ্তার! (ভিডিও নিউজ) রংপুরের পল্লী নিবাসেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এরশাদ রিফাত শরিফ হত্যা মামলায় প্রধান সাক্ষী পুলিশ হেফাজতে ফরিদগঞ্জের কাঁশারা ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদরাসাটির ভবন না...

নিম আপনার যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা দূর করতে পারবে

 লাইফস্টাইল: সমকাল নিউজ ২৪
নিম আপনার যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা দূর করতে পারবে

নিমগাছের প্রায় প্রতিটি অংশই কাজে লাগে। রূপচর্চায়ও রয়েছে নিমগাছের কিছু অংশের ব্যবহার। নিমপাতার স্বাদ তেতো হলেও গুণে কিন্তু মিষ্টি। ত্বকের নানা সমস্যার সমাধানে এটি ব্যবহার করা হয়। বিশেষত জীবাণুর কারণে হওয়া বিভিন্ন সমস্যায় দারুণ কার্যকর এই পাতা। এমনটাই জানালেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম বখতিয়ার কামাল বলেন, একজিমা, ফোড়ার মতো গোটা (বয়েল), ত্বকের আলসার, রিং ওয়ার্ম নামক ছত্রাকের সংক্রমণসহ নানা সমস্যায় নিমপাতা কার্যকর। এমনকি ত্বক পুড়ে যাওয়ার পরও যদি পোড়া অংশে জীবাণুর সংক্রমণ হয়, নিমপাতা উপকারী ভূমিকা রাখবে। আসুন জেনে নেই নিম পাতার কয়েকটি বিশেষ গুণ সম্পর্কে। একদম শেষে বোনাস হিসাবে রয়েছে নিম চায়ের রেসেপি।

নিমে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ক্ষমতা প্রচুর। শরীরের টক্সিন দূর করে রক্তকে শুদ্ধ রাখতে বিশেষ উপকারী নিম।ফলে নিম পাতা ভাজা বা তেতো ডাল রান্নায় নিম পাতা দিয়ে সহজেই খাদ্যতালিকায় যোগ করুন নিম। প্রতিদিন সকালে নিমের রস খেতে পারলেও ভাল ফল পাবেন।

নিম অ্যান্টিবায়োটিক। অনেকেই টুথপেস্ট ও মাউথওয়াশের উপাদানে নিম খোঁজেন। নামী ব্র্যান্ডের টুথপেস্টেও নিমকে প্রধান উপাদান হিসাবে বাজারীকরণ করে বেশির ভাগ সংস্থা। দাঁত ও মাড়ির ব্যথা কমিয়ে দিতে পারে নিমের ডালে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান।

আরো পড়ুন:  বিসিএস পরিবারের সদস্য শামিম আরা স্মতির ‘দাবদাহ’ ও ‘ইচ্ছেঘুড়ি’ দুটি বই প্রকাশিত

কাটা ছেড়া বা পোড়া স্থানে নিম পাতার রস ভেষজ ওষুধের মতো কাজ করে। নিম পাতার সাথে সামান্য কাঁচা হলুদ পিষে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ আকারে ৭-১০ দিন ব্যবহার করলে খোস-পাঁচড়া ও পুরনো ক্ষতের উপকার হয়। নিম পাতা ঘিয়ে ভেজে সেই ঘি ক্ষতে লাগালে ক্ষত অতি দ্রুত ভাল হয়।

ত্বকের নানা সমস্যা সমাধানে নিমপাতা বেটে নিয়ে লাগানো যায়। চাইলে আবার নিমপাতা রোদে শুকিয়ে নিতে পারেন। রোদে রাখতে রাখতে একেবারে মচমচে হয়ে গেলে ব্লেন্ডারে গুঁড়া করে বয়ামে রেখে দিন। প্রয়োজনমতো সেখান থেকে খানিকটা নিমপাতা গুঁড়া নিয়ে পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। সমপরিমাণ নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে ব্রণের স্থানে লাগাতে পারেন। ব্রণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়বে।

যেভাবেই ব্যবহার করা হোক না কেন, আক্রান্ত স্থান ছাড়া অন্য কোনো স্থানে নিমপাতা ব্যবহার করা উচিত নয়। যেমন: ব্রণের জন্য ব্যবহার করলে শুধু ব্রণের স্থানেই লাগাতে হবে, পুরো মুখে নয়। ত্বকে নিমপাতা লাগানোর ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আক্রান্ত স্থান ভালো হয়ে যাওয়া পর্যন্ত নিয়মিত নিমপাতা লাগানো যায়।

নিমপাতা মেশানো পানিতে গোসল করলে ত্বকের রোগ-জীবাণু থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। বালতির পানিতে কিছু নিমপাতা মিশিয়ে নিয়ে গোসলের শেষে পুরো পানিটুকু মাথায় ও শরীরে ঢেলে নিন। ত্বকে সমস্যা না থাকলেও সপ্তাহে একবার এভাবে নিমপাতা মেশানো পানি ব্যবহার করতে পারেন গোসলের সময়।

নিমপাতা বাটা লাগাতে পারেন আক্রান্ত স্থানে। চাইলে টকদইয়ের সঙ্গে মিশিয়েও নিমপাতা ব্যবহার করা যায়। এ ক্ষেত্রে ২ টেবিল চামচ টকদইয়ের সঙ্গে এক টেবিল চামচ নিমপাতা বাটা দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানের আশপাশের অন্য কোনো স্থানে নিমপাতা লাগানো উচিত নয়। এ ছাড়া নিমপাতার রস আর নারকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে মাথার ত্বকের নির্দিষ্ট স্থানে মালিশ করতে পারেন।

দীর্ঘদিন নিয়মিত নিমপাতার ব্যবহার ত্বকের জন্য ভালো নয় বলেই জানালেন রাহিমা সুলতানা। এটিকে বরং শরীর ও মাথার ত্বকের নানা সমস্যার সমাধান হিসেবেই গ্রহণ করা উচিত। কোনো সমস্যা না থাকলে নিমপাতা বাটা ব্যবহার না করাই ভালো।

নিজেকে সতেজ ও সুস্থ রাখতে নিম চা এর তুলনা হয় না। শুকনো নিম পাতা গুঁড়ো অথবা তাজা নিমের ৬/৭ টি পাতা গরম পানিতে ছেড়ে ২/৩ মিনিট জ্বাল দিয়ে মধু মিশিয়েই বানিয়ে ফেলা যায় সুমিষ্ট নিম চা, তবে নতুনদের জন্য সময়সীমা ১ মিনিট। যত বেশি জ্বাল দিবেন তত তিতা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে